ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের ভূমিকা

- November 14, 2019
আভ্যন্তরীণ অবস্থা যখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়েছিল তখন অপরদিক দিয়ে বিপ্লবের মানসিক প্রস্তুতি চলছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীতে যে যুক্তিবাদ (Rationalism) ইওরােপীয় মানসিক জগৎকে আলোড়িত করেছিল তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ফরাসী বিপ্লবের মানসিক প্রস্তুতি ঘটাতে সাহায্য করেছিল। যুক্তিবাদের প্রয়ােগের ফলে রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি, ধর্ম সবকিছুই সমালােচিত হতে থাকে। ফরাসী রাজগণের তথা তদানীন্তন ইওরােপীয় রাজগণের ভগবান-প্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাস, অভিজাত ও যাজক শ্রেণী কর্তৃক বিশেষ অধিকার ভোগ প্রভৃতি কোনকিছুই সমালােচকের বাইরে ছিলনা। সমালােচনার ব্যাপারে ফরাসী দার্শনিকগণের অবদান উল্লেখযােগ্য। ফরাসী দার্শনিক মন্টেস্কু, ভলতেয়ার, ডেনিস দিদেরাে, কুয়েসনে, রুশো প্রভৃতি ফ্রান্সের তদানীন্তন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মনৈতিক, সামাজিক-সর্বপ্রকার ত্রুটি তাদের রচনায় বিশ্লেষণ করে বুর্জোয়া শ্রেণীর মনে বিপ্লবের প্রেরণা জোগায়।
French writer Voltaire
মন্টেস্কু (Montesquieu): ফরাসী দার্শনিকদের মধ্য মন্টেস্কুর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি ব্রিটেনের সংবিধানের বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। কারণ সেখানে রাজা ছিলেন সংবিধানের অধীন এবং পার্লামেন্ট ইংলন্ডে আইন রচনা করত। মন্টেস্কু তার যুক্তিবাদী চিন্তাকে ফ্রান্সের প্রচলিত সমাজ ও শাসনব্যবস্থার বিশ্লেষণের কাজে লাগান। তার মতে ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র ও অভিজাতীয় সমাজ ছিল যুক্তি বহির্ভূত ব্যবস্থা। তার দুই বিখ্যাত গ্রন্থ পারস্যের পত্রাবলী (The Persian Letters) ফ্রান্সের সামন্ত সমাজ ও স্বৈরাচারী শাসনের যুক্তিবাদী সমালােচনা। গ্রন্থটি বেনামীতে লেখা হয়। মন্টেস্কুর চিন্তাধারার শ্রেষ্ঠ ফসল ছিল স্পিরিট অব লজ (The Spirit of Laws) বা আইনের মর্ম নামে গ্রন্থটি প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যায় ও অযৌক্তিক দিকগুলি তিনি নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেন। এক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা হওয়া উচিত তিনি তা প্রকাশ করেন। তার এই মতবাদকে ক্ষমত বিভাজন তত্ত্ব (Doctrine of Seperation of Powers) বলা হয়। তিনি স্বর্গীয় অধিকার প্রাপ্ত রাজতন্ত্রের তত্ত্বকে নস্যাৎ করেন। তিনি বলেন যে-“যদি একই ব্যক্তির হাতে সরকারের আইন, বিচার ও কার্যনির্বাহক বিভাগ ন্যস্ত থাকে তবে রাষ্ট্রের ব্যক্তি স্বাধীনতা লােপ পাবে।" তিনি রাষ্ট্রের প্রশাসন, আইন বিভাগকে পৃথক করার পরামর্শ দেন। The Spirit of Laws গ্রন্থ এত জনপ্রিয়তা লাভ করে যে ১৮ মাসে এর ২২টি সংস্করণ বিক্রি হয়। মন্টেস্কু নিজে বুর্জোয়া শ্রেণীর লােক ছিলেন। তার চিন্তাধারা ছিল বুর্জোয়াপন্থী। তিনি ধন বণ্টন বা সর্বসাধারণের ভােটাধিকারের কথা বলেননি। তথাপি স্বৈরতন্ত্রের তিনি যে যুক্তিনিষ্ঠ সমালােচনা করেন এবং তার বিকল্প হিসেবে ক্ষমতা বিভাজনের প্রস্তাব দেন তা সমকালীন যুগে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। ১৭৯১ খ্রীঃ বিপ্লবী সংবিধান মন্টেস্কুর ক্ষমতা বিভাজন তথ্যের ব্যবহারিক প্রয়ােগ করা হয়।

