ভক্তিবাদ ও সুফিবাদ

author photo
- Tuesday, April 23, 2019
advertise here

ভক্তি ও সুফি আন্দোলন।

দ্বাদশ শতকে হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের রক্ষণশীলতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সহজ সরল ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের দুটি পৃথক রূপ হল সুফিবাদ ও ভক্তিবাদ। অন্তরের পবিত্রতা, ঈশ্বরের প্রতি ঐকান্তিক ভক্তি এই মতবাদের মূল কথা। ভক্তিবাদ ও সুফিবাদের প্রভাবে মধ্যযুগীয় সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্য সমস্ত ক্ষেত্রেই এক মিলনের আদর্শ গড়ে ওঠে।

ভক্তিবাদের মূলকথা:

ভক্তি শব্দের অর্থ ভজনা বা ঈশ্বরের নামগান করা। অন্তরের পবিত্রতা ও চিত্ত শুদ্ধির মাধ্যমে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন ঘটানো হল এর মূল আদর্শ। এর মূল অর্থ ব্যক্তির সঙ্গে ঈশ্বরের অতীন্দ্রিয় যোগাযোগের প্রতিষ্ঠা। ভক্তি ও কর্মের সমন্বয়ে মুক্তি লাভ। ঈশ্বরকে পাওয়া যায় ভক্তি করে, মানুষকে ভালোবেসে। সব মানুষই সমান, মানুষের ভিতরে কোনো জাতিভেদ নেই। ড: ইউসুফ হোসেনের মতে, ইসলাম ধর্ম থেকে ভক্তিবাদ উদ্ধব। কে. এম. পানিক্কর এর মতে, ভক্তিবাদ হল ইসলামের একেশ্বরবাদের মূল ব্যাখ্যা।

ভক্তি আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য:

ভারতের ভক্তি আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য হল - ১) একেশ্বরবাদে বিশ্বাস, ২) সামাজিক সাম্য ও ভাত্তৃতবোধ, ৩) গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা ও গুরুবাদ, ৪) অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূরীকরণ, ৫) ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের সন্ধান করা, ৬) মূর্তিপূজা, পুরোহিততন্ত্র ও জাতিভেদ প্রথার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন, ৭) পরমাত্মার সঙ্গে মিলনে জীবাত্মার মুক্তি।

ভক্তি আন্দোলনের কারণ:

১) উচ্চবর্ণ হিন্দু রক্ষণশীলতা। ২) মুসলমান শাসক গোষ্ঠীর ধর্মীয় অনাচার, ৩) ইসলামের সাম্য ভাবের প্রভাব, ৪) সামন্ততন্ত্রের উদ্ধব, ৫) ভক্তিবাদীদের প্রচার, ৬) সমাজে উচ্চবর্ণের আর্থ-সামাজিক শোষণ।

ভক্তি আন্দোলনের সাধক:

বল্লভাচার্য, কবীর, দাদু, গুরু নানক, নামদেব, শ্রী চৈতন্য, রামানুজ, রামানন্দ, মীরাবাঈ ও শঙ্করাচার্য।

ভক্তিবাদী আন্দোলনের গুরত্ব ও ফলাফল:

১) ভক্তিবাদ আন্দোলন সমাজের অবহেলিত মানুষের মূলমন্ত্র।
২) ধর্মা চার্যগণ হিন্দুধর্মে নানা সংস্কার প্রবর্তন করে ইসলাম ধর্মের অগ্রগতি রোধ করতে সাহায্য করে।
৩) হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪) নামদেব মারাঠি ভাষা, কবিরের দোঁহা হিন্দি ভাষা ও নানক পাঞ্জাবি ভাষা গুরুমুখী লিপিকে উন্নত করে।
৫) আঞ্চলিক ভাষা ও সাহিত্যর বিকাশ ঘটে।
৬) বাংলার বৈষ্ণব কবিরা বাংলা ভাষাকে নতুন রূপ দান করেন।
৭) ভক্তিবাদ আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে জাতিভেদ ও উচ্চ-নীচ বৈষম্য এবং বর্ণাশ্রম ধর্মের কঠোরতা কিছুটা কমিয়ে আনে।
৮) উচ্চনীচ ভেদভেদ দূরীভূত হয়।

ড: নিমাই সাধন বসু মনে করেন, 'ভক্তিবাদী আন্দোলনের প্রভাবে শাসকগোষ্ঠী জনকল্যাণের আদর্শ অনুসরণ করেন।' ড: অমলেশ ত্রিপাঠী বলেন, 'ভক্তিবাদ হল বাঙালি জাতির ইতিহাস ও ফলপ্রদ ঘটনা।'

সুফিবাদের মূলকথা:

(বাকি)











Advertisement advertise here