Advertise

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল কি ছিল?

১৭৭৫ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল ছিল ইউরোপের রাজনীতিতে গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়। জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। আমেরিকার স্বাধীনতা চুক্তি "প্রথম ভার্সাই চুক্তি (১৭৮৩)" নামে পরিচিত। ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশ ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে ১৯ এপ্রিল বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা এই যুদ্ধে জয়লাভ করে। ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে ৩রা সেপ্টেম্বর প্যারিস চুক্তির দ্বারা ইংরেজ সরকার আমেরিকার স্বাধীনতা স্বীকার করে নেন।
আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল
সার্বভৌম শক্তিরূপে আমেরিকা: আমেরিকায় এক নতুন বিশ্ব, নতুন দেশ ও নতুন আদর্শের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই যুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হয়ে আমেরিকা একটি স্বাধীন সার্বভৌম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গঠন করে এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে থাকে। বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম শক্তিধর শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র আমেরিকা যুক্তরাষ্ট। যা আজকের পৃথিবীতে ত্রাসের সঞ্চার করে চলেছে।

গণতন্ত্রের পথ সুগম: আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আমেরিকায় প্রজাতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। অষ্টাদশ শতক ছিল স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের যুগ। রাজারা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলেন। এই যুদ্ধে আমেরিকানদের সাফল্য রাজার ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতা এবং সমাজে অভিজাত শ্রেণীর প্রাধান্যের ওপর চরম আঘাত হানে। অধ্যাপক হেজ বলেন, আমেরিকার বিপ্লবের মাধ্যমে আমেরিকা এবং সমগ্র বিশ্বে গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়।

ইংল্যান্ডের ওপর প্রভাব: যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ইংল্যান্ডের সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে অর্জিত গৌরব নষ্ট হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমেরিকা স্বাধীন হওয়ায় ইংল্যান্ডের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শাসক টেরি দল ও লর্ড নর্থের মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে এবং পিট এর নেতৃত্বে হুইগ দল ক্ষমতায় আসে। রাজার ব্যক্তিগত শাসনের পরিবর্তে পার্লামেন্টে দায়িত্বশীল মন্ত্রিসভার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধে পড়াজয়ের ফলে ব্রিটিশ সরকারের ঔপনিবেশিক নীতিতে পরিবর্তন আসে।

ফ্রান্সের ওপর প্রভাব: যুদ্ধে যোগদানকারী ফরাসী সৈন্যরা স্বাধীনতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয় এবং স্বদেশে ফিরে এসে তারা গণতান্ত্রিক ভাবধারা প্রচারে ব্রতী হন। এর ফলে ফরাসী বিপ্লবের পথ প্রশস্ত হয়। সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবার উদ্দেশ্যে ফ্রান্স উপনিবেশিকদের পক্ষ অবলম্বন করে। এর ফলে ফ্রান্সের আর্থিক সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতির চাপে ফরাসী-রাজ ষোড়শ লুই ফ্রান্সের প্রতিনিধি সভা বা স্টেট জেনারেল আহ্বান করতে বাধ্য হয়। এর ফলে ফরাসী বিপ্লবের সূচনা হয়।

অন্যান্য দেশের ওপর প্রভাব: স্পেন আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিয়ে মিনরকা ও ফ্লোরিডা দখল করে। কিন্তু দ্রুত আমেরিকা বিপ্লবের আদর্শ এই উপনিবেশ গুলিতে প্রভাব বিস্তার করে। হল্যান্ড, জার্মানি, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বহু জাতিয়তাবাদী মানুষ নিজ দেশের স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিবাদে আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করতে থাকেন। আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্য সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ও অস্টিয়া পূর্ব ইউরোপের বলকানে অগ্রসর নীতি গ্রহণ করলে পূর্বাঞ্চলীয় সমস্যার উদ্ধব হয়। আমেরিকার বিপ্লবের গণতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ পোল্যান্ডরাজ স্টানিসলাস নিজ পাঠকক্ষে জর্জ ওয়াশিংটনের মূর্তি স্থাপন করেন। হাঙ্গেরিতে প্রতিষ্ঠিত হয় আমেরিকান আবাস এবং ইতালিতে ফিলাডেলফিয়া সমিতি নামে গুপ্ত সমিতি। জর্জ ওয়াশিংটনের জীবনী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

মূল্যায়ন: অষ্ঠাদশ শতকের আমেরিকার স্বাধীনতার সংগ্রাম পৃথিবীর গণতান্ত্রিক নবজাগরণের ক্ষেত্র সঞ্চার করে। পরবর্তী বিশ্বের বিভিন্ন পরাধীন দেশের মুক্তি সংগ্রামের দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করেছিল আমেরিকা বাসীদের এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এই ঘটনাকে আমরা পৃথিবীর ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী যুগের অবসানের সূচনা কাল বলে অভিহিত করতে পারি।