Advertise

ট্রুম্যান ডকট্রিন কি বা ট্রুম্যান নীতি কি?

সােভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে ১৯৪৭ সাল থেকে পশ্চিমী শক্তিগুলির সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি ঘটেছিল। পারস্পরিক অবিশ্বাস তীব্রতম ছিল। সুতরাং মার্কিন Containment নীতিকে সােভিয়েত সরকার পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদীদের বেড়াজাল নীতি বলে ঘােষণা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান যখন কেন্নানের নীতি নিয়ে পর্যালােচনায় করছিলেন। সেই সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দুটি গােপন নােট মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিব ডিন এ্যাকিসনের হাতে আসে। এই নােটে ব্রিটেন জানায় যে-
ট্রুম্যান ডকট্রিন বা ট্রুম্যান নীতি
(১) গ্রীসে ব্রিটেনের দখলদারী সেনা ব্রিটেন আর বেশী দিন রাখতে সক্ষম নয়। গ্রীস, জার্মানী, ট্রয়েষ্ট ও অষ্ট্রিয়াতে দখলদারী সেনা রাখার ব্যয়ভার বহন করতে ব্রিটেন অক্ষম। ব্রিটেন আপাততঃ গ্রিস থেকে দখলদারী সেনা সরাবে। এদিকে গ্রীক কমিউনিষ্টরা, যুগােশ্লাভ, হাঙ্গেরীয় ও অষ্ট্রিয় কমিউনিষ্ট এবং তাদের পশ্চাতে সােভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় গ্রীসের বৈধ রাজতন্ত্রী সরকারকে উৎখাতের জন্যে ভয়ানক গহযুদ্ধ চালাচ্ছে। ব্রিটিশ সেনা স্থিতাবস্থা রক্ষা করছে। এই সেনাদল অপসারিত হলেই গ্রিস কমিউনিষ্টদের হাতে চলে যাবে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পশ্চিমী আধিপত্যের শেষ চিহ্ন লােপ পাবে।

(২) তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার মধ্যে মন্ত্রো চুক্তি (Montreaux Convention) ভেঙে রাশিয়া নতুন চুক্তি গঠনের জন্যে তুরস্ককে চাপ দিচ্ছে। এই নতুন চুক্তিতে রাশিয়া দার্দানালিস ও বফোরাস প্রণালীতে অবাধ রুশ নৌ চলাচলের অধিকার চায় এবং তুরস্কে বিশেষ বাণিজ্যিক অধিকার চায়। ব্রিটেন সতর্ক করে যে, রাশিয়া তুরস্কে ঢুকতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের তৈলখনি অঞ্চলগুলিতে আধিপত্য পেয়ে যাবে।

(৩) ইরানে যুদ্ধকালীন দখলদারী শেষ হলেও রুশ সেনা উত্তর ইরান ছাড়ছে না। রুশ প্রভাবিত তুদে (Tudeh) দল উত্তর ইরানের তৈল সমৃদ্ধ আজেরবাইজান প্রদেশ রাশিয়াকে হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে।

এই নােট পাওয়ার পর ট্রুম্যান আর কালবিলম্ব না করে Containment নীতির প্রথম ধাপ হিসেবে ১৯৪৭ খ্রীঃ ১২ই মার্চ ট্রুম্যান ডকট্রিন ঘােষণা করেন। মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশনে ট্রুম্যান বলেন যে, "মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য হল এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ গঠন করা যার ফলে সকল জাতি স্বাধীনভাবে, বলপ্রয়ােগ ছাড়াই বসবাস করতে পারে।...আমরা আমাদের এই আদর্শকে কখনও কার্যকরী করতে পারব না, যদি আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন জনগণকে, তাদের জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতার ওপর সর্বাত্মক রাষ্ট্রের আক্রমণ প্রতিরােধে সাহায্য করতে বিরত থাকি।... যেখানে বৈধ ভাবে গঠিত সরকারগুলিকে সশস্ত্র সংখ্যালঘুরা আগ্রাসন আরা উচ্ছেদের চেষ্টা করবে, সেখানে মার্কিন দেশ বৈধ রাষ্ট্রকে ক্ষমতায় রাখতে সাহায্য করবে।.... আমেরিকা মনে করে যে, প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে সর্বাত্মক রাষ্ট্রের আগ্রাসন বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করবে এবং পরিণামে আমেরিকার নিরাপত্তা বিনষ্ট হবে।”

ট্রুম্যানের ঘােষণা অনুসারে আপাততঃ গ্রীস ও তুরস্ক সরকারকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যর সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দান করা হলে, এই দুই দেশে কমিউনিষ্ট হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়। ট্রুম্যান নীতি ক্রমে বিশ্বের সর্বত্র মার্কিন দেশের মিত্র রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে একটি বলয় রচনা করে। এই বলয়ের বাইরে সােভিয়েত প্রভাবকে সীমিত রাখা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া বা ভিয়েতনাম বা বার্লিন কোন স্থানে এই বলয় কমিউনিষ্ট শক্তি ভাঙতে চেষ্টা করলে স্থানীয় প্রক্সি যুদ্ধের দ্বারা বা সীমিত যুদ্ধের দ্বারা আক্রমণকারীকে বলয়ের বাইরে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়।