Women's Rights in Medieval India - মধ্যযুগে ভারতের নারীর অবস্থান

- October 26, 2019
মধ্যযুগে পরিবারই ছিল সামাজিক জীবনের মূলভিত্তি। হিন্দু ও মুসলমানদের পৃথক সমাজজীবন হলেও, পিতাই যে পরিবারের প্রধান, তা উভয় সমাজেই স্বীকৃত ছিল। তবে মুসলমানদের বিবাহ বিচ্ছেদ রীতি, উত্তরাধিকার আইন প্রকৃতি হিন্দু সমাজে অভিনব ছিল। অবশ্য উভয় সমাজই কিছু সাধারণ পিতৃতান্ত্রিক রীতি মেনে চলত। নারীর উপর পুরুষের প্রাধান্য, কন্যা সন্তান অপেক্ষা পুত্র সন্তানের অধিক কদর উভয় সমাজে স্বীকৃত ছিল। উভয়ক্ষেত্রেই নারী ছিলেন মূলতঃ অন্তঃপুরবাসিনী। প্রাক মধ্যযুগ থেকেই ভারতীয় সমাজে নারীর ক্ষেত্রে অবরােধ প্রথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। মধ্যযুগে এই অবরােধ প্রথা আরও বিস্তৃতি ও কঠোরতা লাভ করে। মুসলিম সমাজে পর্দাপ্রথা বহু পূর্ব থেকেই ছিল। ভারতে মুসলিম শাসন আরম্ভ হলে হিন্দু সমাজেও পর্দাপ্রথার ব্যাপক প্রচলন ঘটে। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে মেয়েদের ঘােমটা দেওয়ার রীতি থাকলেও, মধ্যযুগে হিন্দু রমণীদের পর্দা প্রথার ব্যাপারটি মুসলমান সংস্কৃতির প্রভাবে হয়েছিল। আকবর পর্দা প্রথার সমর্থক ছিলেন।
mediaeval India period women
অভিজাত মুসলমান সমাজে পর্দাপ্রথা প্রচলিত থাকায় হিন্দু উচ্চবিত্ত সমাজে পর্দাপ্রথা বিস্তার লাভ করে। উভয় সম্প্রদায়ের অভিজাতবর্গের মধ্যে পরিবারের মহিলাদের অবরােধ ব্যবস্থার মধ্যে রাখা একটি সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। নিম্নবিত্তদের মধ্যে বিশেষত হিন্দু কৃষক রমণীদের বা শ্রমজীবী রমণীদের মধ্যে অবশ্য পর্দাপ্রথার প্রচলন ছিল না। তারা স্বামীর পাশাপাশি উৎপাদনে অংশগ্রহণ করতেন।

পর্দাপ্রথার প্রচলনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক তারতম্য ছিল। যােড়শ শতাব্দীর প্রথমদিকে পর্যটক বারবােসা বঙ্গদেশে পর্দাপ্রথার ব্যাপক প্রচলন দেখেছিলেন। অন্যদিকে রাজপুত পরিবারগুলির মধ্যে পর্দাপ্রথার প্রচলন ছিল না। রাজপুত মহিলারা পারদর্শী ছিলেন ও বিভিন্ন যুদ্ধভিযানে অংশগ্রহণ করতেন। দক্ষিণ ভারতে কয়েকটি অভিজাত মুসলমান পরিবার ব্যতীত পর্দাপ্রথা ছিল না। বিজয়নগর সাম্রাজ্যে মহিলারা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতেন। পর্যটক নুনিজের মতে, মহিলারা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রে চাকরিতে নিযুক্ত হতে পারতেন।

