ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা/উৎপত্তি ১৮৮৫

- July 31, 2019
ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। জাতীয় কংগ্রেসের উৎপত্তি সম্বন্ধে বিবরণ পাওয়া যায় পট্টভি সীতারামাইয়ার লেখা ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাস (History of Indian National Congress) এবং উইলিয়াম ওয়ান্ডারবার্নের লেখা হিউমের জীবনী গ্রন্থ থেকে।
Indian National Congress
কারাে কারাে মতে, থিওজফিস্টরা (Theosophists) জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম দিয়েছিলেন। ১৮৮৯ সালে কর্নেল অলকট, ১৮৮৩ সালে রঘুনাথ রাও, ১৮৮১ সালে নরেন্দ্রনাথ সেন দাবি করেন যে থিওজফিস্টরা কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১৫ সালে অ্যানি বেসান্ত এই মত সমর্থন ছিলেন। অন্যদিকে আবার কেউ কেউ অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউমকে কংগ্রেসের স্রষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। এই দলে আছেন কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি উমেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, পঞ্চম সভাপতি ওয়ান্ডারবার্ন, কংগ্রেসের সরকারী ঐতিহাসিক সীতারামাইয়া এবং কংগ্রেসের কঠিনতম সমালোচক মার্কসবাদী ঐতিহাসিক রজনী পাম দত্ত। অধ্যাপক অমলেশ ত্রিপাঠী নানা সাক্ষ্য প্রমাণাদির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছিলেন। পরে অনিল শীল ও বৃটন মার্টিন অধ্যাপক ত্রিপাঠীর বক্তব্য মেনে নিয়েছেন।

ওয়ান্ডারবার্নের ভাষায়, লর্ড লিটনের আমলের শেষদিকে সরকারের অন্যতম সচিব হিউমের হাতে এমন কাগজপত্র আসে যাতে তার বিশ্বাস হয় যে ভারতে গণবিদ্রোহ আসন্ন। এটা দানা বাঁধলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী নেতৃত্ব দেবে। বিদ্রোহের ফল মঙ্গলজনক হবে না মনে করে তিনি ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলােচনা শুরু করেন এবং বিশেষ করে যুবকদের মনােভাব অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চান। ১৮৮৩ সালের ১লা মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের উদ্দেশ্যে এক খােলা চিঠিতে তিনি তাদের দেশপ্রেম ও ত্যাগ স্বীকারে উদ্বুদ্ধ করেন। একটা সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়ােজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন তিনি। প্রথমে তার মনে হয়েছিল প্রাদেশিক সমিতিগুলি রাজনীতি করুক, সর্বভারতীয় সম্মেলন করবে সামাজিক সমস্যা বিচার। যেখানে প্রাদেশিক ছােটলাট সভাপতিত্ব করবেন এবং ভারতীয় নেতা ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে সহযােগিতার মনােভাব গড়ে উঠবে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে রক্ষার জন্যই কংগ্রেসের মত এক Safety Valve তৈরী করতে হিউম উদ্যোগী হন। তার ভাষায় “A Safety Valve for the escape of great and growing forces... urgently needed"। এই সময় ভারতের বড়লাট ছিলেন লর্ড ডাফরিন। ডাফরিনের নির্দেশেই তিনি কংগ্রেস এর মতাে একটি সংগঠন গড়ার কথা চিন্তা করেন এবং কলকাতা, বােম্বাই ও মাদ্রাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলােচনা করেন।

বিভিন্ন নেতৃবর্গ এবং ডাফরিনের এরকম সংগঠন গড়ার যুক্তি ও প্রস্তাব সমর্থন করে তা কার্যকর করতে এগিয়ে আসেন হিউম। ১৮৮৪ সালে হিউম বলেছিলেন যে, প্রতি বছর ভারতীয় নেতারা সামাজিক সংস্কার নিয়ে একটি বৈঠকে মিলিত হবে এবং হিউমকে ভাইসরয় পরামর্শ দিয়েছিলেন যে এই সভাগুলিতে রাজনৈতিক সমস্যাবলী আলােচিত হলে সরকার পূর্বেই পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবে। তিনি তা সত্ত্বেও ডাফরিন এ ধরনের সমাজ সংস্কার সভার কার্যকারিতা সম্বন্ধে প্রশ্ন তুললেন। তার মতে, ভারতবর্ষে যা দরকার তা হল সরকারী নীতির দায়িত্ববান সমালােচনা তাকে আরও ভাল করার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক। এ ধরনের সভায় প্রাদেশিক বড়লাটের উপস্থিতি বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