ভলতেয়ার (Voltaire): ফ্রান্সের অপর বিখ্যাত চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ছিলেন ভলতেয়ার, যা ছিল তার ছদ্মনাম। তার আসল নাম ছিল মারি ফ্রাসোয়া আরুয়েৎ। ভলতেয়ার ছিলেন বহু পঠিত, মহাজ্ঞানী ব্যক্তি। ভলতেয়ার ছিলেন তীক্ষ ব্যঙ্গ রচনায় পারদর্শী। তাহার পাণ্ডিত্য ছিল অগাধ। তিনি গীর্জার দুর্নীতিগুলি তার শাণিত ব্যঙ্গের কষাঘাতে জর্জরিত করেন। তিনি ছদ্মনামে রচনা লিখতেন। ফ্রান্সের পাঠক সমাজ তার রচনা পড়ার জন্যে ব্যাকুল হয়ে থাকত। ভলতেয়ার বলেন যে, ইতিহাস কেবল সাম্রাজ্যের উত্থান পতনের কাহিনী নয়। সভ্যতা ও সমাজের বির্বতনের চিত্র ইতিহাসে পাওয়া যায়। অতীতের আলােকে বর্তমানকে যাচাই করার হাতিয়ার হল ইতিহাস। ভলতেয়ার ইংলন্ডের সমাজ ব্যবস্থাকে মুক্ত, সহিষ্ণু ও প্রগতিশীল বলে প্রশংসা করেন। ইংলণ্ডে অভিজাতরা বিশেষ কৃতিত্ব ভােগ করে না। তৃতীয় শ্রেণীর যোগ্য লােকেরা সে দেশে সম্মানিত হয়। ভলতেয়ার চিন্তার স্বাধীনতা ও যুক্তিবাদকে শ্রেয় ভাবতেন। যেহেতু গীর্জা যুক্তিবাদ ও স্বাধীন চিন্তা স্বীকার করত না এজন্য তিনি ক্যাথলিক গীর্জাকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন “গীর্জা হল কুসংস্কার ও দুর্নীতির ঘাটি।" ভলতেয়ারের মতবাদী লেখকদের ভলতেরিয়ান (Voltarians) বলা হয়। খ্রীষ্ট্ৰীয় গীর্জার বিশেষ সুবিধাগুলিকে ভলতেয়ার বাদীরা আক্রমণ করেন। ভলতেয়ারের রচনাগুলির মধ্যে Philosophical Dictionary বা দর্শনের অভিধান এবং কাদিদ নামে উপন্যাস বিখ্যাত।

ফরাসি বিপ্লবে রুশোর ভূমিকা (Rousseau): দার্শনিকদের চুড়ামণি জ্যা জেকুইস রুশো ছিলেন সর্বাপেক্ষা মৌলিক ও বৈপ্লবিক মতের প্রবক্তা। তার ব্যক্তিগত জীবন পবিত্র না হলেও তার মতবাদের ব্যাপকতা অস্বীকার করা যায় না। রুশাে তাহার বিখ্যাত রচনা সামাজিক চুক্তি (Contract Social) গ্রন্থে রাষ্ট্রের উৎপত্তি বিশ্লেষণ করেন। তিনি ঐতিহাসিক প্রমাণের সাহায্যে এই সত্য প্রচার করেন যে, ঈশ্বর রাজা বা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেননি। জনগণই রাষ্ট্রের উৎস। রাষ্ট্রের সার্বভৌম শক্তি জনসাধারণের হাতেই আছে। রাজা জনমত অনুযায়ী চলতে বাধ্য। তিনি আরও বলেন যে, মানুষ মাত্রেই স্বাধীন হয়ে জন্মায়। সামাজিক অব্যবস্থা মানুষকে দরিদ্র অথবা পরাধীন করে। রুশাের এই বৈপ্লবিক মতবাদ জনমানসে মনে আলােড়ন সৃষ্টি করে। রুশাের অপর বিখ্যাত রচনা Discourse on Inequality বা অসাম্যর কারণ আলোচনা ছিল সমাজতন্ত্রবাদের ধ্যান ধারণার দ্বারা মণ্ডিত। যদি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বে তিনি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের কথা বলেন, তবে Discourse on Inequality গ্রন্থে তিনি সামাজিক অসাম্যর মূল কারণগুলি অনুসন্ধান করেনি। এই গ্রন্থে রুশাে বলেন যে, আদিতে মানুষ ছিল স্বাধীন ও সমান অধিকার ভােগকারী। কিন্তু মানুষের সম্পত্তির লােভ সমাজে অসাম্যর বীজ বপণ করে। অসাম্য থেকে আসে স্বাধীনতার বিনাশ। রুশো তার সামাজিক চুক্তি তত্ত্বে বলেন যে, মানুষের যত রকম গুণাবলী আছে, তার মধ্যে তার যুক্তিবাদ হল শ্রেষ্ঠ। কিন্তু এই যুক্তিবাদ থাকে সুপ্ত। স্বাধীন চিন্তাশক্তির দ্বারা তার বিকাশ ঘটে। রুশাের অপর দুই বিখ্যাত গ্রন্থ ছিল হেলোইজ (Helois) এবং এমিল (Emile)।

ফিজিওক্র্যাট (Physiocrat): অষ্টাদশ শতকে ফিজিওক্র্যাট নামে এক প্রকার অর্থনৈতিক মতবাদের উদ্ভব হয়। ইংলন্ডের এ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith) ছিলেন এই মতবাদের প্রবর্তক। ফরাসী অর্থনীতিবিদ কুয়েসনে (Quesney) ছিলেন ফ্রান্সে এই মতবাদের প্রধান প্রচারক।ফিজিওক্র্যাট মতের অনুরাগীরা মার্কান্টাইলবাদকে (Mercantilism) ভ্রান্ত মতবাদ বলে সমালােচনা করে। এরা ফ্রান্সের শুল্ক নীতি, নিয়ন্ত্রণ প্রথার তীব্র সমালােচনা করে একটি অবাধ বাণিজ্য নীতি ও খাদ্যশস্যের খােলা বিক্রয় দাবী করে। এ্যাডাম স্মিথ তার বিখ্যাত Wealth of Nations গ্রন্থে রাষ্ট্র কর্তৃত্ব বিলোপ এবং অবাধ বাণিজ্যের সপক্ষে যুক্তি দেখান। ফিজিওক্র্যাট মতবাদী কোয়েসনে মনে করতেন যে, সম্পদের প্রধান উৎস হল ভূসম্পত্তি। এজন্য কারও ভূমিকর প্রদান থেকে অব্যাহতি পাওয়া উচিত নয়।

বিশ্বকোষ প্রণেতাগণ (Encyclopedia): ডেনিস দিদেরাে, ডি. এলেমবার্ট, হেলভিটাস, হলব্যাক প্রমুখ চিন্তাবিদগণ এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্বকোষ গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এই গ্রন্থে তারা সমাজ ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলির তীব্র সমালােচনা করেন। 1765 খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থের 4 হাজার কপি বিক্রি হয়। এইসকল চিন্তাবিদগণের প্রধান লক্ষ্য ছিল মানবজাতির সার্বিক মঙ্গলসাধন। হলব্যাক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজনৈতিক এবং ধর্মনৈতিক ভুলভ্রান্তিই মানবসমাজকে অশ্রুসিক্ত দ্বীপে নির্বাসিত করে। সত্যই সে যুগের ফ্রান্সের অশ্রুসিক্ত জীবনের ছবি ছিল বড়ােই করুণ। বিশ্বকোষ গ্রন্থের অপর লেখক ডি. এলেমবার্ট বা দালেম বেয়ার (Preliminary Discourse) বা বিশ্বকোষ গ্রন্থমালার ভূমিকা রচনা করেন।
Advertisement
ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদানের সমালোচনা: প্রথমতঃ জর্জ লেফেভার, মসষ্টিফেন্স ঐতিহাসিক ফ্রান্সের জনসাধারণের অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং ষােড়শ লুইয়ের অর্থনৈতিক সঙ্কট ও ফরাসী রাজার স্বৈরশাসনকেও ফরাসী বিপ্লবের প্রধান কারণ বলে মনে করেন। ফরাসী বিপ্লব ঘটার জন্যে দার্শনিকদের কোন প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। যদি তাদের কোন প্রভাব কার্যকরী হয় তা ছিল পরােক্ষ ও গৌণ। দ্বিতীয়তঃ দার্শনিকদের অধিকাংশ প্রধান প্রবক্তারা বিপ্লবের আগেই মৃত্যু হয়। তারা বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেন নি। তৃতীয়তঃ দার্শনিকদের মধ্যে প্রখর যুক্তিবাদ থাকলেও তারা সকলে ঐক্যমতে আবদ্ধ ছিলেন না। বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্ন মত পােষণ করতেন। তাদের প্রভাব এজন্য তীব্র হতে পারেনি। চতুর্থতঃ ফরাসী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী দার্শনিক জোসেফ ম্যুনিয়ের (Mounier) প্রাক-বিপ্লব যুগের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামাে বিধ্বস্ত করার ব্যাপারে ফরাসী দার্শনিকদের অবদান খুবই কম ছিল। অবশ্য রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সকল ক্ষেত্রের ত্রুটি বিচ্যুতির সমালােচনা করে সংস্কারের দাবি তুলতে সাহায্য করেছিল। দাশনিকগণ যে আদর্শবাদ প্রচার করেছিলেন, জনসাধারণ তাহা গ্রহণে অসামর্থ্য হয়েছিলেন।

