রাসায়নিক আবহবিকার - Chemical Weathering

- December 01, 2019
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাস বিশেষ করে অক্সিজেন (O2), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), জ্বলীয় বাষ্প ও বিভিন্ন অম্লের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তর রাসায়নিক ভাবে বিয়োজিত হলে তাকে রাসায়নিক আবহবিকার (Chemical Weathering) বলে। রাসায়নিক আবহবিকারের ফলে শিলা খনিজের মৌল পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ প্রধান খনিজ পরিবর্তিত হয়ে গৌণ খনিজে পরিণত হয়। নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল ও মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকারের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। রাসায়নিক আবহবিকারের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি হল - (১) কার্বনেশন বা অঙ্গার যােজন, (২) অক্সিডেশন বা জারণ, (৩) হাইড্রেশন বা জলযােজন, (৪) হাইড্রোলিসিস বা আর্দ্র বিশ্লেষণ এবং (৫) সলিউশন বা দ্রবণ।
Chemical Weathering image
কার্বনেশন (Carbonation) বা অঙ্গার যােজনঃ বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) সঙ্গে জলের রাসায়নিক সংযােগে সৃষ্ট কার্বনিক অ্যাসিড (H2CO3) শিলা খনিজের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে শিলার পরিবর্তন ঘটালে তাকে কার্বনেশন বলে। বৃষ্টির জল বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে মিশে সৃষ্টি হয় মৃদু কার্বনিক অ্যাসিড (H2O + CO2 = H2CO3)। এই কার্বনিক অ্যাসিড চুনাপাথর বা ক্যালশিয়াম কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে ক্যালশিয়াম বাই কার্বনেট তৈরি করে যা সহজেই জলে দ্রবীভূত হয়। [CaCO3 + H2CO3 = Ca(HC03)2] চুনাপাথর গঠিত কাস্ট (Karst) অঞ্চলে ভূমিরুপের বিবর্তন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে। ফেলস্পার, হর্নব্লেন্ড প্রভৃতি খনিজের ওপরও এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।

অক্সিডেশন (Oxidation) বা জারণঃ জল বা জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে শিলা খনিজের সাথে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন যুক্ত হলে তাকে অক্সিডেশন বলে। ভূপৃষ্ঠে যে সকল শিলার মধ্যে লােহা আছে সেখানেই এই প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল। তাছাড়া অ্যাম্ফিবােল, পাইরক্সিন ও বায়ােটাইট খনিজের ওপরেও অক্সিডেশন কার্যকর হয়। লােহা যখন ফেরাস অক্সাইড রূপে থাকে তখন তা ভীষণ কঠিন, কিন্তু অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় যখন ফেরিক অক্সাইডে পরিণত হয় (4Fe0 + 02 → 2Fe2O3) তা সহজে ভেঙে যায় এবং শিলায় মরচে পড়ে। ম্যাগনেটাইট এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিমােনাইট-এ এবং ফেরাস সালফাইড, ফেরাস সালফেটে পরিণত হয়। FeS + 202 → FeSO4, 4FeO + 3H2O + 02 → 2Fe2O3, 3H2O

হাইড্রেশন (Hydration) বা জল যােজনঃ শিলা খনিজের সাথে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জল সুপ্ত হয়ে শিলার রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটলে তাকে হাইড্রেশন বলে। এই প্রক্রিয়ায় জলের অণুগুলি শিলানধ্যস্থিত খনিজের অণুগুলির মধ্যে প্রবেশ করে খনিজের গ্রন্থিবন্ধনগুলিকে আলগা করে তােলে। খনিজগুলির মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন হ্রাস পাওয়ায় গৌণ খনিজগুলি নমনীয় হয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হেমাটাইট লিমােনাইটে, অ্যানহাইড্রাইড জিপসামে এবং অলিভিন সার্পেন্টাইনে পরিণত হয়। 2Fe2O3 + 3H2O → 2Fe2O3, 3H2O, CaSO4 + 2H2O → CaSO4, 2H2O

হাইড্রোলিসিস (Hydrolysis) বা আর্দ্র বিশ্লেষণঃ এটি রাসায়নিক আবহবিকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। জল হাইড্রোজেন (H+) এবং হাইড্রক্সিল (OH-) আয়নে ভেঙে গিয়ে খনিজের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে রাসায়নিক আবহবিকার ঘটায়। ফেলসপার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অ্যালুমিনাে সিলিসিক অ্যাসিড ও পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইডে পরিণত হয়। KAISi3O8 + HOH → HAISi3O8 + KOH

সলিউশন (Solution) বা দ্রবণ: বেশ কিছু খনিজ সাধারণ জলে দ্রবীভূত হয়। একেই সলিউশন বা দ্রবণ বলে। সৈন্ধব লবণ, জিপসাম প্রভৃতি খনিজ জলে দ্রবীভূত হয়। কার্বনেশন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ক্যালশিয়াম বাই কার্বনেটও সাধারণ জলে দ্রবীভূত হয়।
Advertisement