হিউম নিজের ও ডাফরিনের প্রভাব ভারতীয় নেতাদের সামনে উপস্থিত করেন। তারা ডাফরিনের প্রস্তুাব গ্রহণ করেন। ঠিক হল ২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর (১৮৮৫) পুনায় বসবে সর্বভারতীয় সম্মেলন। হিউম তার নাম দিয়েছিলেন Indian National Union। মাদ্রাজ ও কলকাতা ঘুরে জনমত সংগ্রহ করে হিউম বিলেতে যান লিবারেল নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে। পুণায় কলেরা দেখা দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে সম্মেলনের স্থান সরিয়ে নেওয়া হল বােম্বাই শহরে। সেই সম্মেলনের নাম বদলে রাখা হল Indian National Congress। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক এভাবে ঘটেনি। বাঙ্গালী নেতৃত্বের, বিশেষতঃ সুরেন্দ্রনাথের ভূমিকা এতে ছােট করে দেখানাে হয়েছে। হিউমের মনে সর্বভারতীয় সম্মেলনের কথা উঠবার আগেই সুরেন্দ্রনাথ তা ভেবেছিলেন। ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে ২৭ শে মে তার পত্রিকা 'Bengalee'-তে আমরা প্রথম National Congress কথাটি পাই। এর উদ্দেশ্য হবে 'to prepare the way for concerted action in reference no political matters among the different political badies scattered throughout the country'. প্রথম কংগ্রেসের (১৮৮৫) দুই বছর পূর্বে তার জাতীয় কনফারেন্সের প্রথম (কলকাতা) অধিবেশনকে জাতীয় কংগ্রেসের মহড়া বলা চলে। লর্ড ডাফরিন একটি চিঠিতে লেখেন যে, হিউমের মাথায় ছিট আছে।

ডঃ অনিল শীলের মতে, হিউম কংগ্রেসকে একটি Safety Valve হিসাবেই গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ভারতীয় জনমতের ইংরেজ বিরােধী মনােভাবের পূর্বাভাস পাওয়ার উদ্দেশ্যে। এস. আর. মেহরােত্রা কিন্তু ভিন্ন মত পােষণ করেন। তার মতে হিউম ছিলেন ভারতীয়দের বিশেষ বন্ধু। ভারতীয়দের প্রতি দুর্বলতা এবং সরকারী সমালােচনার জন্য তাকে চাকুরি থেকে অবসর নিতে হয়েছিল। ঠিক একই মত পােষণ করেছেন অধ্যাপক অমলেশ ত্রিপাঠী। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি হিউমের লেখা সরকারী নানা চিঠি পত্রের উল্লেখ করেছেন।

বিপনচন্দ্র, বরুণ দে, অমলেশ ত্রিপাঠী প্রভৃতি ঐতিহাসিকগণ অবশ্য কংগ্রেসের উৎপত্তিতে হিউমের অবদানের কথা অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন যে, জাতীয় কংগ্রেস কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার ব্যাখ্যা হিসাবে হিউমের সঙ্গে ভারতীয় নেতাদের আলােচনার বিষয়টি পুরােপুরি ঠিক নয়। এই ব্যাপারে হিউমের ভূমিকা ও উদ্দেশ্যের একটা সীমিত আভাস পাওয়া গেলেও একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলার জন্য ভারতীয় নেতারা কেন এত সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তার ব্যাখ্যা মেলে না। বরং ভারতীয় নেতৃত্ব নুতন সামাজিক শক্তির প্রতিনিধি হিসাবে ইংরেজ শােষণের বিরুদ্ধে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন যার মাধ্যমে ভারতের রাজনৈতিক ও অথনৈতিক অগ্রগতির জন্য সংগ্রাম করা যাবে। এইসব নেতারা দেশপ্রেমিক ছিলেন এবং বিদেশী সরকারের ঘাের বিরােধী ছিলেন। তারা তাই ভেবেছিলেন যে হিউমের মতাে একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীর সাহায্য পাওয়া গেলে তাদের কার্যকলাপ নিয়ে সরকারী মহলে সন্দেহ দেখা দেবে না। তাই যদি বলা যায় যে হিউমের উদ্দেশ্য ছিল কংগ্রেসকে Safety Valve রূপে ব্যবহার করা তাহলে একথা বলতে হয় যে কংগ্রেস নেতারা হিউমকে Hightening Conductor রূপে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে প্রখ্যাত মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী রজনীপাম দত্ত কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পেছনে হিউম, ডাফরিন ও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের এক গভীরতর যড়যন্ত্রের উল্লেখ করেছেন। তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি স্বল্প - উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা। এর আংশিক সমর্থন এসেছে এস. আর. মেহরােত্রার "The Emergence of the Indian National Congress" পুস্তকে। তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে লেখা হিউমের ১৩ জানুয়ারী, ১৮৮৯ এর চিঠি। মেহরােত্ৰাৱ মতে হিউম এ ব্যাপারে ডাফরিনের মত চেয়েছিলেন এবং বােম্বাই এর ছােটলাট লর্ড রিএ (Reay)-র সভাপতিত্বের প্রভাব ছাড়া অন্য ব্যাপারে সম্মতিও পেয়েছিলেন। কিন্তু অধ্যাপক ত্রিপাঠী এ প্রসঙ্গে বলেন যে, ডাফরিন কোনও দিন এরকম প্রতিষ্ঠান তাে চানইনি, পরেও তাকে সমালচনার দৃষ্টিতেই দেখেছেন।

ডাফরিন যদি কংগ্রেসের মত কোন প্রতিষ্ঠান হােক চাইতেন তাহলে ১৮৮২-র ৩০ শে নভেম্বর সেন্ট অ্যান্ড্রুজ ডে ডিনার বক্তৃতায় তাকে অনুবীক্ষণিক সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি বলে উপহাস করতেন না। অর্থাৎ ডাফরিন সম্বন্ধে অনেক মনগড়া কথা হিউম বলতেন, উমেশ চন্দ্রদের কাছেও বলেছেন। তারই ওপর ভিত্তি করে উমেশচন্দ্র কংগ্রেসের জন্মকাহিনী লেখেন এবং সীতারামাইয়া, রজনীপাম দত্ত সবাই তা বিশ্বাস করে বসেন। আসলে অধ্যাপক ত্রিপাঠী মনে করেন, হিউম নিজের ধারণা অন্যের ওপর চাপাতে চেয়েছিলেন। হয়তাে বা ডাফরিনের প্রশ্রয় আছে বলে তিনি ভারতীয়দের বিশ্বাসভাজন হতে চেয়েছিলেন।

এইসব নানা কারণেই হিউমের Safety Valve তত্ত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণ সম্পর্কে আধুনিক ঐতিহাসিকরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ত্রিপাঠী, বিপানচন্দ্র, বরুণ দে প্রমুখ ঐতিহাসিকরা এই তত্বের অসারতা প্রমাণ করেছেন। এমন কি ওয়ান্ডারবার্নের সাত খণ্ডের সরকারী গােপন নথির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আধুনিক ঐতিহাসিকেরা তুলেছেন। অতএব কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পেছনে হিউম বর্ণিত আসন্ন বিদ্রোহের কোন যুক্তি খুজে পাওয়া যায় না। এই দিক দিয়ে বিচার করলে হিউমকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জনক আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। তার ভারত প্রীতি, সাংগঠনিক প্রতিভা, উদারতী মনােভাব ও বড়লাটদের সঙ্গে সৌহাদের কথা মনে রেখেও বলা যেতে পারে যে, তিন প্রেসিডেন্সিতে বিশেষ করে বাংলায় রাজনৈতিক চেতনা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছিল এবং রিপনের শাসন সংস্কারের ফলে আশায় এবং ইলবার্ট বিলের পরাজয়ের ফলে হতাশায় যেভাবে উদ্দীপিত হয়েছিল তাতে হিউম ছাড়াই কোন না কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হত।

