PayPal

ত্রিপুরী কংগ্রেস ১৯৩৯

author photo
- Friday, August 02, 2019

ত্রিপুরী কংগ্রেসের গুরুত্ব

ভারতীয় রাজনীতিতে গান্ধী-বােস দ্বন্দ্বের সূচনা একটি উল্লেখযােগ্য অধ্যায়। বামপন্থী ও সমাজতন্ত্রী শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসি রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে। এরকম এক রাজনৈতক পরিস্থিতিতে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরিতে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন ১৫৮০×১৩৭৫ ভোটে গান্ধীজির মনোনীত প্রার্থী সীতারামাইয়ার-কে পরাজিত করেন। গান্ধীজি মন্তব্য করেন, "সীতারামাইয়ার পরাজয় আমার পরাজয়, এই পরাজয়ে আমি আনন্দিত"। তিনি আরো বলেন, "হাজার হোক সুভাষচন্দ্র দেশের শত্রু নয়। যে সকল সংখ্যালঘু তার সঙ্গে কাজ করতে অসুবিধা বোধ করবেন তারা কংগ্রেস ছেড়ে চলে আসতে পারেন।" এর ফলস্বরূপ কংগ্রেস এবং সুভাষচন্দ্রের মধ্য বৈরিতা সৃষ্টি হয়।
ত্রিপুরী কংগ্রেস নেহেরু ও বোস
১) ১৫ জন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যের মধ্যে ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করলেন এবং অভিযোগ জানালেন যে, নবনির্বাচিত সভাপতি সুভাষচন্দ্র তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। একমাত্র কমরেড বঙ্কিম মুখার্জী সুভাষচন্দ্র বসুর পক্ষে ছিলেন।
২) গান্ধীজি তার সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় সহজে মেনে নিতে পারেন নি। সীতারামাইয়ার পরাজয়কে তিনি নিজের পরাজয় বলে মনে করেছিলেন।
৩) গান্ধীজির আদর্শ ও নীতি নিয়ে গােবিন্দবল্লভ পন্থের পন্থপ্রস্তাব সুভাষচন্দ্রের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
৪) সুভাষচন্দ্রের প্রগতিশীল চিন্তাভাবনাকে উদ্দেশ্য প্রণােদিত রাজনৈতিক পরিকল্পনা বলে সমালােচনা করে কংগ্রেস কার্যনির্বাহক পরিষদের সদস্যরা পদত্যাগ করেছিলেন।
৫) অপমানিত সুভাষচন্দ্র নিজ ভাবমুর্তি বজায় রাখতে ফরওয়ার্ড ব্লক দল (৩ মে, ১৯৩৯) গঠন করেছিলেন এবং গান্ধিজি জাতীয় কংগ্রেসে নিজ আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
৬) সুভাষ ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করে কংগ্রেসের পতাকার নীচে কাজ করতে চাইলে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির দক্ষিণ পন্থী সদস্যরা তাকে দল গঠনের অভিযােগে বহিস্কার করে।
৭) হতাশ সুভাষচন্দ্র মন্তব্য করেন যে, আমি যখন দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষটির আস্থা হারিয়েছি তখন আমার আর সভাপতি থেকে কাজ নেই।