PayPal

গুপ্ত যুগের ইতিহাসের উপাদান

author photo
- Friday, July 26, 2019

গুপ্ত সাম্রাজ্যের ইতিহাসের উপাদান

গুপ্ত যুগের ইতিহাস রচনার জন্য উপাদানের অভাব নেই। এই উপাদানগুলিকে (১) সাহিত্য, (২) শিলালিপি, (৩) মুদ্রা এবং (৪) স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও শিল্প প্রভৃতিতে ভাগ করা যায়।

সাহিত্য : (ক) গুপ্ত যুগের সাহিত্যিক উপাদান হিসেবে পুরাণের কথা বলা যায়। এ সম্পর্কে বায়ুপুরাণ, মৎসপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ ও ভাগবতপুরাণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলি থেকে গুপ্ত রাজাদের নাম, সাম্রাজ্যের আয়তন ও বিভিন্ন প্রদেশেগুলির বিবরণ পাওয়া যায়।
(খ) বিভিন্ন স্মৃতিশাস্ত্রবিশেষত নারদ স্মৃতি ও বৃহস্পতি স্মৃতি নানা তথ্য সরবরাহ করে।
(গ) সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রী শিখর রচিত কামন্দক-নীতিসার গ্রন্থ থেকে গুপ্ত যুগের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রাষ্ট্রদর্শ ও শাসন সম্পর্কে নানা তথ্য জানা যায়।
(ঙ) গুপ্ত যুগে রচিত কিছু নাটক থেকে ইতিহাসের তথ্য পাওয়া যায়। বজ্জিকা নামক জনৈক বিদুষী মহিলা রচিত কৌমুদী-মহোৎসব এবং ভাস, শূদ্রক, কালিদাস, বিশাখদত্ত ও ভারবি রচিত নাটকগুলি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ সম্পর্কে ভাস রচিত স্বপ্নবাসবদত্তা ও চারুদত্ত, কালিদাস রচিত অভিজ্ঞানশকুন্তলম, শূদ্রক রচিত মৃচ্ছকটিক, বিশাখদত্ত রচিত দেবীচন্দ্রগুপ্তম ও মুদ্রারাক্ষস এবং ভারবি রচিত কিরাতার্জ্জুনীয় নাটকের কথা বলা যায়।
(চ) বিদেশি পর্যটক ফা -হিয়েন ও ই-সিং এর ভ্রমণবৃত্তান্ত গ্রন্থে গুপ্ত যুগের ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ তথ্য প্রদান করে।

লিপি : গুপ্ত যুগের প্রায় ৪২টি লিপি পাওয়া গেছে, যা গুপ্ত যুগের ইতিহাস রচনায় সাহায্য করে। সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় ও বৈদেশিক সম্পর্ক সম্বন্ধে নানা তথ্য পাওয়া যায়। এরাণ নালন্দা ও গয়া লিপি থেকেও সমুদ্রগুপ্ত সম্পর্কে খুবই গুরুত্বপ তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উদয়গিরি গুহালিপি, মথুরা লিপি, সাঁচি লিখি, মেহেরৌলি লিপি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কুমারগুপ্তের রাজত্বকাল সম্পর্কে দামােদরপুর লিপি এবং মান্দাশাের লিপি যথেষ্ট সহায়ক। এ ছাড়াও জুনাগড় লিপি, ইন্দোর তাম্রলিপি প্রভৃতি থেকে নানা তথ্যাদি জানা যায়।

মুদ্রা : গুপ্ত যুগের প্রচুর সােনা, রূপা ও তামার মুদ্রা পাওয়া গেছে। মুদ্রাগুলিতে উৎকীর্ণ বিভিন্ন দেব-দেবী ও রাজা-রানির মুর্তি, সমুদ্রগুপ্তের বীণাবাদনরত মূর্তি প্রভৃতি থেকে রাজাদের ধর্মবিশ্বা, তাদের শখ প্রভৃতি নানা বিষয় জানা যায়। প্রথমদিকে গুপ্ত মুদ্রায় সােনার পরিমাণ বেশি থাকলেও স্কন্দগুপ্তের শেষদিকে মুদ্রায় সােনার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর দ্বারা দেশের আর্থিক দুর্বলতার কথা প্রমাণিত হয়।

স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলার নিদর্শন পাওয়া গেছে। এগুলি থেকে গুপ্ত যুগের শিল্পের কথা জানা যায়। মথুরা, নালন্দা ও বারাণসী ছিল গুপ্ত যুগের শ্রেষ্ঠ শিল্পকেন্দ্র। এইসব স্থানের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ এবং দেওগড়, আইহােল ও ভিতরগাঁওয়ের মন্দিরগুলি নানা তথ্য সরবরাহ করে।