Iqta System During Delhi Sultanate - সুলতানি যুগের ইকতা ব্যবস্থা

- September 12, 2019
ইক্তা বা ইকতা-র আক্ষরিক অর্থ হল একটি অংশ বা একটি এলাকা। ইকতা হল সুলতানি আমলের এক ধরনের ভূমিব্যবস্থা। সুলতানরা সামরিক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের বড়াে বড়াে ভূখণ্ড দান করতেন। এই ভূখণ্ড বা অঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায়, সৈন্য প্রতিপালন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল ওইসব কর্মচারীর ওপর। এই ধরনের সামরিক অঞ্চলকে বলা হত ইকতা, এবং ইকতার প্রাপককে বলা হত মুকতি বা ইকতাদার। কখনও বা তারা ওয়ালি বা উলিয়ৎ নামেও অভিহিত হতেন। ইকতা প্রথা ছিল প্রাদেশিক শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সুলতান ইলতুৎমিস ভারতে ইকতা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। কে. এম. আশরাফের মতে, সম্ভবত খলিফা মুকতদির ছিলেন ইকতা ব্যবস্থার উদ্ধাবক। সাম্রাজ্যর রাজনৈতিক কাঠামোকে কোনভাবে দায়বদ্ধ না করে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ ও তা বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়। একজন সুলতানের অধীনে দুধরনের জমি থাকত। (ক) সুলতানের খাস জমি বা খালিসা জমি — সরকারি কর্মচারীরা এই জমির রাজস্ব সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করে পুরােটাই রাজকোষে জমা দিতেন। (খ) দ্বিতীয় ধরনের ধরনের জমিকে বলা হয় ইকতা। সুলতান এই জমি নির্দিষ্ট শর্তে এবং নির্দিষ্ট কাজের বিনিময়ে তার সেনাপতি, সৈনিক বা অভিজাতদের মধ্যে বন্টন করে দিতেন।
Iqra System of the Sultanate period
ইকতা ব্যবস্থার প্রকারভেদ (Types of Iqta system): একাদশ শতকের বিখ্যাত মুসলিম আবুল হাসান হাসান মাওয়ারদি ইকতা-কে দুভাগে বিভক্ত করেন — (ক) ইকতা-ই-তমলিক - এটি ছিল ভূমি ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত এবং (খ) ইকতা-ই-ইস্তিঘলাল - এটি ছিল সরকারি অনুদান, প্রশাসনের সঙ্গে এর কোনও সংযােগ ছিল না। ভারতে প্রথম শ্রেণির ইকতা-ই বন্টিত ও বিবর্তিত হয়েছে। ভারতে আসার আগে ইকতা ব্যবস্থা তুর্কিদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।

ইকতা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য (Iqta System Features): একাদশ শতকের তুর্কি নৈয়ায়িক নিজাম-উল-মুলক তুসির লেখা সিয়াসৎনামা গ্রন্থ থেকে ইকতা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি জানা যায়। (১) ইকতা-গ্রহীতাকে বলা হত মাকতি। (২) মাকতি কৃষকদের কাছ থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় করতেন এছাড়া কৃষকদের উপর তার অন্য কোনও অধিকার ছিল না। (৩) প্রজারা তাদের প্রাপ্ত রাজস্ব পরিশােধ করার পর তাদের জীবন, সম্পত্তি, পরিবার ও পণ্যের উপর মাকতির কোনও অধিকার থাকবে না। (৪) ভূমি ও কৃষক সমাজ ছিল সুলতানের সম্পত্তি। এর উপর মাকতির কোনও অধিকার ছিল না। (৫) প্রজা বা কৃষক প্রয়োজনবােধে সুলতানের দরবারে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থা জানাতে পারত। মাকতি কোনওভাবে তাকে বাধা দিতে পারত না। (৬) ইকতার নিয়ম-বিধি ভঙ্গ করলে সুলতান মাকতি-কে শাস্তি দিতে এবং তার ইকতা বাজেয়াপ্ত করতে পারতেন। (৭) দেশ ও প্রজা ছিল সুলতানের। মাকতি তার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন মাত্র। (৮) মাকতি ততদিনই তার পদে বহাল থাকবেন, সুলতান যতদিন তা চাইবেন। (৯) ইকতার রাজস্ব ভােগ করার জন্য মাকতি-কে অবশ্যপালনীয় কয়েকটি কর্তব্য করতে হত। তিনি ইকতার আয় থেকে সেনাবাহিনী পােষণ করতেন এবং প্রয়ােজনে সুলতানকে সেনা সরবরাহে বাধ্য ছিলেন। তাকে ইকতার রাজস্ব দেওয়া হত মূলত সেনাবাহিনী পােষণের জন্য। তাই বলা যায় যে, মাকতির অবশ্যপালনীয় কর্তব্য ছিল দুটি — তিনি ছিলেন কর-সংগ্রাহক এবং সেনাবাহিনীর অধ্যক্ষ ও বেতনদাতা (Cambridge Economic History, Vol I, 1984, P. 68-69)। (১০) মাকতি সেনাবাহিনী ও প্রশাসনিক সকল ব্যয় মিটিয়ে উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেবে।

