খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি

- October 09, 2019
১২৯০ খ্রিস্টাব্দে ১৩ই জুন ফিরোজ শেষ মামলুক সুলতান কায়কোবাদ ও তার শিশুপুত্র কায়ুমার্সকে হত্যা করে জালালউদ্দিন ফিরােজ শাহ উপাধি নিয়ে দিল্লির সিংহাসনে বসেন। তখন তাঁর বয়স সত্তর বছর। হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার জন্য দিল্লির জনসাধারণ তাকে পছন্দ করে নি। এছাড়া তুর্কি আমিররাও খলজিদের প্রবল বিরােধী ছিল। এ কারণে তিনি প্রায় এক বছর দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারেন নি। দিল্লির সন্নিকটে যমুনার পরপারে কালঘিরি প্রাসাদে তার ১২৯০ খ্রিষ্টাব্দে অভিষেক সম্পন্ন হয় এবং সেখানেই তিনি তার রাজ্যপাট স্থাপন করেন।
Sultan Jalal uddin firuz khalji
রাজত্বকাল ১৩ জুন ১২৯০ - ১৯ জুলাই ১২৯৬
রাজ্যাভিষেক ১৩ জুন ১২৯০
পূর্বপুরুষ শামসুদ্দিন কায়ুমার্স
উত্তরাধিকারী আলাউদ্দিন খলজি
মৃত্যু ১৯ জুলাই ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে কারা প্রদেশে
সন্তান খান-ই-খান (মাহমুদ), আরকলি খান, কদর খান (সুলতান রুকনউদ্দিন ইব্রাহিম) ও মালিকা-ই-জাহান (আলাউদ্দিন খালজির স্ত্রী)
পত্নী মালিকা-ই-জাহান
ধর্ম সুন্নি ইসলাম
উপাধি জালালউদ্দিন ফিরোজ শাহ
হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সিংহাসনে বসলেও, ব্যক্তিগতভাবে সুলতান ধর্মভীরু, দয়ালু, ন্যায়পরায়ণ, উদার ও শান্তিপ্রিয় ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী তুর্কিদের প্রতি কঠোর নীতি গ্রহণ করার পরিবর্তে তিনি তাদের প্রতি ক্ষমা, উদারতা ও সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি তুর্কি, অ-তুর্কি, ভারতীয় মুসলমান সকলের সমন্বয়ে একটি নতুন শাসকগােষ্ঠী গঠনে তৎপর হন। ডঃ সতীশ চন্দ্র বলেন যে, দিল্লির সুলতানদের মধ্যে তিনিই প্রথম যিনি সুস্পষ্টভাবে এই মত প্রকাশ করেন যে, শাসিতের স্বেচ্ছাকৃত সমর্থনের উপরেই রাষ্ট্র গঠিত হওয়া উচিত। তুর্কি আমিরদের তিনি নিজ নিজ পদে বহাল রাখেন এবং অনেকের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। বলবনের ভ্রাতুস্পুত্র ও দিল্লির সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার মালিক চাজ্জু-কে কারা ও মানিকপুরের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। বলবনের ব্যক্তিগত বন্ধু এবং দিল্লির কোতােয়াল ফকরউদ্দিন এবং দিল্লির প্রধান উজির খাজা খতির তাদের পূর্বপদে বহাল করেন।

প্রথম জীবন: জালালউদ্দিন ছিল খলজি গোত্রের তুর্কি। তাঁর পূর্বপুরুষরা তুর্কিস্তান থেকে বর্তমান আফগানিস্তানে চলে আসেন, যেখানে তারা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হেলমান্দ ও লামঘানে বাস করেছিল। হেলমান্দ নদীর দুই উপকূল খলজ নামে পরিচিত ছিল। খলজ থেকে তারা খলজি নামে পরিচিত হন। সিংহাসনে আরোহণের পূর্বে জালালউদ্দিন মালিক ফিরোজ নামে পরিচিত ছিল। তিনি এবং তাঁর ভাই শিহাবুদ্দিন (আলাউদ্দিন খলজির পিতা) বেশ কয়েক বছর ধরে দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের সেবা করেছিলেন। তিনি সর-ই-জান্দারের (রাজ দেহরক্ষীদের প্রধান) পদে অধিষ্ঠিত হন এবং পরবর্তীকালে সামানা প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন। সামানার গভর্নর হিসাবে তিনি মঙ্গোল আক্রমণকারীদের সাথে সুলতানিয়ার বিরোধে নিজেকে আলাদা করেছিলেন।

