PayPal

গুপ্ত যুগের গুরত্ব

author photo
- Friday, July 26, 2019

গুপ্ত যুগের গুরত্ব ও বৈশিষ্ট্য

উত্তর ভারতে কুষাণ ও দাক্ষিণাত্যে সাতবাহনদের পতনের পর থেকে গুপ্ত বংশের উথান পর্যন্ত এই একশাে বছরের সময়কালকে স্যার জন মার্শাল ও ভিনসেন্ট স্মিথ "অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ" বলে অভিহিত করেছেন। শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শক্তির অভাবে এ সময় উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য স্বাধীন রাজ্যের উৎপত্তি ঘটে। মৌর্য, কুষাণ বা সাতবাহন আমলে গড়ে ওঠা ভারতীয় ঐক্যের আদর্শ বিনষ্ট হয় এবং দেশজোড়া হানাহানি শুরু হয়। এই অবস্থায় খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকে মগধে গুপ্ত শাসনের প্রতিষ্ঠা ভারত ইতিহাসে এক নৰ যুগের সূচনা করে।
(১) দীর্ঘ একশাে বছরের রাজনৈতিক হানাহানি ও অনৈকের পর গুপ্তযুগে উত্তর ভারতের এক বিশাল অংশে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রায় দুই শতাব্দী স্থায়ী হয়েছিল।
(২) কেবলমাত্র রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠাই নয় গুপ্ত রাজারা ভারতের উপর থেকে দীর্ঘদিনের বিদেশি শক ও কুষাণদের উচ্ছেদ করে এদেশ থেকে বিদেশি শাসনের চিহ্নটুকু মুছে দেন এবং অতি দক্ষতার সঙ্গে হুন আক্রমণ প্রতিরােধ করেন।
(৩) বিজিত স্থানের উপর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে গুপ্তরা দেশে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন।
(৪) শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে দেশে আর্থিক সমৃদ্ধির সূচনা হয়। কৃষির উন্নতি ঘটে, শিল্পের বিকাশ ঘটে, ব্যবসা বাণিজ্য উন্নততর হয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে।
(৫) আর্থিক সমৃদ্ধির পথ ধরে দেশে সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে যুগান্তর আসে। ভারতীয় মনীষার বিকাশে এই যুগ স্বর্ণযুগ।
(৬) বৈদেশিক যােগাযােগের সূত্র ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি উত্তর পশ্চিম ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নানা দেশে সম্প্রসারিত হয়। এইসব কারণে গুপ্তযুগ ভারত ইতিহাসে এক নবযুগ।