দিল্লির মামলুক সুলতান মুইজউদ্দীন বাহরাম শাহ

- October 04, 2019
মুইজউদ্দীন বাহরাম শাহ (শাসনকাল: ১২৪০-১২৪২ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন মামলুক রাজবংশের ষষ্ঠ সুলতান। তিনি ছিলেন শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের এর তৃতীয় পুত্র এবং রাজিয়া সুলতানের ভাই। ভাতিন্ডা দুর্গ আক্রমণ কালে সুলতান রাজিয়া বন্দি হন। দিল্লির আমির ওমরাহদের সহায়তায় বাহরাম শাহ ১২৪০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির মসনদে বসেন।
Sultan Muiz uddin Bahram Shah coin
তুর্কি আমিররা তাকে সিংহাসনে বসিয়ে নিজেরাই শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকে। অভিজাতদের খুশি করবার জন্য নায়েব-ই-মামলিকত পদ সৃষ্টি করেন। মর্যাদার দিক থেকে এই পদ ছিল সুলতানের পরেই। এই পদে প্রথম মনোনীত হন ইখতিয়ারউদ্দিন আইতেগিন। মুইজউদ্দিন বাহরাম শাহের পক্ষে বেশি দিন এই দুঃসহ অবস্থা সহ্য করা সম্ভব হল না। নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি তুর্কি আমিরদের নেতা ইখতিয়ারউদ্দিন আইতেগিন-সহ আরও কয়েকজনকে হত্যা করেন। কয়েকজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধেও তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এর ফলে ক্ষুব্ধ উলেমারা তুর্কি অভিজাতদের সঙ্গে হাত মেলান। তারা বাহরাম শাহকে সিংহাসনচ্যুত করার সড়যন্ত্র শুরু করেন।

এই সময় ১২৪১ খ্রিস্টাব্দে মােঙ্গলগণ পাঞ্জাব আক্রমণ করলে উজীর মুহজাবউদ্দিন তার সুলতান বিরােধী ষড়যন্ত্রে চুড়ান্ত রূপ দেন। লাহােরের শাসনকর্তা মালিক কারাকাশ এর সাহায্যার্থে বাহরাম শাহের সুলতানি বাহিনী পাঞ্জাবে প্রেরণ করেন। এই দলে উজীর মুহজাবউদ্দিন ছিলেন। ধূর্ত এবং অকৃতজ্ঞ উজীরের পরামর্শে বাহরাম এক আদেশনামা জারি করে বিদ্রোহী তুর্কী আমীরদের পাঞ্জাবের মাটিতেই চরম শাস্তিদানের নির্দেশ দেন। কুচক্রী উজীর মুহজাবউদ্দিন এই আদেশনামা তুর্কী আমীর ও মালিকদের সামনে প্রকাশ করে তাদের সুলতানের চরম শত্রুতে পরিণত করেন এবং সবাই জোটবদ্ধ হয়ে দিল্লীতে ফিরে এসে ১২৪২ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম শাহকে বন্দী ও হত্যা করে এবং রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহের পুত্র আলাউদ্দিন মাসুদ শাহকে দিল্লির সিংহাসনে বসান।