PayPal

আর্য সভ্যতার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

author photo
- Tuesday, July 23, 2019

বৈদিক যুগের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন) অনার্য কারা?
উত্তর: প্রাচীন ভারতবর্ষের অধিবাসীদের অনার্য বলা হত। ভারতবর্ষের আর্য আগমনের পূর্বে যে সব আদিম অধিবাসী বসবাস করত তারা হল অনার্য। তারা হল - পুরাতন প্রস্তর যুগের অধিবাসী, পরবর্তী প্রস্তর যুগের অধিবাসী, দ্রাবিড় জাতি, তিব্বতীয় জাতি, বিলুপ্ত জাতি।
আর্য সভ্যতার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন) সংহিতা কী?
উত্তর: বিভিন্ন দেবতাদের উদ্দেশ্যে ছন্দে রচিত মন্ত্রের সমষ্টিকে বলা হয় সংহিতা। দেব - দেবির স্তুতিগান ও যজ্ঞের মন্ত্রাদি নিয়ে সংহিতা রচিত। ঋকবেদ সংহিতায় ১০২৮টি সূত্র আছে। সাম, যজু ও অথর্ব বেদের সংহিতাগুলি অধিকাংশই ঋকবেদ সংহিতা থেকে গৃহীত।

প্রশ্ন) বৈদিক সাহিত্য কাকে বলে?
উত্তর: বেদ ও বেদাঙ্গ নিয়ে বৈদিক সাহিত্য রচিত। বেদ চারখন্ডে বিভক্ত, যথা - ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব। প্রতিটি বেদ আবার চারখন্ডে বিভক্ত, যথা — সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ। চতুর্বেদ ছাড়া বেদাঙ্গ ও সুত্র সাহিত্য বৈদিক সাহিত্যের অঙ্গীভুত। বেদাঙ্গ ছয়ভাগে বিভক্ত যথা — শিক্ষা, ছন্দ, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, জ্যোতিষ ও কল্প। এগুলি সবই সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

প্রশ্ন) বর্ণাশ্রম কি?
উত্তর: আর্যদের সমাজে চারটি বর্ণের মানুষ থাকত। এরা হলেন ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। যারা যাগ যজ্ঞ, পূজার্চনা এবং ধর্ম কর্মে রাজাকে সাহায্য করতেন তাদের বলা হয় ব্রাক্ষ্মণ। যারা দেশ সেবা, দেশ শাসন করতেন তারা ক্ষত্রিয়, যারা ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষিকাজ ইত্যাদি করতেন তারা হলেন বৈশ্য। আর এই তিন শ্রেণিকে যারা সেবা করতেন তারা হলেন শূদ্র। ইহাই বর্ণাশ্রম নামে পরিচিত। অবশ্য আর্যরা যখন ভারতে আসেন তখন তারা নিজেদের দেহের আকৃতি ও রং সম্বন্ধে খুবই সচেতন ছিলেন। আর্যরা ছিল গৌরবর্ণ আর এদেশের লােকেরা ছিল কৃষ্ণবর্ণ, এক্ষেত্রে বর্ণ অর্থে রং এবং এই বর্ণ অনুযায়ী আর্যরা নিজেদের স্বতন্ত্র করে নেয়।

প্রশ্ন) চতুরাশ্রম কী?
উত্তর: আর্য পুরুষের জীবন চারটি আশ্রমের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত। একেই বলে চতুরাশ্রম। এগুলি হল ব্রম্নচর্য, গাহস্থ্য, বাণপ্রস্ত, বা ও সন্ন্যাস। প্রথম আশ্রমে প্রত্যেক পুরুষকে গুরুগৃহে বিদ্যাচর্চা করতে হত এবং গুরুর পরিবারের সুখ দুঃখের সমান অংশীদার হতে হত ইহা ব্রহ্মচর্যাশ্রম। দ্বিতীয় গার্হস্থ্য আশ্রমে গুরুর কাছে বিদ্যাচর্চা শেষ করে বিদ্যার্থীকে স্বগৃহে ফিরে এসে গৃহীর জীবন গ্রহণ করতে হত। তৃতীয় বাণপ্রস্থাশ্রমে সাংসারিক দায় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে বনে কুটির বেঁধে নির্লিপ্ত জীবনযাপন করতে হত। চতুর্থ সন্ন্যাস আশ্রমে সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করতে হত এবং নির্জন গুহায় সম্পূর্ণ একান্ত হয়ে আত্মার মুক্তি কামনা করতে হত।