সিংহাসন দখল: বলবনের মৃত্যুর পর বুঘরা খানের পুত্র কাইকোবাদ মুইজউদ্দিন উপাধিতে নিয়ে সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন দুর্বল শাসক। তিনি প্রধানমন্ত্রী নিজামউদ্দীনকে বিষ দ্বারা হত্যা করেন। এই সুযোগে আইতামার কাচান ও আইতামার সুরখা নামে দুজন তুর্কি সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন।মুইজউদ্দিন কাইকোবাদ সামনা প্রদেশ থেকে মালিক ফিরোজকে দিল্লি ডেকে এনে "শায়েস্তা খান" উপাধি দেন, এবং তাকে আরিজ-ই-মামালিক (যুদ্ধমন্ত্রী) পদে নিযুক্ত করেন এবং তাকে বরান অঞ্চলে নিযুক্ত করেন। ১২৮৯ খ্রিস্টাব্দে কাইকোবাদ অসুস্থ হলে তুর্কীগোষ্ঠী তার তিনমাসের পুত্র কায়ুমার্স-কে দ্বিতীয় শামসুদ্দিন উপাধি দিয়ে রাজধানী চবুতরা-ই-নাসিরী প্রাসাদে অভিষেক সম্পন্ন করে এবং কাচান ও সুরখা দুজনে মিলে মালিক ফিরোজকে হত্যার চেষ্টা করে।

এইসময় মালিক ফিরোজ (জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি) ভূগাল পাহাড়ী (বরানীর মতে বাহারপুর) অঞ্চলে সামরিক পরিদর্শনে ব্যস্ত ছিলেন। ভাতিজা নায়েব-ই-হাজির মালিক মহম্মদ চাপ কর্তৃক এই কথা জানতে পেরে মালিক ফিরোজ গিয়াসপুরে চলে যান। তিনি প্রচার করেন, মােঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করার জরুরী প্রয়ােজনেই তিনি দিল্লি ফিরতে পারছেন না। এই সময় কায়ুমার্স এর এক জরুরী নির্দেশ নিয়ে আইতামার কাচান মালিক ফিরােজের শিবিরে উপস্থিত হলে ফিরােজ তাকে হত্যা করেন। অতঃপর মালিক ফিরােজ রাজধানীতে উপস্থিত হন। তার পুত্র প্রাসাদের মধ্যে প্রবেশ করে শিশু সুলতান কায়ুমার্স-কে নিজেদের শিবিরে নিয়ে চলে আসেন। আইতামার সুরখা ও অন্যান্য তুর্কী মালিকরা খলজীদের বাধা দিতে এলে সুরখা সহ অনেকে নিহত হন। বহু তুর্কী এবং অ-তুর্কী আমীর ও মালিক ফিরােজ খলজীর পক্ষ অবলম্বন করলে তিনি অপ্রতিহত ক্ষমতার অধিকারী হন। কাইকোবাদ ও কায়ুমার্স-কে হত্যা করে ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে ১৩ ই জুন দিল্লির সিংহাসনে বসেন। ত্রিপাঠি ও লাল এই ঘটনাকে খলজী বিপ্লব বলেছেন।

মালিক চাজ্জুর বিদ্রোহ: কারা ও মানিকপুরের শাসনকর্তা মালিক চাজ্জু কয়েকজন আমিরের সহযােগিতায় বিদ্রোহ ঘােষণা করেন। তিনি সুলতান মুঘিসুদ্দিন উপাধি ধারণ করেন, নিজ নামে খুৎবা পাঠ করেন এবং নিজ অনুচরদের সঙ্গে দিল্লির দিকে অগ্রসর হন। সুলতানের মধ্যম পুত্র আরকালি খাঁ বিদ্রোহীদের দমন করেন। বন্দি চাজ্জুকে শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় বৃদ্ধ সুলতানের সামনে আনলে তিনি কেঁদে ফেলেন এবং তাকে নিজহস্তে মুক্ত করে এক পানশালায় আপ্যায়িত করেন, এবং মুলতানে পুনবাসন করেন।

দস্যুদের ক্ষমা প্রদর্শন: এই সময় একদল দস্যু দিল্লি ও সন্নিহিত অঞ্চলে লুঠতরাজ, অত্যাচার ও নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করে বেড়াত। সুলতানি সেনারা এ ধরনের কয়েক হাজার দস্যুকে বন্দি করে। বন্দি দস্যুদের অসহায় অবস্থা দেখে সুলতান ব্যথিত হন। সুতরাং তাদের শাস্তি না দিয়ে নৌকাযােগে বাংলার সীমান্তে পাঠিয়ে সেখানে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বাংলায় আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি ঘটে ।

মোঙ্গল আক্রমণ: ১২৯২ খ্রিস্টাব্দে মােঙ্গল নেতা হলাগু-র পৌত্র আবদুল্লা দেড় লক্ষ মােঙ্গল সহ ভারত আক্রমণ করে সামানা পর্যন্ত অগ্রসর হয়। জালালউদ্দিন অতি দক্ষতার সঙ্গে তাদের গতিরােধ করেন এবং পরাজিত মােঙ্গলরা সন্ধি স্থাপনে বাধ্য হয়। অধিকাংশ মােঙ্গল স্বদেশে ফিরে গেলেও চেঙ্গিস খাঁর এক বংশধর কয়েক হাজার অনুগামী নিয়ে দিল্লির উপকণ্ঠে বসবাসের অনুমতি প্রার্থনা করে। জালালউদ্দিন তাদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং দিল্লির উপকণ্ঠে বসবাসের অনুমতি দেন। এরা নব মুসলমান নামে পরিচিত হয়। তাদের রাজকার্যে নিয়ােগ করা হয় এবং সুলতান তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বলা বাহুল্য, এর ফল কিন্তু ভালাে হয় নি। আলাউদ্দিনের আমলে তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

সিদি মৌলা-র প্রতি দুর্ব্যবহার: সিদি মৌলা ছিলেন পারস্য থেকে আগত এক সুফি দরবেশ। তিনি ছিলেন পাক্‌-পাটন এর শেখ ফরিদউদ্দিন গঞ্জ-ই-শকর এর শিষ্য। গিয়াসউদ্দিন বলবনের আমল থেকে তার ধনসম্পদ ও অলৌকিক শক্তির কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ছাড়াও বহু তুর্কি অভিজাত তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। পুত্র আরকলি খাঁ ও গুপ্তচরদের কাছ থেকে সুলতান জালালউদ্দিন জানতে পারেন যে, সিদি মৌলা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং তিনি জালালউদ্দিনকে হত্যা করে নিজে সিংহাসনে বসার চেষ্টা করছেন। এই সংবাদে জালালউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দরবেশকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার নির্দেশ দেন। আরকালি খাঁ উন্মত্ত হাতির পদতলে পিষ্ট করে এই সন্ত ও তার অনুচরদের হত্যা করেন।

Advertisement
জালালউদ্দিন ফিরােজ খলজির রাজ্যজয়: ছয় বছর রাজত্বকালে তিনি দুটি অভিযান পাঠান, যার কোনটিই পূর্ণ সাফল্য পায়নি। ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে রণথম্ভোরের চৌহান হামিরদেবের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করেন। বারংবার আক্রমণের পরেও তিনি রণথম্ভোর দুর্গ জয়ে ব্যর্থ হন এবং অভিযান অসম্পূর্ণ রেখে দিল্লি ফিরে আসেন। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, এই ধরনের একশত দুর্গের থেকে একজন মুসলমানের মাথার একটি চুলের দাম অনেক বেশি। ফিরে আসার পথে ঝইন দুর্গটি দখল করেন। তার দ্বিতীয় অভিযান ছিল মান্দাবারের বিরুদ্ধে। এক সময় এই অঞ্চলটি দিল্লির অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১২৯২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই অঞ্চলটি জয় করেন।

জালালউদ্দিনের রাজত্বকালের অন্যতম উল্লেখযােগ্য ঘটনা হল তার ভ্রাতুপুত্র ও জামাতা এবং কারা ও মানিকপুরের শাসনকর্তা আলি গুরসাম্প (পরবর্তীকালের আলাউদ্দিন খলজি)-এর দাক্ষিণাত্য অভিযান। ১২৯৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতানের অনুমতি নিয়ে তিনি মালব আক্রমণ করেন এবং রাজধানী ভিলসা লুণ্ঠন করে প্রচুর ধনরত্ন আহরণ করেন। এতে তার লােভের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই সম্পদ দিয়ে তিনি গােপনে সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি করেন। ভিলসা আক্রমণকালে তিনি দেবগিরির ধনসম্পদের প্রাচুর্য সম্পর্কে অবহিত হন। ১২৯৪ খ্রিস্টাব্দে সুলতানের অনুমতি না নিয়ে তিনি দেবগিরি আক্রমণ করে দেবগিরির রাজা শংকরদেবকে পরাজিত করে প্রচুর সম্পদ সংগ্রহ করেন। এতে তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও বৃদ্ধি পায়।