মধ্যযুগে কন্যা সন্তানের জন্মকে সুনজরে দেখা হতাে না। আকবরনামাতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি পত্নী দুর্ভাগ্যক্রমে শুধু কন্যাসন্তানই জন্ম দিতে থাকেন, তবে তাকে ঘৃণা করা হতাে। এমনকি কোন কোন সময় বিবাহ বিচ্ছেদ হতো। এ ধরনের মনােভাব থেকে রাজপরিবারগুলি মুক্ত ছিল না। কন্যা জন্মালে কেবল অন্তঃপুরের মহিলারা আনন্দ করতেন, আর পুত্র জন্মগ্রহণ করলে পুরো রাজপরিবার আনন্দ করত। কন্যাদের বাল্যবিবাহ তখন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণত ছয় থেকে আট বছরের মধ্যেই মেয়েদের বিবাহ হয়ে যেত। ষােড়শ শতকে মুকুন্দরাম লিখেছেন যে যদি কোন পিতা তার কন্যার বিবাহ ৯ বছর বয়সেই দিতে পারতেন, তাহলে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান ও ঈশ্বরের কৃপাধন্য বলে মনে করতে পারতেন। পুত্রদেরও অল্প বয়েসেই বিবাহ হতাে। বাল্যবিবাহ হতাে। বাল্যবিবাহ ব্যাপারটি এতটাই প্রচলিত ছিল যে, পাত্র কিংবা পাত্রী কেউই নিজ পছন্দ অনুযায়ী জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী পছন্দ করার সুযােগ পেতেন না। পিতা বা পরিবারের সদস্যরাই বিবাহের সম্বন্ধ ঠিক করতেন। পণ দাবি করা হোত। কখনও কখনও বিবাহে পণই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াত। কোন কোন অঞ্চলে, কোন কোন জাতির মধ্যে কন্যাকে অর্থের বিনিময়ে পিতা বিবাহ দিতেন। সমাজে বরপণ বহুল প্রচলিত ছিল। অনেক সময় অর্থের আশায় কোন যুবক তার থেকে অনেক বেশী বয়েসী মহিলাকে বিবাহ করতেন। এই ব্যাপারটি এত বেড়ে গিয়েছিল যে, আকবর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যদি পাত্রীর বয়স তার স্বামীর চেয়ে ১২ বছরের বেশী হয়, তাহলে সেই বিবাহকে অবৈধ ঘােষণা করা হবে। আকবর চেয়েছিলেন যে বিবাহের ক্ষেত্রে পিতামাতার সম্মতির পাশাপাশি পাত্রপাত্রীর পারস্পরিক সম্মতি আবশ্যিক করা হােক। কিন্তু তার প্রচেষ্টা সাফল্য লাভ করেনি। তবে কর্নেল টডের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, এ ব্যাপারে রাজস্থানের অভিজাত পরিবারের মহিলারা বেশী স্বাধীনতা ভােগ করতেন।

হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়েরই নিম্ন স্তরে নারী পুরুষের একবার বিবাহ রীতি হয়ে দাড়িয়েছিল। এফ. ডব্লিউ. টমাস মুসলিম বিবাহ রীতির উপর হিন্দু প্রভাব আলােচনা করতে গিয়ে বলেছেন যে মুসলিম শাস্ত্রের বিধানে প্রকৃত মুসলমানদের চারটে পর্যন্ত বিবাহ করার অধিকার স্বীকৃত এবং বিবাহ বিচ্ছেদের সহজ অনুমােদন আছে। কিন্তু ভারতীয় মুসলমানরা অধিকাংশই এক পত্নীর জীবন যাপন করত এবং বিবাহ বিচ্ছেদ প্রায় অজ্ঞাত ছিল। আকবরের সময়ে, ইবাদত খানায় উলেমারা এই মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, একজন মুসলমান Nikah মাধ্যমে যত খুশী বিবাহ করতে পারেন ও Nikah মাধ্যমে মাত্র চারবার বিবাহ করার অধিকারী। আকবর এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সাধারণ উপার্জনকারী কোন ব্যক্তি একের বেশী পত্নী বিবাহ করতে পারবেন না, যদি পত্নীর কোন সন্তান না থাকে, তাহলে দ্বিতীয় বিবাহ করা যেতে পারে। ধনী মুসলমানদের মধ্যে অবশ্য বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল। তারা বেশীর ভাগই একইসাথে তিনজন বা চারজন পত্নী রাখতে পারতেন। হিন্দুদের ক্ষেত্রে অবশ্য রাজপরিবার ও ধনী শ্রেণী ব্যতীত, পুরুষদের একটি বিবাহই প্রচলিত ছিল। পত্নীর সন্তান না থাকলে, দ্বিতীয়বার বিবাহ করা যেত। বাংলাদেশে কুলীনরা অবশ্য বহুবিবাহ করতেন। বিজয়নগর সাম্রাজ্যে পুরুষরা বহুবিবাহ করতেন।

