বায়ুমণ্ডলের উপাদান - Components of Atmosphere

- November 28, 2019
ভূপৃষ্ঠের যে অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণ, অতিসূক্ষ্ম ধুলিকণা ও জলীয়বাষ্প পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) বলে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর গায়ে লেগে আছে এবং পৃথিবীর সাথেই তা আবর্তিত হয়ে চলেছে। বায়ুমণ্ডলের বিস্তার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্বে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসীয় আবরণ ক্রমশ হালকা হতে থাকে। বায়ুমণ্ডলের বিস্তার ১০,০০০ কিমি হলেও বায়ুমণ্ডলের উপাদানের ৯৭% পদার্থই ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৯ কিমির মধ্যে রয়েছে। কারণ এই অংশেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব সবচেয়ে বেশি এবং এই অংশ টুকুই আবহবিদ্যার (Meteorology) অন্তর্গত। বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমা বলতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০,০০০ কিমি উচ্চতাকে বােঝায় এবং এর উপরের অংশ অ্যারােনমি (Aeronomy) বিদ্যার অংশ।
Gaseous ratio of the atmosphere
বায়ুমণ্ডলের উপাদানঃ বায়ুমণ্ডল হল বিভিন্ন গ্যাসের যান্ত্রিক মিশ্রণ, এটি রাসায়নিক যৌগ নয়। এছাড়াও বায়ুমণ্ডলে আছে জলীয় বাষ্প এবং জৈব ও অজৈব উপাদান। সুতরাং, বায়ুমণ্ডল তিনটি প্রধান উপাদানে গঠিত - (১) গ্যাসীয় উপাদান, (২) জলীয় বাষ্প এবং (৩) ধূলিকণা।

গ্যাসীয় উপাদানঃ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে নাইট্রোজেন (৭৮.০৮৪%), অক্সিজেন (২০.৯৪৬ %), আর্গন (০.৯৩৪%), ও কার্বন ডাই অক্সাইড (০.০৩৩%) - এই চারটি গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ৯৯.৯৯৭% স্থান অধিকার করে আছে। এদের মধ্যে কেবল নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনই অধিকার করে আছে ৯৯%। বাকি গ্যাসগুলি হলাে নিয়ন, হিলিয়াম, ক্লিপটন, জেনন, হাইড্রোজেন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, রেডন, ওজোন প্রভৃতি। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই গ্যাসগুলির অনুপাত মােটামুটি অপরিবর্তিত থাকে।

নাইট্রোজেন(N2)৭৮.০৮৪%
অক্সিজেন(O2)২০.৯৪৬%
আর্গন(A)০.৯৩৪%
কার্বন ডাই অক্সাইড(CO2)০.০৩৩%
নিয়ন(Ne)০.০০১৮%
ক্রিপটন(Kr)০.০০০১২%
জেনন(Xe)০.০০০০৯%
হাইড্রোজেন(H2)০.০০০৫%
হিলিয়াম(He)০.০০০৫৩%
মিথেন(CH4)০.০০০০২%

জলীয় বাষ্প উপাদান: এটি বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উষ্ণতার প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠের জল বাষ্পীভূত বায়ুমণ্ডলে অবস্থান কর। জলীয় বাষ্পের ৯০% থাকে বায়ুমণ্ডলের ৬ কিমির মধ্যে। বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ থাকে ০.৫% থেকে ৪% পর্যন্ত। তবে উচ্চতা, ও ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে জলীয়বাষ্পের পরিমাণেরও পরিবর্তন ঘটে।

জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব: (১) বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির জন্যই ঘনীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেঘ, কুয়াশা, তুহিন ও তুষার সৃষ্টি হয়। (২) জলীয় বাষ্প সূর্য তাপ শােষণ করে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণে বাধা দেই। (৩) ঊর্ধাকাশে জলীয় বাষ্পের ঘনিভবনে সৃষ্ট লীনতাপ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায়। (৪) জলীয় বাষ্প উন্নতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

ধূলিকণা বা কঠিন উপাদান: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান বিভিন্ন আকৃতির ধূলিকণা, কঠিন উপাদানের উৎস হল ভূপৃষ্ঠ, সমুদ্র, অগ্নেয়গিরি, উল্কা ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণ। সমস্ত কঠিন উপাদান গুলিকে একেত্রে বলা হয় অ্যারোসল (Aerosol)। বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরেই ধূলিকণার পরিমাণ সর্বাধিক। উর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহের ফলে অনেক ক্ষেত্রে ধূলিকণা বায়ুমণ্ডলের উধ্বস্তরেও পৌঁছায়। |

ধুলিকণার গুরুত্বঃ (১) ধুলিকণাকে আশ্রয় করে জলীয়বাষ্প বাতাসে ভেসে বেড়ায়। তাই বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশা, তুহিন, তুষারপাত প্রভৃতি ঘটতে ধুলিকণা পরােক্ষভাবে সাহায্য করে। (২) ধূলিকণা সূর্যতাপ শােষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। (৩) বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণার উপস্থিতির জন্যই ঊষা ও গোধূলির সৃষ্টি হয়। (৪) বায়ুমণ্ডলে ধুলিকণা না থাকলে সূর্যালােক বিচ্ছুরিত হত না, ফলে দিনের বেলায় আকাশ অন্ধকারে ডুবে থাকত। (৫) ধূলিকণার উপস্থিতির কারণেই আকাশের রং নীল।
Advertisement