জালালউদ্দিন ফিরােজ খলজির হত্যা: ১২৯৫ সালের শেষদিকে জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি গােয়ালিয়রে শিকার অভিযানের সময় আলাউদ্দিন খলজির দক্ষিণ ভারত অভিযান ও সম্পদ সংগ্রহের খবর পান। এই খবর শুনে আহম্মদ চাপ বেশ শঙ্কিত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে কারায় গিয়ে আলাউদ্দিনকে কিছুটা শিক্ষা দেবার পরামর্শ দেন। কিন্তু ক্ষমাশীল সুলতান জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি দিল্লী ফিরে আসেন। দিল্লীতে আলাউদ্দিনের ভ্রাতা আলমাস বেগ (পরে উলুঘ খাঁ) ছিলেন যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি। জালালউদ্দিন ফিরােজ খলজির উপর তার প্রভাবও কম ছিল না। উলুঘ খাঁ জালালউদ্দিন ফিরােজকে বােঝান যে, কৃতকার্যের জন্য অনুতপ্ত আলাউদ্দিন সুলতানের মুখোমুখি হতে লজ্জাবোধ করছেন। এই বক্তব্যগুলো ছিল উলুঘ খাঁ ও আলাউদ্দিন খলজির ষড়যন্ত্র। জালালউদ্দিন ফিরােজ খলজি মানিকপুরে উপস্থিত হলে উলুঘ খাঁ তাকে সৈন্য ছাড়া দুচারজন দেহরক্ষীসহ গঙ্গা অতিক্রম করে পশ্চিমতীরে যাওয়ার জন্য অনুরােধ করেন। কারণ সসৈন্যে সুলতানকে দেখলে লজ্জিত ও ভীত আলাউদ্দিন হয়তাে আত্মহত্যা করতে পারেন। এভাবে সরলহৃদয় ফিরােজ উলুঘ খাঁর কথায় বিশ্বাস করে এবং সামান্য কয়েক জন অনুচর নিয়ে গঙ্গা অতিক্রম করে আলাউদ্দিনের শিবিরে প্রবেশ করেন। কিন্তু হায়রে ভাগ্য! বৃদ্ধ ফিরােজ স্নেহের আবেগে প্রিয় ভ্রাতুস্পুত্রকে আলিঙ্গনাবদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে আলাউদ্দিনের অনুচর মামুদ সেলিম ফিরােজর পিঠে অস্ত্রাঘাত করে। আহত ফিরােজ প্রাণরক্ষার জন্য ছুটতে শুরু করেন। কিন্তু আলাউদ্দিনের অপর অনুচর ইখতিয়ার উদ্দিন অস্ত্রাঘাতে তার মুণ্ডচ্ছেদ করে (১২৯৬ খ্রিস্টাব্দ ১৯ জুলাই)। আহম্মদ চাপ গঙ্গার অন্য পারে ছিলেন। দ্রুত স্থান ত্যাগ করে তিনি কোনক্রমে প্রাণরক্ষা করেন। আলাউদ্দিন মৃত সুলতানের ছিন্নমুণ্ড বর্শাবিদ্ধ করে কারা-মানিকপুর ও অযােধ্যার মানুষকে প্রদর্শন করেন এবং নিজেকে দিল্লীর সুলতান বলে ঘােষণা করেন। জালালউদ্দিন ফিরােজের মৃত্যু প্রমাণ করে যে, সিংহাসনে অধিষ্ঠিত থাকার জন্য প্রয়ােজন রক্ত ও লৌহ নীতির অনুশীলন, সেখানে দয়া-মায়া-উদারতা বা মানবিকতার তত্ত্ব কোনো মূল্য নেই।

জালালউদ্দিন ফিরােজ খলজির অবদান: সুলতান জালালউদ্দিন ফিরােজ খলজী বিপ্লব সংঘটিত করে ভারত ইতিহাসে এক নব যুগের সূচনা করে। জালালউদ্দিন ফিরোজ হলেন দিল্লির প্রথম সুলতান যার শাসব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল প্রজাকল্যাণ। অধ্যাপক নিজামী বলেন, সংস্কারক অশোকের মতোই তিনি মানবিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি তুর্কি, অ-তুর্কি, আফগান, ভারতীয় মুসলমান সবাইকে নিয়ে একটি শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এতদিন পর্যন্ত শাসনব্যবস্থায় তুর্কিরাই ছিল সর্বেসর্বা, কিন্তু তার আমলে শাসকশ্রেণির ভিত্তি সম্প্রসারিত হয়। তিনি তুর্কি, অ-তুর্কি সবার প্রতি সন্তষ্টি বিধানের নীতি গ্রহণ করেন। ডঃ নিজামি বলেন যে, জালালউদ্দিন খলজির শাসনকাল মামেলুক সুলতানদের পরীক্ষামূলক শাসনব্যবস্থা এবং আলাউদ্দিন খলজির আমলের সুপরিকল্পিত সাম্রাজ্যবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে সেতুবন্ধন করেছে। জালালউদ্দিনের দরবারে আমির খসরু তার বিজয় স্মরণে মিফতাহ-আল-ফুতু (১২৯১ খ্রিস্টাব্দ) রচনা করেন।
Advertisement