সমাজে নারীদের ক্ষেত্রে অবরোধ প্রথা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও বাল্যবিবাহের কারণে বিবাহের ক্ষেত্রে কন্যার সম্মতি দানে প্রশ্নটি উঠত না বললেই চলে। স্বামীগৃহে তাকে সবার অনুগত হয়ে থাকতে হতাে, নতুবা হিন্দু পরিবারে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠত, আর মুসলমান পরিবারে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা ছিল। এসব সত্ত্বেও গৃহে সাধারণভাবে নারীর একটা সম্মানের আসন ছিল। জাহাঙ্গীর তার আত্মজীবনী তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরীতে লিখেছেন যে, সামাজিক জীবনে হিন্দুরা যে কোন শুভকার্যে পত্নীর অংশগ্রহণ ও উপস্থিতির উপর গুরুত্ব দিতেন। অবশ্যই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে আশা করা হতাে যে স্ত্রী যেন চিন্তায় ও কাজে স্বামীর অনুবর্তিনী হয়, তবে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের ব্যাপারটি অনুপস্থিত ছিল না। কর্নেল টড রাজস্থানের অভিজাত পরিবারের রমনীদের উচ্চ মর্যাদার কথা বলেছেন।

বিবাহ বিচ্ছেদ ও পুনর্বিবাহ মুসলমান নারীদের মধ্যে প্রচলিত থাকলেও হিন্দু নারীদের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ছিল। নিম্ন জাতিগুলি বাদে, মধ্য যুগে হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হতাে না। উচ্চবিত্ত হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। ইবন বতুতার বিবরণ থেকে জানা যায় যে, দিল্লির সুলতানরা আইন জারি করে বলেছিলেন, সরকারী অনুজ্ঞাপত্র ছাড়া সুলতানের রাজ সীমার মধ্যে কোন বিধবাকে জীবন্ত দগ্ধ করা যাবে না। উত্তর ভারতের বিস্তৃত অঞ্চলে, বিশেষত রাজস্থানে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। বিজয়নগর সাম্রাজ্যে এই প্রথা ছিল। বিজয়নগরের শাসকরা সম্ভবত এই প্রথা বন্ধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হননি। মধ্যযুগে মহম্মদ বিন তুঘলক হয়ত প্রথম শাসক যিনি এই প্রথা বন্ধে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তার রাজত্বে সতীদাহ অনুষ্ঠিত করতে গেলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হত। এই আইনের মাধ্যমে অনিচ্ছুক বিধবাকে সতী হওয়া থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়। এই আইন পরবর্তীকালে প্রচলিত ছিল। হুমায়ুনের আমলে যখন সিদি আলি রেইস (১৫৫৩-১৫৫৬ ) ভারতে আসেন, তখন তিনি লক্ষ্য করেন যে, সতীদাহ হবার সময় সুলতানের কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতেন, যাতে বলপূর্বক বিধবাকে সতী না করা হয়।

মুঘল শাসকদের মধ্যে আকবর, সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি এই প্রথাটিকে পুরােপুরি নিষিদ্ধ করেননি, তবে কোতােয়ালদের নির্দেশ দেওয়া ছিল যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে সতী করার চেষ্টা হলে, তা রোধ করতে হবে। দিন-ই-ইলাহীতে আকবরের সতীদাহ প্রথা বিরােধী মনােভাব ব্যক্ত হয়েছে। আবার আকবর ব্যক্তিগতভাবে অনিচ্ছুক বিধবাকে সতী হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন বলে জানা যায়। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের ইউরােপীয় পর্যটকরা যথা পেলসার্ট, ট্যাভারনিয়ার প্রমুখ, সতীদাহের ক্ষেত্রে সরকারী অনুমতির প্রয়ােজনীয়তার কথা বলেছেন। জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান এই আইনের পরিবর্তন করেননি। এরা এই সতীদাহ প্রথা সমর্থন করতেন না ও মুসলমানদের এই প্রথা থেকে দুরে রাখতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। ঔরঙ্গজেব তার সাম্রাজ্য থেকে পুরােপুরি সতীদাহ প্রথা তুলে দিতে আইন প্রণয়ন করেন (১৮৬৪)। তবে এই আইন ফলপ্রসূ হয়নি।
Advertisement

রাজপুত সমাজে জহর ব্রত নামে এক প্রথার প্রচলন হয়েছিল। যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেলে শত্রুপক্ষের হাত থেকে সম্মান বাঁচানাের জন্য সাধারণতঃ রাজপুত অভিজাত মহিলারা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ দিতেন। বাবর তার আত্মজীবনীতে চান্দেরী দুর্গাধিপতি মেদিনীরাও-র পরাজয় ও জহরব্রত পালনের এক মর্মস্পর্শী ঘটনার উল্লেখ করেছেন। সমগ্র মধ্যযুগে রাজস্থানের ইতিহাসে জহর ব্রত পালনের বেশ কিছু দৃষ্টান্ত আছে।