ইলতুৎমিশ আমলে ইকতা ব্যবস্থা (Iqta system during Iltutmish period): সুলতানি শাসনের সুচনায় ভারতে ইক্তা ব্যবস্থা কোনও সুসংবদ্ধ রূপ ছিল না। এই অবস্থায় ইলতুৎমিস প্রথম ইকতা ব্যবস্থাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উদ্যোগী হন। (১) তিনি মাকতি-দের এক ইকতা থেকে অন্য ইকতায় বদলির নীতি গ্রহণ করেন, যাতে কোনও ইকতায় কারাে বংশানুক্রমিক অধিকার গড়ে না ওঠে। (২) মাকতিরা সুলতানের প্রয়ােজনে সেনা পাঠাতে বাধ্য ছিল। (৩) বড়ো বড়ো ইকতা-র অধিপতিরা প্রয়ােজনে ছােটো বড়ো নানা ইকতায় জমি পুনর্বণ্টন করতে পারত। এইভাবে ভারতে এক নতুন অভিজাততন্ত্র গড়ে উঠতে থাকে। (৪) তিনি ইকতা বণ্টনের পাশাপাশি খালিসা জমির পরিমাণ বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।

গিয়াসউদ্দিন বলবন আমলে ইকতা ব্যবস্থা (Iqta system during Ghiyasuddin Balban): গিয়াসউদ্দিন বলবন ইক্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন সাধন করেন। (১) নির্দিষ্ট সামরিক কর্তব্যের বিনিময়ে ইকতাগুলি সেনাদের মধ্যে বণ্টিত হয়েছিল। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মাকতি বা ইক্তাদার মৃত, বৃদ্ধ, অকর্মণ্য হয়ে তাদের কর্তব্যপালনে অক্ষম হলে, বলবন সেই ইকতাগুলি বাজেয়াপ্ত করেন। (২) ইকতাগুলি যাতে বংশানুক্রমিক হয়ে না ওঠে সেদিকেও তিনি কঠোর দৃষ্টি দেন। (৩) ইকতাদাররা সুলতানের প্রাপ্য রাজস্ব ফাঁকি দিত। এ কারণে তিনি ইকতা শাসনের সব খরচপত্র মিটিয়ে সল উদ্বৃত্ত অর্থ (ফতাজিল) রাজকোষে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। (৪) ইকতাদারের ফাঁকি রােধ করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রত্যেক ইকতায় খােয়জা নামে এক শ্রেণির হিসাব পরীক্ষক নিয়ােগ করেন, যাদের কাজ ছিল ইকতার আয়, ব্যয় ও উদ্বৃত্ত অর্থের দিকে নজর রাখা। (৫) ইকতাদার যাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা রাখতে বাধ্য হয়, সেদিকেও তিনি কঠোর দৃষ্টি দেন।

আলাউদ্দিন খলজি আমলে ইকতা ব্যবস্থা (Iqta system during Alauddin Khalji period): আলাউদ্দিন খলজি ইকতা ব্যবস্থার গঠন ও চরিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। তার আমলে দিল্লি সুলতানির আয়তন যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, এবং এর ফলে ইক্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়ে। (১) তিনি সম্রাজ্যের দূরবর্তী অঞ্চলগুলিকে ইকতায় পরিণত করে সাম্রাজ্যের অঙ্গীভূত করেন, এবং দিল্লির নিকটবর্তী স্থানগুলিকে খালিসায় পরিণত করেন। নিকটবর্তী অঞ্চলগুলির উপর নজর রাখা বা তত্ত্বাবধান করা সহজ ছিল। মধ্য দেয়াব ও রােহিলখণ্ড খালিসা-র অন্তর্ভুক্ত হয়। (২) সুলতান নিজস্ব অশ্বরােহী বাহিনীকে বেতনের পরিবর্তে ইকতা দানের ব্যবস্থা বাতিল করেন। এর ফলে ইকতা জমি খালিসা জমিতে পরিণত হয়। সেনাবাহিনীকে নগদ অর্থে বেতন দেওয়া হয় এবং খালিসা জমির সব আয় রাজকোষে জমা পড়ে। অবশ্য সেনাপতিদের ইকতা দানের প্রথা বজায় থাকে। (৩) ইকতার প্রশাসনে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করা হয়। সুলতান প্রতি ইকতার জমি জরিপ করে করের পরিমাণ ধার্য করার নির্দেশ দেন। দেওয়ান-ই-উজিরাৎ বা রাজস্ব দপ্তর প্রত্যেক ইকতার রাজস্ব বাবদ আয়ের পরিমাণ স্থির করে দেয়। আলাউদ্দিনের রাজস্ব মন্ত্রী শরফ কাইনি মাকতি থেকে শুরু করে নিম্ন গ্রামীণ স্তরে পাটোয়ারি হিসাব রক্ষকের কাগজপত্রও পরীক্ষা করতেন।

