Ancient India Women Property - প্রাচীন ভারতে নারী সম্পত্তি

- October 27, 2019
ঋগবেদের যুগ থেকে ধর্মসূত্রের যুগ পর্যন্ত নারীর সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। তবে কোটিল্যের অর্থশাস্ত্র, মনুস্মৃতি প্রভৃতিতে সম্পত্তিতে নারীর কয়েকটি অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। নারীদের সম্পত্তি স্ত্রীসম্পদ নামে পরিচিত। পিতৃগৃহ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং স্বামী বিশেষ করে স্ত্রীকে যা দিতেন, তা ছিল স্ত্রীসম্পদ। এই স্ত্রীসম্পদে নারীর নিজস্ব অধিকার ছিল। বিবাহের সময় অগ্নির সামনে পিতৃকুল থেকে পতিগৃহে যাবার সময় প্রাপ্ত সম্পদকে অধ্যাবাহনিক বলা হত।
women Property Ancient India
মনুর মতে, অধ্যাগ্নি, অধ্যাবাহনিক, প্রীতিবশত পতির কাছে প্রাপ্ত, ভাইয়ের কাছে, মায়ের কাছে, পিতার কাছে প্রাপ্ত-এই ছয় প্রকারে প্রাপ্ত সম্পদই স্ত্রীসম্পদ। নারদীয়-মনুসংহিতাতে, যাজ্ঞবল্ক্যও এই ব্যবস্থা দেখা যায়। অর্থশাস্ত্রের মতে, বৃত্তি অর্থাৎ ভরণপােষণের জন্য সম্পদ এবং অলংকারাদি ছিল স্ত্রীসম্পদ। সাধারণতঃ বিবাহের সময় কন্যাকে দান ও যৌতুক দেওয়া হতাে। মহাভারতে দেখা যায়, নারীরা বিবাহকালে শ্বশুরাদি গুরুজনের কাছে প্রীতি উপহার বা প্রতিদায় স্বরূপে ধনরত্নাদি লাভ করতেন।

বৈদিক যুগে কন্যাদের গবাদি অস্থাবর সম্পত্তি ও বসন ভুষণ অলংকারাদি দিয়ে পতিগৃহে পাঠান হত। সম্পত্তি দেবার ব্যাপার তখন ছিল না। পরবর্তীকালে মৈতায়নী সংহিতায় বলা হয় যে পুত্র উত্তরাধিকার পাবে। কন্যা পাবে না। অর্থশাস্ত্রে বলা হয়, পুত্র থাকলে পুত্র বা ধর্মবিবাহে জাত কন্যা উত্তরাধিকারী হবে। পুত্র না থাকলে, কন্যা অধিকারী-এই কথা মনুস্মৃতিতে আছে। মনুর সিদ্ধান্ত অনুসারে পুত্রেরা যা পাবে, তার চারভাগের একভাগ প্রত্যেক ভাই কন্যাদের দেবেন। পুত্রদের একচতুর্থাংশ কন্যা পাবেন-এটিকে যাজ্ঞবল্ক্যও সমর্থন করেন।

যাজ্ঞবল্ক্য এর মতে, স্বামী বা শ্বশুর দত্ত স্ত্রীসম্পদ না থাকলে সম্পত্তি ভাগ করার সময় পত্নীদেরও সমান অংশ থাকা উচিত। যাজ্ঞবল্ক্য আরও বলেন, পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগকালে মাতাও সমান অংশ পাবেন। বৃহস্পতি বলেন, মায়ের ভাগ সমান, কন্যার ভাগ একচতুর্থাংশ। কাত্যায়ন অবিবাহিতা কন্যার এক চতুর্থাধিকারই সমর্থন করেন। সামান্য সম্পত্তি থাকলে কন্যা ও পুত্রদের ভাগ সমান হবে। বিভিন্ন স্মৃতিগ্রন্থে, অপুত্র সাধ্বী পত্নীর স্বামীর পিন্ডদানের ও সম্পূর্ণ সম্পত্তির অধিকারকে স্বীকার করা হয়েছে। পত্নী না থাকলে কন্যাকেই শাস্ত্রবিহিত উত্তরাধিকারিনী বলা হয়েছে, কারণ পুত্ৰাভাবে দুহিতাই পুত্র।

স্ত্রীসম্পদের উপর স্বামী বা শ্বশুরকুলের কোন অধিকার নেই বলে স্মৃতিগ্রন্থে বলা হয়েছে। তবে কোন কোন স্মৃতির মতে দুর্ভিক্ষে, বন্দীদশায়, রােগে এবং ধর্মার্থে স্বামী তার স্ত্রীর স্ত্রীসম্পদ গ্রহণ করতে পারেন। এখানে কাত্যায়ন বলেন স্ত্রীসম্পদে স্বামী পুত্র, পিতা ভ্রাতা কারোর কোন অধিকার নেই। যদি এদের কেউ বলপূর্বক তা ভােগ করেন, তবে তা দন্ডনীয় ও সুদসহ ফেরত দিতে বাধ্য। তবে এদের কেউ বিপদগ্রস্ত হলে স্বত্বধিকারিনীর আজ্ঞানুসারে, স্ত্রীসম্পদের কিছু অংশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সমর্থ হলেই সেই মূলধন তিনি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। যাজ্ঞবল্ক্য ও নারদ স্মৃতিতে বলা হয়েছে যে বিরুদ্ধ কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেও নারীরা তাদের স্ত্রীসম্পদ থেকে বঞ্চিত হত না। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ঐ সম্পত্তি তার কন্যা সন্তানরা পাওয়ার অধিকারী ছিল। তবে অর্থশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, স্বামীর মৃত্যুর পর যদি স্ত্রী, শ্বশুরের বিনা অনুমতিতে অন্যত্র বিবাহ করে, তাহলে তিনি শ্বশুরের ও স্বামীর সম্পদ পাবেন না।

তবে ধর্মশাস্ত্রকার সম্পত্তিতে নারীর অধিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বীকার করলেও, এই অধিকার বাস্তবে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে কতটা পরিমাণে নারীরা ভােগ করতে পারতেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সমাজে স্বতন্ত্র ব্যক্তিরূপে স্থান পাওয়া তার পক্ষে কঠিন ছিল। আর্থিক স্বাধীনতা তার ছিল না। কোন অর্থকরী বৃত্তির শক বা ব্যবহার উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত স্তরের মহিলাদের ক্ষেত্রে ছিল না। একেবারে সমাজের নিচের স্তরের মহিলারা কিছু অর্থকরী বৃত্তির সাথে যুক্ত থেকে হয়ত কিছুটা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেতেন। এমনতাবস্থায় সামাজিক ও আর্থিকভাবে নির্ভরশীল নারীরা সম্পত্তির অধিকার কতটা বাস্তৰে পেতেন ও পেলেও সেই সম্পত্তি কতটা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারতেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
Advertisement