পট্টভি সীতাৱামায়া ১৮৭৭ সালে অনুষ্ঠিত দিল্লী দরবারের মধ্যে যে কংগ্রেসের উৎস সন্ধান করেছেন সেই দরবার সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল সুরেন্দ্রনাথকে। কিন্তু আশ্চর্যের কথা, ওয়ান্ডারবার্ন বা সীতারামায়ার কানাে লেখাতেই সুরেন্দ্রনাথের কোন উল্লেখ নেই। শুধু তাই নয়, হিউম নিজেও কংগ্রেসের বােম্বাই গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এমন কি Indian National Union সম্পর্কে কথা বলতে কলকাতায় এসেও তিনি অন্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন, কিন্তু আনন্দমোহন বসু বা সুরেন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেননি। হিউমের বােম্বাই গােষ্ঠীর প্রতি প্রীতি এবং বােম্বাই গােষ্ঠীর মাদ্রাজ গোষ্ঠীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কলকাতার নেতৃন্দের প্রতি বীতরাগ নানা ঘটনায় সুস্পষ্ট।

ডঃ ত্রিপাঠী মনে করেন যে উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, অ্যানি বেসান্ত, প্রমুখ সমকালীন লেখকদের ভাষ্য কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার ইতিহাস যে ভাবে বর্ণিত হয়েছে তাতে সুরেন্দ্রনাথের ভূমিকাকে ছােট করে দেখানাে হয়েছে। আসলে হিউমের আগেই সর্বভারতীয় সম্মেলনের কথা ভেবেছিলেন সুরেন্দ্রনাথ। ১৮৮৩ সালে ২৮ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত National Conference এর মধ্যে তার এই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিয়েছিল। অনিল শীল এই সম্মেলনকে আদৌ প্রতিনিধিত্বমূলক মনে না করলেও অধ্যাপক ত্রিপাঠীর মতে এই ধরনের সম্মেলন আহ্বান করাটাই ছিল বড় কথা। এই সমাবেশে যে সব প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল তার সঙ্গে দু বছর পরে আহুত কংগ্রেসের প্রস্তাবগুলির সাদৃশ্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই কারণেই অধ্যাপক এ ত্রিপাঠী ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রথম অধিবেশনকে জাতীয় কংগ্রেসের মহড়া বলে উল্লেখ করেছেন। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় সুরেন্দ্রনাথের কোন প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকলেও কংগ্রেস ছিল তার মানস সন্তান।

জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার জন্য কোন ব্যক্তিবিশেষকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত নয়। আবার জাতীয় কংগ্রেস সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দান তা মনে করা একেবারে ভুল হবে। হিউমের Safety Valve তত্ত্ব জাতীয় কংগ্রেসের জন্মের মুল কারণ সে কথাও বলা ঠিক হবে না। আসলে কংগ্রেসের জন্মের প্রেক্ষাপট দীর্ঘদিন ধরেই তৈরি হচ্ছিল। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের শােষণমূলক চরিত্র সম্পর্কে সর্বশ্রেণীর ভারতীয় জনগণ ক্রমশঃই সচেতন হয়ে উঠেছিলেন। ভারতের রাজনীতি সচেতন সমাজ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধনের জন্যে একটি সর্বভারতীয় জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রয়োজনীয়তা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই উপলব্ধি করতে পারছিলেন। দেশপ্রেমিক ও কঠোর সে সময়কার ভারতীয় নেতৃবৃন্দ সর্বভারতীয় ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। তাদের প্রাথমিক রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল করলে এবং ব্রিটিশ সরকারের কােষানল থেকে সংগঠনটিকে রক্ষা করার জন্যই তারা হিউমের সাহায্য নিয়েছিলেন। ভারতের জনগণের বিক্ষোভ যেভাবে দানা বেঁধে উঠেছিল ও জাতীয়তাবাদ যেভাবে প্রসারিত হচ্ছিল তাতে হিউমের মত কোন ব্যক্তিবিশেষ ছাড়াই অনিবার্য পরিস্থিতিতে জাতীয় কংগ্রেসের আবির্ভাব ঘটত।

গ্রন্থপঞ্জি:
1. শ্রী প্রভাতাংশু মাইতি - ভারত ইতিহাস পরিক্রমা
2. অমলেশ ত্রিপাঠী - স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় কংগ্রেস
3. S.Sarkar - Modern India
4. Bipan Chandra - Indias struggle for Independence
5. S.R.Mehrotra - The Emergency of the Indian National Congress
6. R.P. Dutta - India Today