প্রশ্ন) দশ রাজার যুদ্ধ কি?
উত্তর: ঋকবেদে দশ রাজার যুদ্ধ কাহিনি লিপিবদ্ধ রয়েছে। ঋকবেদের উপনিষদ অনুযায়ী রাজা দিবােদাসের পুত্র রাজা সুদাস ছিলেন ভরত গােষ্ঠীর রাজা। সুদাস - এর পুরােহিত ছিলেন বিশ্বামিত্র। বিশ্বামিত্রের কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে সুদাস বিশ্বামিত্রের পরিবর্তে বশিষ্ঠ্যকে প্রধান পুরােহিত পদে নিয়ােগ করেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে বিশ্বামিত্র দশটি আর্য উপজাতি দশ রাজার জোট গড়ে সুদাসকে আক্রমন করেন। বহু বাধা বিপত্তির পর সুদাস যুদ্ধে জয়লাভ করেন। এটি দশ রাজার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই জোটের অন্যতম ছিল অনু, পুরু, যদু, তুৰ্বশ, সঞ্চয় প্রভৃতি।

প্রশ্ন) আরণ্যক কি?
উত্তর: বেদের ব্রাহ্মণ অংশের পরিশিষ্টর নাম হল আরণ্যক। বেদের দার্শনিক তত্ত্ব আরণ্যকে লিপিবদ্ধ আছে। জীবনের সত্যকে উপলদ্ধি করে ঋষিরা অরণ্যে বসে একে রূপ দিয়েছেন বলে এই অংশকে আরণ্যক বলে। যে সকল লােক যাগ যজ্ঞে বিশ্বাস না করে অরণ্যে বা বনে বাস করে এবং আত্মার মুক্তির উপায় চিন্তা করত তাদের কথাই আরণ্যকে স্থান পেয়েছে। এজন্য আরণ্যকে উচ্চ দার্শনিক চিন্তার পরিচয় পাওয়া যায়। আরণ্যকে ভত্তিধর্ম বা জন্মান্তরবাদের বিকাশ ঘটতে দেখা যায়।

প্রশ্ন) পাণিনি কে ছিলেন?
উত্তর: পাণিনি হলেন একজন প্রাচীন যুগের বিখ্যাত ব্যাকরণকার। তার বিখ্যাত ব্যাকরণ গ্রন্থ হল অষ্টাধ্যায়ী। আনুমানিক খ্রিঃ পূর্ব চতুর্থ শতকে এই গ্রন্থ রচিত হয়। পাণিনির ব্যাকরণ হতে ভারতে আর্য সভ্যতার বিস্তার সম্পর্কে ধারণা করা যায়। তার সময়ে প্রজাতন্ত্রগুলির নাম ছিল শঙ্খ, জনপদগুলি ছিল প্রশাসনের বিভাগীয় নাম। তার সময়ে লােকে সুদে টাকা খাটাত। গরীব লােকেরা মজুর খাটত এবং বিনিময়ে নগদ মজুরী বা খাদ্যশস্য পেত। কার্ষাপন, নিস্ক, মাষ প্রভৃতি মুদ্রার প্রচলন তখন ছিল।

প্রশ্ন) ষড়দর্শন কি?
উত্তর: সুত্র সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ষড়দর্শন। এই ষড়দর্শনের ছয়টি ভাগ হল — ১) মহর্ষি কপিলের সংখ্যা দর্শন, ২) পতঞ্জলির যোগদর্শন, ৩) গৌতমের ন্যায় দর্শন, ৪) কণাদের বৈশেষিক দর্শন, ৫) বেদব্যাসের উত্তর মীমাংসা এবং ৬) জৈমিনীর পূর্ব মীমাংসা এগুলিকে একত্রে ষড়দর্শন বলা হয়।

প্রশ্ন) বেদ কি?
উত্তর: আর্যদের প্রাচীনতম সাহিত্য হল বেদ। বেদ সংস্কৃত ভাষায় রচিত। বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান, বেদকে অপৌরুষেয় বা ঈশ্বরের বাণী বলে ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা মনে করে। বেদ প্রধানত চার প্রকার। যথা — ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব। ঋকবেদ মন্ত্র প্রধান, সামবেদ সঙ্গীত প্রধান, যজুবেদ যজ্ঞ অনুষ্ঠানের রীতি ও অথর্ববেদে সৃষ্টির রহস্য, চিকিৎসা, বিজ্ঞান সম্বন্ধে আলােচনা রয়েছে।

