হরপ্পা সভ্যতার গুরত্ব

author photo
- Tuesday, July 09, 2019

সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্ব

সভ্যতার ইতিবৃত্তে এবং বিশেষ করে ভারতবর্ষের ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম। সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কার ভারতের ইতিহাসে এক নূতন এবং গৌরবমণ্ডিত অধ্যায়। ১৯২২ - ২৪ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, দয়ারাম সাহানি ও মাশালের প্রচেষ্টায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়েছে।
হরপ্পা বা সিন্ধু সভ্যতার পোড়ামাটির পাত্র
১) সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত ঐতিহাসিকদের ধারণা ছিল ভারতীয় সভ্যতা আর্য সভ্যতা থেকে উদ্ভূত। এ কারণে প্রাচীনত্বের দিক দিয়ে ভারতীয় সভ্যতা এতদিন ঐতিহাসিকদের স্বীকৃতি লাভ করেনি। কিন্তু সিন্ধু প্রদেশের মহেনজোদারােতে এবং পশ্চিম পাঞ্জাব প্রদেশের হরপ্পার ভূগর্ভ থেকে দুটি শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কারের ফলে আজ নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতীয় সভ্যতা আর্য সভ্যতা হতেও সভ্যতার প্রাচীনতর।

২) প্রাক আর্য যুগে ভারতবাসীরা ছিল অসভ্য ও বর্বর, আর্যদের সংস্পর্শে এসেই তারা প্রথম সুসভ্য হয়ে উঠে, এ ধারণা যে কত ভ্রান্ত তা সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কারের ফলে প্রমাণিত হয়েছে।

৩) আজ সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেন যে ভারতীয় সভ্যতা প্রাচীন সুমেরীয়, মিশরীয় বা ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সমকালীন। “India can now lay claim to the honour of being pioneer civilization along with Sumer, Babylon, Egypt and Assyria.”

৪) মিশর, সুমেরু দেশের অধিবাসীদের সঙ্গে সিন্ধু সভ্যতার যােগাযােগ ছিল। মেসােপটেমিয়া সভ্যতার অঞলে সিন্ধু সভ্যতার অনুরূপ সিলমােহর পাওয়া গেছে তা থেকে এরূপ সিদ্ধান্ত করা অযৌক্তিক নয়।

৫) সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কারের ফলে ভারতের ইতিহাস যে অন্তত খ্রিস্টপূর্ব তিন থেকে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন তা প্রমাণিত হয়েছে। আরও প্রমাণিত হয় যে ভারতবর্ষ পৃথিবীর সুপ্রাচীন দেশগুলির অন্যতম।

৬) প্রাক বৈদিক যুগ থেকে যে এদেশের নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাস আরম্ভ হয়েছে — নিঃসন্দেহে এটি একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক তথ্য।

৭) দৈনন্দিন ব্যবহুত দ্রব্য, মূর্তি, অস্ত্রশস্ত্র, পাত্র, অলংকার ইত্যাদি শ্রমিক, কৃষক ও কারিগরদের নৈপুণ্যের পরিচয় দেয়।

৮) ভাস্কর্য ও চিত্রকলা প্রভৃতি শিল্পেও এ যুগের শিল্পীরা অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিল। হরপ্পায় প্রাপ্ত শীলমােহরের উপর অঙ্কিত বৃষ প্রভৃতি পশুর চিত্র, চিনামাটির পাত্রের উপর অঙ্কিত ফুল, পাতা, পাখি ও হরিণের চিত্র, মানুষের মূর্তিগুলি শিল্প রসিকদের বিশেষ সমাদর লাভ করেছে। হরপ্পায় প্রাপ্ত দুটি মূর্তি ভারতীয় শিল্প স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে খুবই মূল্যবান। এ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের সাম্প্রতিক যে মতামত প্রকাশিত হয়েছে, তা হল, “In the opinion of eminent art critics, for pure simplicity and feeling nothing to compare with this master piece was produced until the great age of Hellas"। সিলমােহর নির্মাণেও তারা যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। নানা আকারের সিল সাধারণত নরম মাটি, হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি হয়।