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদানের পক্ষে যুক্তি: প্রথমতঃ ম্যালেট দ্যুপান নামক জনৈক ফরাসী দার্শনিকের মতে দার্শনিকগণের রচনা চিরাচরিত সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের সন্দেহের সৃষ্টি করে ফরাসী জাতির চিন্তাজগতে এক বিপ্লব ও শঙ্খলার সৃষ্টি করেছিল। এইভাবে রক্ষণশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করার পথ প্রস্তুত করে দার্শনিকগণ নতুনের পথ প্রস্তুত করেছিলেন। দ্বিতীয়তঃ ঐতিহাসিক উইলার্টের মতে দার্শনিকগণ যা প্রচার করেছিলেন তাতে নতুনত্ব কিছু ছিল না। তথাপি স্বীকার করতে হয় যে, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানুষে মানুষে সমতার ধারণা এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মনোবৃত্তি দার্শনিকদের রচনার ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল। তৃতীয়তঃ হল্যান্ড রােজ নামক ঐতিহাসিকের মতে চিরাচরিত প্রথা ও ঐতিহ্য এবং রাজশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মনােবল দার্শনিকদের রচনার মধ্য থেকে ফরাসী জাতি লাভ করিয়াছিল। দার্শনিকগণ জনসাধারণের সম্মুখে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক দিয়ে এক উন্নততর, সুখকর জীবনাদর্শের ধারণা তুলে ধরেছিলেন। দার্শনিকদের অবদান নেতিবাচক একথাও সম্পূর্ণ সত্য বলে স্বীকার করা যায় না। কারণ, রুশাের সামাজিক চুক্তির মতবাদের ব্যাখ্যায় জনসাধারণের সার্বভৌমত্বের ধারণা ফরাসী জনসমাজকে কত গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল তা সমসাময়িক কালের রেস্তোরাঁ, কাফে, রাস্তার কোণে সমবেত সাধারণ লােকের মধ্যে সেই সম্পর্কে আলােচনা থেকে অনুমান করা যেতো।

ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকদের অবদান (Philosophers Contribution to French Revolution): ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্রে দার্শনিকদের অবদান সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ একমত নন। তথাপি বলা যায়, ফরাসি দার্শনিকদের মতবাদ প্রত্যক্ষভাবে বিপ্লবের সৃষ্টি না করলেও তা পরােক্ষভাবে বিপ্লবের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। পুরাতনতন্ত্র বা ফ্রান্সের পুরাতন সমাজ ও শাসন ব্যবস্থার ক্রটি উল্লেখ করে দার্শনিকরা এই ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করেন। সাধারণ লােকে তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা বুঝতে পারে। প্রচলিত ব্যবস্থা সম্পর্কে দার্শনিকদের সমালােচনা এমন একটি প্রেরণা সৃষ্টি করে যে, তার প্রবাহে পুরাতনতন্ত্র ভেঙে পড়ে। বিপ্লবের মানসিক প্রস্তুতি গঠনে দার্শনিকদের রচনা কাজ করে। লেফেভার বলেন যে, ফরাসী দার্শনিকরা অভিজাতদের বিশেষ অধিকার, সামন্ত প্রথা, স্বৈরাচারী শাসনের তীব্র সমালােচনা দ্বারা পুরাতনতন্ত্রের ভিত নড়িয়ে দেন।
Advertisement