PayPal

ভারতের মধ্য প্রস্তর যুগ

author photo
- Saturday, July 20, 2019

মধ্য প্রস্তর যুগ

আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০ থেকে ৪০০০ অব্দের মধ্যবর্তী সময়কে বলা হয় মধ্য প্রস্তর যুগ বা মেসোলিথিক (ইংরেজি: Mesolithic Age)। মধ্য প্রস্তর যুগ হল প্রাচীন প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগের মধ্যবর্তী এক যুগ। গুজরাটের লাঙ্গনােজ, দাক্ষিণাত্যের তৃনেভেলি, ছােটোনাগপুর মালভূমি, মধ্যভারত, দক্ষিণ ভারতে কৃষ্ণা নদী অঞ্চল এবং পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে মধ্য প্রস্তর যুগের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
ভারতের মধ্য প্রস্তর যুগ
মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলার ভিমভেটকা নামক গুহাতে ১৬.৮ মিলিমিটার গভীরে ৭ টি বাটির মত গর্ত আছে। খনন কার্যের ফলে মানুষের তৈরি উটপাখির খোলা ডিমের উপর নকশা পাওয়া গেছে। এগুলি থেকে প্রাচীন প্রস্তর যুগের শিল্প নিদর্শন এর পরিচয় পাওয়া যায়। মধ্য প্রদেশের রায়সেন জেলায়, ভোপাল শহরের ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বিন্ধ্য পর্বতের দক্ষিণ ঢালে ভিমবেটকা গুহা আবিষ্কার করেন ভি. এস. অকাঙ্কের ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে। ভিমবেটকা বিখ্যাত গুহাচিত্রর (Cave Painting) জন্য। এগুলি ১২ হাজার বছরের পুরনাে। প্রাগৈতিহাসিক শিল্পীরা এগুলি সাদা ও লাল রং দিয়ে চিত্রিত করেন।

মধ্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্য:

১) মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষ ছোট ছোট ক্ষুদ্র আকৃতির পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করত। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশে, রাজস্থান, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাডু , কর্ণাটক প্রভুতি অঞ্চলে মধ্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার পাওয়া গেছে। মধ্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার ছিল মসৃণ, ধারালো ও ব্যবহারের উপযোগী। এগুলি প্রাণী হত্যার জন্য তৈরি করা হত।

২) মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষ মুলতঃ শিকারজীবি ছিল। এই সময় তীর ধনুকের ব্যবহার ও কৃষিকাজের সুচনা হয়। কুমােরের চাকা আবিস্কার না হওয়ায় হস্ত নির্মিত মাটির পাত্র ব্যবহৃত হত।

৩) মধ্য প্রস্তর যুগের প্রধান জিনিসগুলি ছিল মাইক্রোলিথ, অর্থাৎ কোণবিশিষ্ট বা অর্ধ-চন্দ্রাকার ফলা ইত্যাদি। এগুলির সাহায্যে দ্রুতগামী পশু মারা হত। মধ্যভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি ও দক্ষিণ ভারতের কৃষ্ণা নদীর উপত্যকায় অনেক মেসোলিথিক স্থান পাওয়া গিয়েছে।

৪) নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ পশুকে পোষ মানাতে শেখে এবং গৃহপালিত পশুর প্রচলন শুরু হয়। এছাড়া এই যুগে মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে শেখে এবং কৃষিকার্যের জন্য গ্রামে বাস করতে শেখে। মানুষ প্রথম কুকুরকে পােষ মানিয়েছিল। কিন্তু প্রথম গৃহপালিত (Domesticate) পশু হল ভেড়া।

৫) মধ্য প্রস্তর যুগ থেকে মানুষের মধ্যে বিশেষ বিশেষ ধরনের আর ভাল মানের খাদ্য সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যায়। এই প্রবণতাই পরে চাষাবাদের প্রেরণা জুগিয়েছিল। তবে ভারতের বাইরে অন্য অনেক জায়গায় এই যুগ অনুপস্থিত । সেইসব জায়গায় পুরাপ্রস্তরের পর সরাসরি নব্যপ্রস্তর যুগ শুরু হয়। এই সময়ের অস্ত্রগুলিকে মাইক্রোলিথ (Microlith) বলা হয়। অর্থাৎ ছোটো, শক্ত ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ত্রিকোণাকার। মৃৎশিল্পে ও চিত্রশিল্পে মানুষ বেশ পটু হয়ে উঠে।