ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা

- November 24, 2019
গান্ধীজীকে ৯ই আগস্ট, ১৯৪২ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারত ছাড়াে আন্দোলন ছিল প্রধানতঃ নেতৃত্ববিহীন। কংগ্রেসের সমস্ত উচ্চস্তরের নেতা তখন কারাগারে বন্দী। চারিদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হরতাল শুরু হয়ে যায়। গান্ধীজীর 'ডু অর ডাই' (Do or Die) শ্লোগান মানুষকে উদ্দীপিত করে।
Women's role in quite India movement
কৃষক, শ্রমিক, আইনজীবি, ছাত্র এবং নরনারী ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নারীরা আগের পন্থগুলি যথা, মিছিল বের করা, বক্তৃতা দেওয়া কংগ্রেসের পত্রিকা বিলি করার মধ্যেই নিজেদের সীমিত রাখল না। তারা মাটির তলায় বেতার স্টেশন পরিচালনা করে, বোমা তৈরী করে, পুলিশ থানা লুট করে বা সরকারী অফিস উড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করে।

আসামে কানাকলতা বড়ুয়া নামে এক তরুণী পাঁচশাে জনের এক মিছিলে নেতৃত্ব দেন এবং পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। বােম্বেতে উষা মেহেতা মাটির নীচে বেতার ব্যবস্থা চালনা করেন। আগস্ট থেকে ১৩ই নভেম্বর প্রতিদিন সন্ধে সাড়ে সাতটার সময় কংগ্রেসের খবর প্রচারিত হত যতদিন উষা মেহেতা এবং তার সঙ্গিনীরা পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। তাকে চার বছরের জন্য সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডিত করা হয় এবং ইয়েরওয়াড়া জেলে ২৫০ জন রাজনৈতিক মহিলা বন্দিনীদের সাথে রাখা হয়েছিল। নারী বাহিনীর উপর পুলিশ কেবল মাত্র লাঠি চালিয়ে ক্ষান্ত হয় না, অনেক জায়গায় তাদের অকথ্য অপমান, আঘাত এবং ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল।

বাংলার মেদিনীপুর জেলাতে ১৯৪২-এর আগস্ট আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাৰে অংশগ্রহণ করে। কাথি, তমলুক, মহিষাদল, নন্দীগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা থানা ও সরকারী ভবন দখল, রেললাইন ওপড়ানাে, ডাক টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা বানচাল করে দেওয়ার মত জঙ্গী কাজে অংশগ্রহণ করেছিল। মেদিনীপুর ছাড়া যশােহর, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এই আগস্ট বিপ্লবের জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল।

গান্ধী বুড়ি নামে পরিচিত মাতঙ্গিনী হাজরা পুলিশের ধমকানি অগ্রাহ্য করে ত্ৰিরঙ্গা পতাকা নিয়ে এগিয়ে যান এবং পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। বােম্বাই শহরে ও আগষ্ট বিদ্রোহে পুলিশের লাঠিতে গুরুতর জখম হন সর্বভারতীয় ছাত্রনেত্রী নাগিসি বাটলিওয়ালা।

গান্ধীজী মনে করতেন যে, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে পুরুষের ভূমিকা যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে নারীর অবদান। তার সেই আশা ব্যর্থ হয়নি। তারা নিজেদের সর্বস্ব দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিল। তাদের সম্পদ, দক্ষতা, শ্রম, আত্ববলিদান দিয়ে আন্দোলনকে সফল করতে চেয়েছিল। গান্ধীজি একদা বলেছিলেন যে শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলনে নারী হয়ত পুরুষ কর্মীদের থেকে এগিয়ে যাবে। তারা বিভিন্ন সত্যাগ্রহ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ সেই কথাটিকে সত্য বলে প্রমাণিত করেছে।
Advertisement