মধ্যযুগে কন্যা, পত্নী ও বিধবা হিসাবে নারীর স্থান যাইহােক না কেন, মাতা হিসাবে তার সমাজে একটি শ্রদ্ধার আসন ছিল। সমসাময়িক সুত্রগুলি থেকে জানা যায় যে মুঘল শাসকরা তাদের মায়েদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। মাতাকে সম্মান দেওয়ার ব্যাপারটি সমাজের সর্বস্তরে ছিল।

মুসলিম নারী সম্পত্তির একটি সুনির্দিষ্ট অংশ উত্তরাধিকার হিসাবে পেতেন, যা তিনি ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারতেন। বিবাহের পরেও মুসলিম রমণীর এই অধিকার বজায় থাকত, যা হিন্দু নারীদের ক্ষেত্রে ছিল না। দেলমহোর ব্যাপারটি মুসলিম রমণীর স্বার্থরক্ষা করে। অন্যদিকে হিন্দু রমণীর কোন আইনগত অধিকার স্বামী বা পিতামাতার সম্পত্তির উপর ছিল না। হিন্দু মহিলা অলংকার, পােষাক হত্যাদি অস্থাবর সম্পত্তি ও ভরণপােষণের অধিকার পেতেন। উচ্চবিত্ত বা উচ্চবংশীয় মহিলারা অন্তঃপুরেই বিচরণ করতেন। তারা কোন অর্থকরী বৃত্তি গ্ৰহণ কমতে পারতেন না। নিচের স্তরে কৃষক ও শ্রমজীবী মহিলারা বিভিন্ন অর্থকরী বৃত্তির সাথে যুক্ত থাকতেন ও অর্থোপার্জনের মাধ্যমে পরিবারকে সাহায্য করতেন। নৃত্যগীত, ধাত্রীবৃত্তির সাথেও নারীরা জড়িত ছিলেন। শিক্ষিকার ভূমিকাতে নারীদের দেখা যেত।

অন্তঃপুরবাসিনী হলেও মধ্যযুগে অনেক বিদুষী মহিলা ছিলেন, যারা শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা করতেন, কেউ কেউ রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করতেন। সুলতানি যুগে সুলতানা রাজিয়া, পদ্মিনী, মীরাবাঈ, দেবনারানী প্রমুখ ছিল গুরত্বপূর্ণ। মুঘল রাজপরিবারের মহিলাদের আত্মসমানবোধ ও মর্যাদাজ্ঞান প্রখর ছিল। গুলবদন বেগম, নূরজাহান, জাহানারা, জেবউন্নিসা প্রমুখরা উচ্চশিক্ষিত ছিলেন ও সাহিত্য সাধনী করেছেন। মহারাষ্ট্রে রামদাস স্বামীর শিষ্যা আকাবাঈ এবং কেনাবাঈ সাহিত্য চর্চা করতেন। ভক্তি সাহিত্যে মীরাবাঈ ছাড়াও ছিলেন তামিল মহিলা কুমারীমল্লা, মারাঠী মহিলা মুক্তিবাদ প্রমুখ।

বস্তুতঃ নারীদের শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারটি অবহেলিত ছিল না অন্ততঃ উচ্চবিত্ত পরিবারগুলির ক্ষেত্রে। মেয়েদের আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। গৃহেই শিক্ষার ব্যবস্থা করা হােত। রাজপরিবারের নারীরা অনেকেই উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। মুঘল অন্তঃপুরবাসিনীরা অনেকেই কোরান পড়তে পারতেন। বাদশাহের পাশাপাশি তারাও গুণীজনের পৃষ্ঠপােষকতা করতেন। জাহানারা মুখফি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন। রোশােনারা দিল্লীতে এক সাহিত্যসভা গড়ে তােলেন। জেবউন্নিসা ও জিনাতউন্নিসা কবিতা রচনা করতেন।

কোন কোন অভিজাত বংশীয় নারী রাজনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন যেমন- আহমেদনগরের চাদবিবি, গন্ডােয়ানার রানি দুর্গাবতী প্রমুখ। সুলতানি যুগে রাজিয়া সুলতানা বা মুঘল যুগে নূরজাহান, জাহানারা প্রমুখরা ছিলেন ওই সময়ের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মহারাষ্ট্রে এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ছত্রপতি শিবাজীর পুত্রবধু তারাবাঈ। যিনি মারাঠাদের সংকটময় সময়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। সুতরাং মধ্যযুগে নারীর প্রথাগত ও আইনগত অবস্থান ও মর্যাদা বিভিন্ন দিক থেকে সীমাবদ্ধ থাকলেও, সমাজ জীবনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা সাফল্যের সাথে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।
Advertisement