জৈবিক আবহবিকার - Organic Weathering

- December 01, 2019
জৈবিক কথাটি এসেছে জীবদেহ থেকে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর সাহায্য শিলাস্তর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে চূর্ণবিচুর্ণ ও বিয়োজিত হলে তাকে জৈবিক বা জৈব আবহবিকার (Organic Weathering) বলে। উৎস অনুসারে জৈবিক আবহবিকারের দুটি ভাগ - (১) উদ্ভিদের মাধ্যমে আবহবিকার (২) প্রাণীর মাধ্যমে আবহবিকার।
Organic Weathering Image
উদ্ভিদের মাধ্যমে আবহবিকারঃ (১) উদ্ভিদের শিকড় শিলার মধ্যে প্রবেশ করে শিলাকে যান্ত্রিক ভাবে ফাটিয়ে দেয়। (২) উদ্ভিদের শিকড়, ডাল, পাতা প্রভৃতি পচে গিয়ে সৃষ্ট জৈব অ্যাসিড (হিউমিক, ল্যাকটিক ও সাইট্রিক) শিলা খনিজের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।

প্রাণীর মাধ্যমে আবহবিকারঃ (১) প্রেইরি কুকুর, খেকশিয়াল, ইঁদুর, খরগোশ, পিঁপড়ে, কেঁচো, উই প্রভৃতি শিলায় আঁচড় কেটে গর্ত করে শিলার যান্ত্রিক আবহবিকার ঘটায়। (২) মৃত প্রাণীর দেহ থেকে নিঃসৃত অ্যাসিড এবং জীবাণু, কীট ও ব্যাকটিরিয়ার দেহ থেকে নিঃসৃত রস শিলার রাসায়নিক আবহবিকার ঘটায়।

আবহবিকারের সঙ্গে জলবায়ুর সম্পর্ক: আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদানগুলির সাহায্যে যেহেতু আবহবিকার ঘটে তাই বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের আবহবিকার প্রাধান্য লাভ করে।
(১) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সারা বছর বাতাসে উন্মতা ও আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে এবং প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টিপাত ঘটে। তাই রাসায়নিক আবহবিকার সর্বাধিক কার্যকর।
(২) মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে আর্দ্রহীন শুষ্ক অবস্থায় যান্ত্রিক আবহবিকার এবং বর্ষাকালে রাসায়নিক আবহবিকার ক্রিয়াশীল। তবে যান্ত্রিকের চেয়ে রাসায়নিক আবহবিকারই বেশি কার্যকর।
(৩) মরু জলবায়ু অঞ্চলে আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের অভাবে রাসায়নিক আবহবিকার ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু দিন রাত্রির ব্যাপক উন্নতার তারতম্য হেতু যান্ত্রিক আবহবিকার সর্বাধিক ক্রিয়াশীল।
(৪) উচ্চ পার্বত্য ও শীতল জলবায়ু অঞ্চলে দিন রাত্রির উষ্ণতার তারতম্য হেতু (রাত্রে উষ্ণতা হিমাঙ্কের নীচে এবং দিনের বেলা হিমাঙ্কের ওপরে) যান্ত্রিক আবহবিকার অধিক প্রাধান্য লাভ করে।
Advertisement