সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি কী

- November 23, 2019
দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠকে সংখ্যালঘু সমস্যা নিয়ে কোন মতৈক্য হয়নি। এর ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামসে ম্যাকডোনাল্ড সংখ্যালঘু সমস্যার সমাধানের জন্য এক ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্য ভেদনীতি আরো প্রখর হয়। এজন্য ভারতবর্ষে এই ঘােষণাকে সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা বা সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ (Communal Award) বলে সমালােচনা করা হয়।
Communal Award 1932
সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতি ঘােষণা: রামজে ম্যাকডােনাল্ড ১৬ই আগষ্ট, ১৯৩২ খ্রীঃ সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতি ঘােষণা করেন। তার এই ঘোষণায় বলেন যে -
(১) মুসলিম, শিখ ও ইওরােপীয় নির্বাচকরা ভারতের আইনসভার নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতি সম্প্রদায় ভােট দিবে অর্থাৎ মুসলিম সংরক্ষিত আসনে কেবল মুসলিম নির্বাচক ভােট দিবে।
(২) শিখদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(৩) অনুন্নত শ্রেণীর হিন্দুদের জন্যে বলা হয় যে, সাধারণ নির্বাচন কেন্দ্রে তারা অন্যান্য ভােটারদের মতই ভােট দিতে পারবে এবং তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে সেই কেন্দ্রে অন্যান্যদের মতই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
(৪) যেহেতু অনুন্নতশ্রেণীর হিন্দুরা পিছিয়ে আছে সেহেতু তাদের স্বার্থরক্ষার জন্যে কিছু আসন কেবলমাত্র এই শ্রেণীর জন্যে সংরক্ষণ করা হবে।
(৫) এই সকল সংরক্ষিত কেন্দ্রে অনুন্নত শ্রেণীর প্রার্থীর নির্বাচনের জন্যে কেবলমাত্র অনুন্নত শ্রেণী নির্বাচকরাই ভােট দিতে পারবে।
(৬) এই নির্বাচকরা সংরক্ষিত কেন্দ্রে ভােটদানের অধিকার হলেও তারা সাধারণ আসনের নির্বাচনেও পুনরায় ভােট দিতে পারবে অর্থাৎ অনুন্নত শ্রেণীর নির্বাচকরা দুবার ভােট দিতে পারবে।
(৭) যে সকল অঞ্চলে অনুন্নত শ্রেণীর সংখ্যা বেশী একমাত্র সেই সকল অঞ্চলেই এই সংরক্ষিত আসন দেওয়া হবে।
(৮) র্যামজে ম্যাকডােনাল্ড অবশ্য বলেন যে, যদি বর্ণ হিন্দু ও অনুন্নত শ্রেণী অন্য কোন বিকল্প ব্যবস্থা করে তাতে তিনি আপত্তি করবেন না।

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ও গান্ধীজির ভূমিকা: সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা ঘােষিত হলে কংগ্রেস থেকে এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করা হয়। মহাত্মা গান্ধী উপলব্ধি করেন যে, সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা চালু হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং রাজনৈতিক দিক থেকে তাদের সর্বনাশ হবে। সাম্রাজ্যবাদী ভেদনীতি মুসলিম সম্প্রদায়কে জাতীয় জীবন স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর এখন হিন্দুদের মধ্যে ভেদনীতির দ্বারা কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির উপক্রম করেছে। মহাত্মা গান্ধী ১৮ই আগষ্ট, ১৯৩২ খ্রীঃ এক পত্রের দ্বারা প্রধানমন্ত্রী র্যামজে ম্যাকডােনাল্ডকে জানান যে, তিনি জীবনশুল্ক দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐক্য রক্ষা করবেন। যতদিন না সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা রদ হয়ে হিন্দুদের যৌথ নির্বাচন স্বীকৃত না হয, ততদিন তার মৃত্যু হলেও তিনি অনশন করবেন। ২০শে সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ খ্রীঃ থেকে গান্ধীজি আমরণ অনশন আরম্ভ করায় সমগ্র ভারতে দারুণ চাঞ্চল্য দেখা দেয়। পণ্ডিত মদন মােহন মালবের উদ্যোগে অনুন্নত শ্রেণীর নেতা ডঃ আম্বেদকর সহ অন্যান্য নেতারা পূণায় আলােচনায় বসেন। ডঃ আম্বেদকর অবশ্য বাস্তব বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে আলােচনা বৈঠকে অনুন্নত শ্রেণীর জন্যে আইনসভায় আশাতিরিক্ত আসন সংরক্ষণের শর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচনের দাবী ছাড়েন। এবং ১৯৩২ সালে ২৪শে সেপ্টেম্বর মহাত্মা গান্ধী ও ড: বি. আর. আম্বেদকর এর মধ্যে পূণা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
Advertisement