সুলতান সিকান্দার শাহ

author photo
- Thursday, April 25, 2019

বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ।

ইলিয়াস শাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র সিকান্দার শাহ ১৩৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে বসেন। তার সম্পূর্ণ নাম আবুল মুজাহিদ সিকান্দর শাহ। সিকান্দর শাহের মাতার নাম ফুলমতি বেগম এবং পিতার নাম শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি পিতার মতো সুদক্ষ শাসক ছিলেন। তিনি প্রায় ৩৩ বছর রাজত্ব করেছিলেন। তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের দ্বিতীয় সুলতান ছিলেন।

দিল্লির সঙ্গে সংঘর্ষ:

সিকান্দার শাহ বেশ কয়েকবার দিল্লিতে দূত পাঠান। ফিরোজ তুঘলক প্রথমবার বাংলা অভিযানের ব্যর্থতা ভুলতে পারেনি। তাই সিকান্দার শাহের আমলে ফিরোজ তুঘলক বাংলাদেশ আক্রমন করেন। সোনারপুরের জৈনিক আমীরের প্রতি অমানবিক ব্যবহার করা হয়েছে, এই অজুহাতে ফিরোজ তুঘলক ১৩৫৯ সালে দ্বিতীয়বার বাংলা আক্রমন করেন। সিকান্দার শাহ পিতার পথ অবলম্বন করে একডালা দুর্গে আশ্রয় নেন। কিছুকাল দুর্গ অবরোধের পর দুই পক্ষের শান্তি স্থাপিত হয়। ফিরোজ তুঘলক বাংলার স্বাধীনতা মেনে নেন। এরপর থেকে দীর্ঘ ২০০ বছর বাংলা স্বাধীন ছিল।

উত্তরাধিকার সংঘর্ষ ও নিহত:

সিকান্দার শাহের প্রথম স্ত্রীর ১৭ জন পুত্র ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রীর ১ জন পুত্র ছিল। শেষ জীবনে সিকান্দার শাহর পুত্র গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ বিদ্রোহ করলে রাজধানী পান্ডুয়ার কাছে গোয়ালপাড়ার যুদ্ধে এক জৈনিক সৈনিকের হাতে ১৩৯১ সালে সিকান্দার শাহ নিহত হয়। অবশ্য এই পরিণতি গিয়াসউদ্দিন অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তার মনে অনুতাপের সঞ্চার করেছিল।

সিকান্দার শাহের কৃতিত্ব:

সিকান্দার শাহ ছিলেন শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সাহিত্যর অনুরাগী। সিকান্দার শাহ পান্ডুয়ার বিখ্যাত আদিনা মসজিদ (১৩৬৯ সাল) নির্মাণ করেন। ড: আব্দুল করিম এর মতে, আদিনা মসজিদটি ছিল দৈর্ঘ্য ৫০৭.৫ ফুট এবং প্রস্থে ২৮৫.৫ ফুট। এই মসজিদে অসংখ্য তোরণ, চারশো স্তম্ভ, খিলান ও গম্বুজ ছিল। মসজিদটির গাত্রে বহু সংখ্যক হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দির ও দেবদেবীর কারুকার্য খচিত বিভিন্ন অংশ লাগানো ছিল। বলা হয় যে, আদিনা মসজিদটি লাখনৌতির বিভিন্ন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দিয়ে তৈরি। এছাড়া সিকান্দার শাহর পৃষ্ঠপোষকতায় আখ-ই-সিরাজউদ্দিন মসজিদ, গৌড়ের কোতোয়ালি দরওয়াজা, গঙ্গারামপুরের মোল্লা আতার মসজিদ, হুগলির মোল্লা সিমলাই মসজিদ নির্মিত হয়।