প্রশ্ন) সপ্তসিন্ধু অঞ্চল বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: ঋকবেদে আর্যরা আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে পাঞ্জাবের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডকেই সপ্তসিন্ধু আখ্যা দিয়েছিল। সপ্তসিন্ধু বলতে পাঞ্জাবের পাঁচটি নদী যথা, শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী বা রাভী, চন্দ্ৰভাঙ্গা বা চেনাব, বিতস্তা বা ঝিলাম এবং সিন্ধু ও সরস্বতী নদী বিধৌত অঞ্চলকে সপ্তসিন্ধু বলে।

প্রশ্ন) উপবেদ কাকে বলে?
উত্তর: আর্যরা ধর্মশাস্ত্র ছাড়াও ধনুর্বেদ, গন্ধর্ববেদ, অশ্বশাস্ত্র, হস্তিশাস্ত্র, কামশাস্ত্র প্রভৃতি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে। এই শ্রেণির সাহিত্য উপবেদ নামে খ্যাত।

প্রশ্ন) আর্য শব্দটির অর্থ কি?
উত্তর: সংস্কৃত অর্থ ধরলে আর্য শব্দের অর্থ সৎ বংশজাত ব্যক্তি। আবার ম্যাক্সমুলার, উইলিয়াম জোন্স প্রমুখের মতে আর্য হল ভাষার নাম। তাদের মতে আর্য কথাটি কোন জাতিবাচক নয়, আর্য হল আদি ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার নাম। সাধারণত গ্রীক, কেলটিক, পারসিক, ল্যাটিন, গ্রথিক, সংস্কৃত প্রভূতি ভাষায় যারা কথা বলেন তারাই হলেন আর্য। তবে সাধারণত আর্য ভাষাভাষী সাদা বর্ণের এক যাযাবর জনসমষ্টিকে আমরা আর্য বলে থাকি।

প্রশ্ন) আর্য সমস্যা কি?
উত্তর: আর্যদের আদি নিবাস কোথায় ছিল এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে পরস্পর বিরােধী মতপার্থক রয়েছে। এই প্রসঙ্গে মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, ইউরােপের বিভিন্ন অঞ্চল, উত্তরমেরু ও ভারতবর্ষের কথা আলােচিত হয়ে থাকে। তবে কেউ বলেন আর্যরা এদেশীয়। এদেশ থেকে বিদেশে গিয়েছিল, তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে ধরে নেওয়া হয় মধ্য এশিয়ার কিরঘিজ স্থান ছিল আর্যদের আদি নিবাস, তাই আর্যদের আদি নিবাস সম্পর্কে ঐতিহাসিক মহলে যে মতভেদ ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তাই আর্য সমস্যা নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) উপনিষদ বা বেদান্ত কী?
উত্তর: উপনিষদ বা বেদান্ত হল বেদের শেষ ভাগ। যেখানে কর্মফলবাদ, পুনর্জন্মবাদ, পরমাত্মা, ব্রহ্ম ইত্যাদির পরিপূর্ণ আলােচনা রয়েছে। আনুমানিক ৮০০ - ৫০০ অব্দের মধ্যে উপনিষদ রচিত হয়। এ একদিকে সমগ্র বৈদিক চিন্তার পূর্ণ পরিণাম আবার অন্যদিকে বেদ থেকে বহুদুরে নতুন ধর্ম ও দর্শন চিন্তায় অপরিহার্য অংশ। উপনিষদে যজ্ঞ বা পুজো বাদ দিয়ে মানুষের মুক্তির কথা ভাবা হয়েছে এবং কর্মফল অনুযায়ী জীবনে সুখ বা দুঃখ ভােগের তত্ত্ব উপনিষদে পাওয়া যায়। মৃত্যুর পরও মানুষ কর্মফল অনুযায়ী পরজন্মে ফল লাভ করে। মৃত্যুর পরই সব কিছু শেষ হয় না। আত্মা পুণরায় কর্মফল অনুযায়ী জন্মগ্রহণ করে এবং পরে জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায়। ঈশ, কেন, কঠ, প্রশ্ন, মাণ্ডুক্য, ঐতেরিয় ছান্দোগ্য, বৃহদারণ্যক প্রভৃতি ১০৮টি হল উল্লেখযােগ্য উপনিষদ।

