May 15, 2019

তৈমুর লং এর ভারত আক্রমণের ফলাফল

তৈমুর লঙ এর ভারত আক্রমণের প্রভাব

ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে তৈমুর লঙ্গের (Timur the Lame) ভারত আক্রমণের প্রভাব গুরত্বপূর্ণ। তৈমুর লং এর লুণ্ঠনের ফলে ভারত থেকে প্রচুর সোনা, রূপা, মণি-মুক্তা বিদেশে চলে যায়। ঐতিহাসিক বদাউনি লিখেছেন, তৈমুরের হাত থেকে যারা নিষ্কৃতি পেয়েছিল তারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারায় এবং এর ফলে দিল্লির জনসংখ্যা এত কমে গিয়েছিল যে দিল্লির আকাশে দুমাস ধরে একটি পাখিকেও উড়তে দেখা যায় নি। লক্ষ লক্ষ মানুষের সঙ্গে গবাদি পশু নষ্ট হয়ে যায়।


রাজনৈতিক প্রভাব:

তৈমুর লং এর ভারত আক্রমণের ফলে সুলতানী শাসনের সামরিক বাহিনীর দৈন্য দশা প্রকাশ পায়। তৈমুর লঙ এর ভারত আক্রমণের পর গুজরাট, সামনা, বিয়ানা, কালপি, মাহাবা, মুলতান, পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রভুতি অঞ্চলে স্বাধীন রাজ্য গড়ে ওঠে। সুলতানী সাম্রাজ্য দিল্লী থেকে পালামের ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্য সংকুচিত হয়ে পড়ে।


সামাজিক প্রভাব:

তৈমুর লং ধর্মের নামে হিন্দুদের উপর নৃশংস অত্যাচার করে। ফলে হিন্দু মুসলমানদের মধ্য সম্প্রদায়গত বিরোধ দেখা দেয়। হিন্দু পিতা মাতা আতঙ্কিত হয়ে তাদের কন্যাদের বাল্যবিবাহ দিতে থাকে। কারণ নারীর মর্যাদা রক্ষার এটায় অন্যতম পথ বলে মনে করে। এর অনিবার্য ফলস্বরূপ সমাজের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

সাংস্কৃতিক প্রভাব:

তৈমুর লং এর সেনাবাহিনী বহু অট্টালিকা ও মন্দির ধ্বংস করেছিল। তাছাড়া তিনি বহু সুদক্ষ ভারতীয় কারিগর, রাজমিস্ত্রি ও শিল্পীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এদের প্রতিভার অবদান থেকে ভারত বঞ্চিত হয় এবং সমৃদ্ধশালী হয় সমরখন্দ শিল্পকলা। এই সকল ভারতীয় শিল্পীর মাধ্যমে ভারতীয় শিল্পের ধারা সম্প্রসারিত হয় মধ্য এশিয়ার নানা অঞ্চলে।

তুঘলক বংশের পতন:

তৈমুর লং এর ভারত আক্রমণের পর নাসিরউদ্দিন মহম্মদ শাহ গুজরাট থেকে দিল্লিতে ফিরে আসেন এবং যৎসামান্য অঞ্চলের উপর রাজত্ব করতে থাকে। দিল্লি সুলতানের আধিপত্য তখন কেবলমাত্র দিল্লি, রোটাক, দোয়াব ও সম্বল অঞ্চলের মধ্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৪১৩ সালে নাসিরউদ্দিন মহম্মদ শাহ মৃত্যু হলে ভারতের দুশো বছরের তুর্কি শাসনের অবসান ঘটে।


Category: