মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কি?

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কি?

- February 07, 2020
ব্রিটিশ শ্রমিক মন্ত্রীসভা ক্ষমতা হস্তান্তরের দীর্ঘ আলােচনায় বিরক্ত হয়ে ঘােষণা করেন যে, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ একমত হােক বা না হােক, ব্রিটিশ ১৯৪৮ খ্রীঃ জুন মাসের মধ্যে ভারত ছেড়ে চলে যাবে। লর্ড ওয়াভেল এই ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজ ত্বরান্বিত করতে ব্যর্থ হওয়ায়, তার স্থলে ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ অভিজাতদের কুলতিলক লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন অফ বার্মাকে ভাইসরয়ের দায়িত্ব নিয়ে ভারতে আসেন। তিনি ব্রিটিশ ভারতের ৩৪ তম তথা শেষ গভর্নর জেনারেল। ব্রিটিশ মন্ত্রীসভা ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যে লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে যে কোন পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন।
মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কি
মাউন্টব্যাটেন তার সেনাপতি সুলভ বাস্তবতাবােধের দ্বারা বুঝেন যে, ভারত ব্যবচ্ছেদ ছাড়া দ্রুত মীমাংসার অন্য কোন পথ নেই। মুসলিম লীগ নেতাদের তার প্রস্তাব মত খণ্ডিত পাকিস্তান গ্রহণে রাজী করেন। বাকি কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে ভারত ব্যবচ্ছেদ প্রস্তাবের সর্বাপেক্ষা হিমালয় প্রমাণ বাধা ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। মাউন্টব্যাটেন তাকে দাঙ্গা দমনের দায়িত্ব দিয়ে দিল্লী থেকে দূরে বাংলায় পাঠিয়ে দেন। বাকি থাকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা নেহেরু ও প্যাটেল। লীগের প্রত্যক্ষ সংগ্রামের জন্যে তারা ছিলেন হতাশাগ্রস্ত। মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব মানলে ভারতের একটি বৃহৎ অঞ্চল পাকিস্তান নামে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করবে অথবা মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব না মানলে ভারতে বন্ধানীকরণ হবে। অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ভারত বিভক্ত হবে। এই দুই বিকল্পের মধ্যে তারা প্রথমটি বেছে নেন।

মাউন্টব্যাটেনের প্রস্তাবে লীগ ও কংগ্রেস নেতারা রাজী হওয়ার পর গান্ধীর পক্ষে দিল্লীতে আর নতুন করে আলােচনা শুরু করা সম্ভব ছিল না। তার আধ্যাত্মিক সন্তানরা পাকিস্তান প্রস্তাব গ্রহণ করায় তিনি ব্যথিত হন ও নীরব অভিমানে নিজেকে বিদ্ধ করেন। কারণ তারা সম্মতিদানের আগে গান্ধীর সঙ্গে পরামর্শ করার দরকার মনে করেননি। গান্ধীজি পুনরায় অনশন করতে পারতেন, কিন্তু তিনি নিরব থেকেছেন। ফলে ১৯৪৭ সালের ৩ রা জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বা মাউন্টব্যাটেন রোয়েদাদ অনুযায়ী ভারত ব্যবচ্ছেদের ব্যবস্থা হয়। মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মূল বক্তব্যগুলি ছিল —

(ক) ভারতের মুসলিম প্রধান অঞ্চলগুলিকে নিয়ে পৃথক রাষ্ট গঠন করা। সেক্ষেত্রে পাঞ্জাব এবং বাংলাদেশকে খণ্ডিত করা হবে।
(খ) উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের লােকেরা এই নবগঠিত রাষ্ট্রে যােগদান করবে কি না তা গণভােটের মাধ্যমে স্থির হবে।
(গ) অসমের অন্তর্গত সিলেট জেলা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না তাও গণভােটের মাধ্যমে স্থির করা হবে।
(ঘ) বাংলা এবং পঞ্জাবের কোন কোন অঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে তা নির্ধারণের জন্য সিরিল র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে গঠিত সীমান্ত কমিশন গঠন করা।
(ঙ) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য অবিলম্বে আইন প্রণয়ন করা।
(চ) ভারতের মুসলমান প্রধান অঞ্চলের সদস্যরা ইচ্ছা করলে নিজেদের জন্য পৃথক সংবিধান রচনা করতে পারবেন।

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা অনুসারে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারতের স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ সালে ১৮ জুলাই পাস করে।