প্রশ্ন) আর্য কারা?
উত্তর: আর্য কোনাে জাতির নাম নয়, ভাষার নাম। ইন্দো ইউরােপীয় সাতটি ভাষায় যারা কথা বলত, তারাই আর্য। তবে সংকীর্ণ অর্থে খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০ অব্দ থেকে ভারতে আগত সংস্কৃতভাষী বিদেশি জাতি সাধারণভাবে আর্য নামে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রশ্ন) আর্যদের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল?
উত্তর: কিছু ভারতীয় ঐতিহাসিক মনে করেন যে, ভারতের পাঞ্জাব বা কাশ্মীর অঞ্চল ছিল আর্যদের আদি বাসভূমি। তবে বেশিরভাগ ঐতিহাসিক ইউরােপকে আর্যদের আদি বাসভূমি বলে মেনে নিয়েছেন। অধ্যাপক ব্রান্ডেনস্টাইনের মতে, উরাল পর্বতের দক্ষিণে কিরঘিজের তৃণভূমি অঞ্চল ছিল আর্যদের আদি বাসভূমি।

প্রশ্ন) আর্যাবর্ত বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: আর্যরা প্রথমে সপ্তসিন্ধু অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে ক্রমশ পূর্ণদিকে অভিপ্রয়াণ করে এবং পরবর্তী বৈদিক যুগের মধ্য উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে বিন্ধ্য পর্বত পর্যন্ত বিশাল ভূভাগ আর্য সভ্যতার বিস্তৃত হয়। এই ভূভাগ আর্যাবর্ত নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) ব্রাহ্মণ কি?
উত্তর: বেদ এর অর্থ ও প্রয়ােগ ব্যাখ্যা করার জন্য সমকালে যেসব গ্রন্থ রচিত হয়, তাদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল 'ব্রাহ্মণ'। ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলির কয়েকটি হল ঐতরেয়, কৌশিকী, শতপথ, তৈত্তিরীয়। প্রধানত গদ্যকারে লিখিত ব্রাহ্মণ গ্রন্থগুলিতে বৈদিক স্তোত্রগুলির অন্তনিহিত অর্থ, উৎপত্তি, যাগযজ্ঞ ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন) সূত্র সাহিত্য কি?
উত্তর: চারটি বেদ এবং ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদের জটিল তত্ত্ব পাঠ ও উপলব্ধির জন্য সূত্র সাহিত্য রচিত হয়। সূত্র সাহিত্য দুটি অংশে বিভক্ত — (১) বেদ ও (২) ষড়দর্শন।

প্রশ্ন) সভা ও সমিতি কি?
উত্তর: ঋকবৈদিক রাজাকে পরামর্শ দেবার জন্যে দুটি গণ পরিষদ ছিল — সভা ও সমিতি। সভা ছিল উপজাতীয় বয়ােজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের আর গােষ্ঠীর সমস্ত মানুষদের নিয়ে গঠিত ছিল সমিতি। আকারে ও ক্ষমতায় সমিতি ছিল সভার তুলনায় বড়ো।

প্রশ্ন) ঋগবেদে উল্লিখিত পণি কাদের বলা হত?
উত্তর: ঋগবৈদিক যুগে ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত ধনশালী সম্প্রদায় পণি নামে পরিচিত ছিল। সমাজে এদের যথেষ্ট প্রতিপত্তি ছিল। সম্ভবত পণি শব্দ থেকেই বণিক শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

প্রশ্ন) বৈদিক যুগে ব্রাত্য ও নিষাদ কাদের বলা হত?
উত্তর: আর্যদের বর্ণ ব্যবস্থার বাইরে দুটি জনগােষ্ঠী হল ব্রাত্য ও নিষাদ। ব্রাত্য ছিল ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রভাব বহির্ভূত যাযাবর আর্য জনগােষ্ঠী। নিষাদ বলতে সেইসব অনার্যদের বােঝাতাে যারা চাষ আবাদ করত না এবং পশুপাখি শিকার করে ও বনের ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করত।

প্রশ্ন) বৈদিক যুগে উগ্র ও মধ্যমাসি কাদের বলা হয়?
উত্তর: বৈদিক যুগে বিচারসংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত দুজন কর্মচারী হলেন উগ্র ও মধ্যমাসি। উগ্র নামক কর্মচারী অপরাধীদের ধরে আনত এবং মধ্যমাসি বিবাদ মীমাংসায় মধ্যস্থের ভূমিকা পালন করত।