PayPal

নাসিরুদ্দিন নুসরাত শাহ

author photo
- Wednesday, April 24, 2019

সুলতান নসরত শাহ।

হোসেন শাহের মৃত্যুর পর তার পুত্র নসরত শাহ (১৫১৯-১৫৩২ খ্রিস্টাব্দ) বাংলার সিংহাসনে বসেন। তিনি মোট ১৪ বছর রাজত্ব করেন। তিনি ইব্রাহিম লোদীর কন্যাকে বিবাহ করেন। তার রাজত্বের প্রথম সাত বছর শান্তিতে অতিবাহিত হয় এবং এ সময় তিনি শিল্প ও সংস্কৃতির উন্নতিতে আত্মনিয়োগ করেন।


মোগল-বিরোধী শক্তিজোট গঠন:

১৫২৬ সালে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে কাবুলের অধিপতি বাবর দিল্লির সিংহাসনে বিসেন। এই সময় উত্তর ভারত থেকে বিতাড়িত আফগানরা পূর্ব ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। জৌনপুরের লোহানি বংশীয় বাহর খাঁ লোহানি, বিহারের শের খাঁ, লোদী বংশের মামুদ এবং বাংলার সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ মোগল বিরোধী শক্তিজোট গঠন। ১৫২৯ সালে বাবরের সঙ্গে নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহের সংঘর্ষ হয়, এবং পরাজিত হয়ে বাবরের আনুগত্য মেনে নেন। সুলতান নসরত শাহ উচ্চ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় অহোম-দের বিরুদ্ধে অভিযান পাঠান ও ব্যর্থ হয়। ১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দে এক আততায়ীর হাতে নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ নিহত হন। এরপর বাংলার সিংহাসনে বসেন নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহের পুত্র দ্বিতীয় আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ।


শিল্প সংস্কৃতি:

নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ শিক্ষা, সাহিত্য ও শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। শ্রীকর নন্দী, কবিন্দ্র পরমেশ্বর, কবিশেখর প্রমুখ কবি সাহিত্যিকরা তার পৃষ্ঠপোষকতা অর্জন করেন। তার আমলে বহু প্রসাদ মসজিদ নির্মিত হয়। গৌড়ের বড়োসোনা মসজিদ ও কদম রসুল নসরত শাহ নির্মাণ করেন। শিল্প বিশেষজ্ঞ ফার্গুসন বড়োসোনা মসজিদকে গৌড়ের সর্বকৃষ্ঠ সৌধ বলে অভিহিত করেন। তিনি তার পিতার সমাধির উপর একলাখি সৌধ নির্মাণ করেন।

ট্যাগ : হোসেন শাহী বংশের অবদান।

No comments:

Post a Comment