PayPal

দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা ১৯৭৫

author photo
- Friday, August 02, 2019

দাক্ষিণাত্যে বিদ্রোহের কারণ ও গুরত্ব

১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে পুণের কাছে কারদে গ্রামে ও পরে বােম্বাই প্রেসিডেন্সিতে মাড়ােয়ারি ও গুজরাটি মহাজনদের (সাহুকার ও বানিয়া সম্প্রদায়) বিরুদ্ধে এক ব্যাপক কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয়। এই বিদ্রোহের গুরুত্ব হ্রাস করার জন্য ব্রিটিশ সরকার এর নাম দেন Deccan Riot বা দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা। এই বিদ্রোহ ইংরেজ সরকার ও অত্যাচারী মহাজনদের ভীত ও সন্ত্রস্ত করে তােলে। এই বিদ্রোহের নানা কারণ ছিল।
দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা ১৯৭৫
১) বাংলার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতাে মহারাষ্ট্রে সরকার রায়তওয়ারি ভূমি বন্দোবস্ত চালু করে। এই বন্দোবস্ত অনুযায়ী উচ্চহারে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করে তাদের জমি বন্দোবস্ত দিতেন এবং সরাসরি কৃষক কাছে সেই রাজস্ব আদায় করতেন। দিনে দিনে এই রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হত এবং অজন্মার দিনেও কৃষকরা ক্রমবর্ধিত রাজস্ব দিতে বাধ্য থাকত।
২) কৃষকরা কোনও উপায় না পেয়ে মহাজনদের দ্বারস্থ হত। মহাজনরা শতকরা ৩৫ থেকে ৫০ টাকা সুদে কৃষকদের ঋণ দিত ও চক্রবৃদ্ধি সুদের জালে কৃষকদের আবদ্ধ করত। আদালতের দ্বারস্থ হলেও শােষণমুক্তি ঘটত না। মহাজনদের শোষণ অত্যাচারের সপক্ষে মদত দিত স্থানীয় ব্রিটিশ প্রশাসন। মহারাষ্ট্রে কুনবি কৃষকরা তাই সর্বস্বান্ত হয়ে বিদ্রোহের পথ বেছে নেয়।
৩) ১৮৬১-৬৫ আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় ইউরােপের বাজারে আমেরিকার তুলো। আমদানি হ্রাস পায়। ইউরােপের বাজারে ৬০ এর দশকে তুলোর অস্বাভাবিক চাহিদা থাকায় মহারাষ্টের কৃষকেরা মহাজনদের কাছে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তুলোর চাষ শুরু করে। ১৮৭০ দশকে তুলোর চাহিদা হঠাৎ কমে গেলে কৃষকদের ঋণের বোঝা বাড়ে ও তারা মহাজনদের শােষণের কবলে পড়ে।
৪) ১৮৬৬-৬৭ খ্রিস্টাব্দে দাক্ষিণাত্যে তীব্র অনাবৃষ্টি এবং ১৮৬৮-৭৩ খ্রিস্টাব্দে ভয়ংকর অজন্মা দেখা দেয়। ১৮৭০-৭১ সালে কৃষিপণ্যের মূল্য কমে যায় ও কৃষকদের দুরাবস্থা বাড়ে।
৫) জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সরকার বিনিয়ােগের পরিমাণ হ্রাস করলে কৃষকদের কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়। রুগ্ন কৃষিতে কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের মজুরি হ্রাস পায়।
৬) ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বর মাসে মহাজন কালুরাম মাড়ােয়ারি মাত্র ১৫০ টাকা ঋণের জন্য বাবাসাহেব দেশমুখ নামে এক সম্পন্ন চাষিকে জমি থেকে উচ্ছেদ করলে পুনা সহ আহম্মদনগরে ব্যাপক আকারে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

দাক্ষিণাত্যে বিদ্রোহের প্রকৃতি : বিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে রমেশচন্দ্র মজুমদার মন্তব্য করেন যে, বিদ্রোহী কৃষকেরা গৃহ, দোকান, গুদামঘর লুণ্ঠন করত, এগুলিতে অগ্নিসংযােগ করত, মহাজনদের ওপর নানা নির্যাতন চালাত, কিন্তু সাধারণভাবে তাদের হত্যা করত না।

দাক্ষিণাত্যে বিদ্রোহের ফলাফল : দাক্ষিণাত্যে বিদ্রোহের ফলে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে দাক্ষিণাত্য দাঙ্গা কমিশন গঠিত হয় ও ওই কমিশনের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে সরকার শেষ পর্যন্ত ১৮৭৯ খ্রীঃ ডেকান এগ্রিকালচারাল রিলিফ আইন (দাক্ষিণাত্য কৃষক ত্রাণ আইন, ১৮৭৯ খ্রীঃ) পাশ করা হয়। এই আইন দ্বারা মহাজনদের নাম রেজিষ্ট্রী করা ও আইনমাফিক হিসেবপত্র রক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়। কৃষকের জমি যাতে সহসা হাত ছাড়া না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা করা হয়। সুদের হার যাতে মাত্রা ছাড়াতে না পারে সেজন্য আইন করা হয়।

No comments:

Post a Comment