Advertise

রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহ দিল্লির মামলুক সুলতান

ইলতুৎমিশের জ্যৈষ্ঠ ও সুযোগ্য পুত্র নাসিরউদ্দিন মামুদের মৃত্যুর হয় (১২২৯ সালে)। ইলতুৎমিশের অন্যান্য পুত্ররা ছিল অকর্মণ্য, অলস ও অপদার্থ। এই কারণে ইলতুৎমিশ তার কন্যা রাজিয়া-কে সিংহাসনের উত্তরাধিকার মনোনীত করেন এবং ইলতুৎমিশের নামের সঙ্গে রাজিয়ার নামাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা প্রচার করে রাজিয়ার মনোনয়নের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করে। কিন্তু দিল্লির আমির ওমরাগণ একজন নারীর কর্তৃত্ব মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। এ কারণে ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর আমিরগণ তার পুত্র রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহ-কে সিংহাসনে বসান (১২৩৬ সালে)।
দিল্লির মামলুক সুলতান রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহ
রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহ ছিলেন অপদার্থ ও বিলাসপ্রিয়। তিনি রাজকার্যে অবহেলা করে বিলাস ব্যসনে মত্ত হয়ে উঠলে তার বিধবা মাতা শাহ তুর্কান সকল ক্ষমতা করায়ত্ত করেন। তিনি ছিলেন নিচবংশসদ্ভূতা এবং উচ্চাকাঙ্খী। রাজক্ষমতা হাতে পেয়ে তিনি ইলতুৎমিশের বেগম ও সন্তানদের উপর অত্যাচার শুরু করেন। মাতা পুত্রের অত্যাচারে রাজ্যর সর্বত্র প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আমির ওমরাহদের একটি অংশ নবনিযুক্ত সুলতানের বিরোধিতা শুরু করেন। মুলতান হানসী, লাহোর ও বদাউন এর শাসনকর্তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহকে সিংহাসনচূত করার উদ্দেশ্যে সম্মিলিত ভাবে দিল্লির দিকে অগ্রসর হন। বিদ্রোহ দমনের উদ্দেশ্যে রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহ দিল্লি ছেড়ে পাঞ্জাবের দিকে অগ্রসর হন।

এই সুযোগে রাজিয়া শুক্রবার রক্তবর্ণ বস্ত্র পরিধান করে ক্রুদ্ধ জনগণের সামনে উপস্থিত হন (সে যুগে মুসলিম রীতি অনুযায়ী অত্যাচারীতা মহিলারা ন্যায়বিচার না পেলে রক্ত বস্ত্র পরিধান করে জনতার কাছে বিচার চাইতেন)। তিনি তাদের সামনে ইলতুৎমিশ কর্তৃক তার মনোনয়ন এবং রুকুনউদ্দিন ফিরোজ ও শাহ তুর্কানের অত্যাচারের কথা তুলে ধরে তাকে সমর্থনের আবেদন জানান।

দিল্লির জনসাধারণ ও সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে রাজিয়া সিংহাসনে বসেন। শাহ তুর্কান কারাগারে বন্দী হন। রুকুনউদ্দিন ফিরোজ দিল্লি ফিরে এলে বন্দী করে হত্যা করা হয় (নভেম্বর, ১২৩৬ সাল)। মাত্র ছয় মাস আটাশ দিন রাজত্বের পর রুকুনউদ্দিন ফিরোজ শাহের পতন ঘটে। এবং ১২৩৬ সালে সুলতানা রাজিয়া দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।