গিয়াসউদ্দিন তুঘলক আমলে ইকতা ব্যবস্থা (Iqta system during Ghiyasuddin Tughlaq period): গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ইকতা ব্যবস্থায় ব্যাপক কোনও পরিবর্তন ঘটান নি। সংস্কারের মাধ্যমে তিনি এর কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করতে চেষ্টা করেন। (১) দেওয়ান-ই-উজিরাৎ বা রাজস্ব দপ্তরকে তিনি মাকতিদের প্রাপ্ত রাজস্বের পরিমাণ বছরে ১/১০ বা ১/১১ ভাগের বেশি বাড়াতে নিষেধ করেন। তিনি আশঙ্কা করেন যে মাকতিদের উপর চাপ দিলে শেষ পর্যন্ত কৃষকদের উপর চাপ বাড়বে। (২) যদি কোনও মাকতি তার প্রাপ্য অপেক্ষা ১/১০ বা ১/১১ ভাগ বেশি অর্থ আদায় করত, তা তিনি ক্ষমার চোখে দেখতেন। (৩) অনুরূপভাবে মাকতিরাও তাদের অধীনস্থ কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১/২ বা ১ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ আদায় ক্ষমার জমা চোখে দেখবে। (৪) সামরিক বাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের রাজস্বের কোনও আয় মাকতি নিতে পারবে না।
Advertisement

মহম্মদ বিন তুঘলক আমলে ইকতা ব্যবস্থা (Iqta system during Mohammed bin Tughlaq period): মহম্মদ বিন তুঘলকের আমলে ইকতার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। (১) তিনি মাকতির দুটি কাজ—রাজস্ব আদায় ও সেনাবাহিনী পােষণকে মহম্মদ বিন তুঘলক পৃথক করে দেন। তার উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়। (২) ইকতার রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব ইজারা দেওয়া হয়। এক কোটি কয়েক লক্ষ টাকা রাজকোষে জমা দিয়ে নিজাম মাঈন কারায় এবং নসরৎ খান বিদরে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পান। (৩) তিনি সেনাদের নগদ বেতন দানের ব্যবস্থা করেন। মাসালিক অল অবসার নামক একটি আরবি গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, এই আমলে দশ হাজার সেনার সেনাপতি খান থেকে শুরু করে একশাে সেনার পরিচালক সিপাহশালার-ও বেতনের পরিবর্তে ইকতা ভােগ করনে। সুতরাং এর ফলে সেনাদের বেতন দানের দায়িত্ব আর সেনাপতির থাকে না। এ সময় থেকে ইকতা বলতে কেবলমাত্র সেনাপতিদের ব্যক্তিগত বেতনই বোঝাত। এইসব সেনাপতিদের যা বেতন ছিল, তার চেয়ে কম আয়সম্পন্ন ইকতা তাদের বরাদ্দ করা হত। সুলতান জানতেন যে, মাকতিরা কৃষকের উপর অত্যাচার চালিয়ে ঘাটতি অর্থ আদায় করে নেবে। (৪) ইকতার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সেনাপতিদের সরিয়ে দেওয়ায় তারা সুলতানের উপর ক্রুদ্ধ হন।

ফিরােজ তুঘলক আমলে ইকতা ব্যবস্থা (Iqta system during firuz Shah Tughluq period) ফিরােজ তুঘলক অভিজাতদের নানা সুযােগ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিংহাসনে বসেন। তার আমলে ইকতার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমতে থাকে। (১) তিনি ইকতা ব্যবস্থাকে বংশানুক্রমিক করে দেন। কোনও মাকতি বা ওয়াঝ ভােগীর মৃত্যু হলে তার পুত্র বা জামাতা বা বিধবা স্ত্রী তার উত্তরাধিকারী বলে বিবেচিত হতেন। (২) ব্যক্তিগত বেতন হিসেবে প্রাপ্ত ইকতা এবং সেনা ভরণপােষণের জন্য নির্দিষ্ট ইকতা পৃথক ছিল, কিন্তু কোনও নিয়ন্ত্রণবিধির অভাবে এই বিভাজন ক্রমশ মুছে যাচ্ছিল। (৩) তিনি ব্যাপকভাবে ইকতা বিতরণ করায় খালিসা জমির পরিমাণ ব্যপকভাবে হ্রাস পায়। (৪) সাধারণ সৈনিকদের বেতনের পরিবর্তে গ্রামের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের রাজস্বের একাংশ বা ওয়াঝ দেওয়া হয়। যাদের ওয়াঝ দেওয়া সম্ভব হত না, তাদের নগদ অর্থে বেতন দেওয়া হত। (৫) তিনি অভিজাতদের বেতনবৃদ্ধি ঘটান। ফিরােজ তুঘলক খান ও মালিক পদমর্যাদার সেনাপতিদের ব্যক্তিগত বেতন বৃদ্ধি করে ৪, ৬ বা ৮ লক্ষ তঙ্কা করেন। উজির-এর বেতন ধার্য হয় ১৩ লক্ষ তঙ্কা। এই বেতনের পরিবর্তে তারা পৃথক ইকতা বা পরগণা লাভ করতেন।

সৈয়দ ও লােদি আমলে ইকতা ব্যবস্থা (Iqta system during Sayyids and Lodis period): সৈয়দ ও লােদি আমলে ফিরােজ তুঘলকের আমলের ইকতা ব্যবস্থা বজায় থাকে, তবে ইকতা শব্দটি অপসৃত হয়। তার বদলে সরকার ও পরগণা শব্দ দুটি ব্যবহৃত হতে থাকে। কতকগুলি পরগণা নিয়ে একটি সরকার গঠিত হয়, এবং এই সরকার কোনও অভিজাত ব্যক্তিকে ইকতা হিসেবে দান করা হয়। তিনি আবার সেই সরকারের কিছু অংশ বা পরগণা তার অধীনস্ত কোনও ব্যক্তিকে দিতেন। নানা দুর্বলতা সত্ত্বেও ইক্তা ব্যবস্থার মূল কাঠামােটি লােদি আমলেও বজায় থাকে। ইকতা ব্যবস্থার এই বৈশিষ্ট্যগুলির উপর ভিত্তি করে মােগল যুগে জায়গিরদারি প্রথার উদ্ভব হয়।

ইকতা ব্যবস্থার গুরত্ব (Iqta System Important): সুলতানী আমলে ইকতা ব্যবস্থার গুরুত্ব হল - (১) ইকতা ব্যবস্থার মাধ্যমে তুর্কি সুলতানরা ভারতের নববিজিত অঞ্চলে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন। (২) এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সুলতান দূরবর্তী স্থানগুলির সঙ্গে যােগাযােগ রক্ষায় সক্ষম হন। (৩) এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নববিজিত স্থানগুলি থেকে সুলতানি শাসকরা রাজস্ব আদায়ে সক্ষম হন। (৪) ইকতা বিলি করে সুলতানি আমির ওমরাহদের সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব হয়। (৫) এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আদি পর্বের দিল্লির সুলতানরা তৎকালীন ভারতে প্রচলিত সামন্ততান্ত্রিক প্রবণতার অবসান ঘটাতে সক্ষম হন। (৬) বলা হয় যে, এই প্রথা সামন্ততান্ত্রিক প্রবণতার বিকাশ ঘটায়। এ কথা ঠিক যে, যে কোনও ভূমিদান ব্যবস্থাই সামন্ততন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। মাকতিদের মধ্যে এই প্রবণতা ছিল যা প্রতিহত করার জন্য রাষ্ট্র কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। (ক) মাকতি জমির মালিক ছিলেন না—সুলতানের ইচ্ছায় তিনি তা ভােগদখল করতেন মাত্র। (খ) এই প্রথা বংশানুক্রমিক ছিল না। (গ) মাকতিদের মাঝে মাঝে বদলি করা হত। (ঘ) মাঝে মাঝেই এখানে সরকারি হস্তক্ষেপ ঘটত। এ সত্ত্বেও তারা স্বাধীন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হত।

পাঠসূচী (Reference):
1. ভারতের ইতিহাস - জীবন মুখোপাধ্যায়
2. সুবোধ মুখোপাধ্যায় - মধ্যযুগে ভারতের অর্থনৈতিক জীবন (১২০০-১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ)
3. অনিরুদ্ধ রায় - সুলতানী আমলে অর্থনৈতিক ইতিহাস

  1. 4. অধ্যাপক গোপালকৃষ্ণ পাহাড়ী - মধ্যকালীন ভারত (৬৫০-১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ)
Advertisement