PayPal

সাতবাহন রাজবংশ।

author photo
- Tuesday, March 12, 2019

সাতবাহন বংশ/ সাতবাহন যুগ/ সাতবাহন সাম্রাজ্য।

মৌর্য সাম্রাজ্যর পতনের পর ভারতে রাজনৈতিক ঐক্য নষ্ট হয়। বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক রাজ্য উদ্ধব হয়। এদের মধ্যে দাক্ষিণাত্যর সাতবাহন রাজবংশ (ইংরেজি: Satavahana dynasty) উল্লেখযোগ্য।


সাতবাহন কারা:

সাতবাহন বংশের আদি বাসস্থান ও কালসীমা নিয়ে নানা রকম মত প্রচলিত আছে। পুরাণে সাতবাহনদের অন্ধ্র ও অন্ধ্রভৃত্য বলা হয়েছে। আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, পশ্চিম ভারতে সাতবাহনদের আদি বাসভূমি ছিল। পরে যখন তারা কৃষ্ণা নদীর মোহনায় শক্তি গড়ে তোলে তখন তারা অন্ধ্র নামে পরিচিত হয়। পুরাণে সাতবাহনদের রাজত্বকাল সম্পর্কে বিভিন্ন সাল ও তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়। একটি পুরাণে বলা হয়েছে সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা সিমুক কান্ব বংশের শেষ রাজা সুশবর্মণকে হত্যা করে দাক্ষিণাত্য সাতবাহন বংশ প্রতিষ্ঠা করে। খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম শতকে সাতবাহন বংশের সূত্রপাত হয়।

সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা সিমুকের রাজধানী ছিল গোদাবরী নদীর তীরে অবস্থিত পৈঠান বা প্রতিষ্ঠান নগরী (বর্তমানে ঔরঙ্গাবাদ জেলার পৈথান)। সিমুকের পর তার ভ্রাতা কৃষ্ণ সাতবাহন বংশের সিংহাসনে বসে। মৎস্য পুরাণ অনুসারে তিনি ১৮ বছর রাজত্ব করেন।

প্রথম সাতকর্ণী:

সাতবাহন বংশের তৃতীয় রাজা ছিলেন প্রথম সাতকর্ণী। প্রথম সাতকর্ণীর রানী নায়নিকা-র নানাঘাট শিলালিপি থেকে তার সম্পর্কে জানা যায়। নর্মদা উপত্যকা, বিধর্ভ ও পশ্চিম মালব জয় করে। হস্তিগুম্ফা লিপি থেকে জানা যায়, তিনি কলিঙ্গ রাজ খারবেল কর্তৃক পরাজিত হন। তিনি দক্ষিণাপথপতি ও অপ্রতিহতচক্র উপাধি ধারণ করে। তিনি প্রতিষ্ঠানপুর বর্তমান পৈঠানে তার রাজধানী স্থাপন করেন।


গৌতমী পুত্র সাতকর্ণি:

প্রথম সাতকর্ণীর মৃত্যুর ১০০ বছর পর গৌতমী পুত্র সাতকর্ণি (১০৬-১৩০ খ্রিস্টাব্দ) সিংহাসনে বসেন। গৌতমী পুত্র সাতকর্ণির মৃত্যুর পর তার মা গৌতমী বলশ্রী নাসিক প্রশস্তি রচনা করেন। গৌতমী পুত্র সাতকর্ণি ছিলেন সাতবাহন বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। নাসিক প্রশস্তি-তে তাকে "সাতবাহন-কুল-যশ: প্রতিষ্ঠানকর" এবং "শক-যবন-পহ্লব-নিসুদন" বলা হয়েছে। তিনি মহারাষ্ট্র জয় করেন। যবন ও পহ্লব অর্থ হল যথাক্রমে গ্রীক ও পার্থিয়ান। গৌতমী পুত্র সাতকর্ণি শকদের রাজা নহপানকে পরাজিত করে তিনি গুজরাট, সৌরাষ্ট্র, মালব, বেরার ও উত্তর কোঙ্কন দখল করেন। শকদের অন্য একটি শাখার অধিপতি রুদ্রদামন গৌতমী পুত্র সাতকর্ণিকে পরাজিত করে। শক আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে তিনি নিজ পুত্র বশিষ্ঠী পুত্র পুলমায়ীর সঙ্গে রুদ্রদামনের কন্যার বিবাহ দেন। নাসিক প্রশস্তিতে গৌতমী পুত্র সাতকর্ণিকে বিন্ধ্য পর্বত থেকে মলয় পর্বত এবং পূর্বঘাট থেকে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত স্থানের অধিপতি বলা হয়েছে। গৌতমী পুত্র সাতকর্ণি "বর-বরণ-বিক্রমচারু-বিক্রম" উপাধি ধারণ করেন।

বশিষ্ঠী পুত্র পুলমায়ী:

গৌতমী পুত্র সাতকর্ণির পুত্র বশিষ্ঠী পুত্র পুলমায়ী (১৩০-১৫৮ খ্রিস্টাব্দ) সিংহাসনে বসেন। নাসিক, অমরাবতী প্রভুতি স্থানে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে তার রাজত্বকাল সম্পর্কে জানা যায়। তিনি সর্বপ্রথম কৃষ্ণা নদীর মোহনা পর্যন্ত অর্থাৎ অন্ধ্রদেশে রাজ্য বিস্তার করে।

যজ্ঞশ্রী সাতকর্ণি:

বশিষ্ঠী পুত্র পুলমায়ীর পর শিবশ্রী ও শিবস্কন্দ সাতকর্ণি সিংহাসনে বসেন। যজ্ঞশ্রী সাতকর্ণি (১৬৫-১৯৫ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন সাতবাহন বংশের শেষ রাজা। নাসিক, কানহেরি ও কৃষ্ণা জেলায় তার শিলালিপি গুলি আবিষ্কৃত হয়েছে। মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্র ছিল তার সাম্রাজ্যভুক্ত। বঙ্গোপসাগর থেকে আরব সাগর পর্যন্ত তার রাজ্য বিস্তৃত ছিল। তার মুদ্রায় জাহাজের চিত্র খোদিত ছিল।

সাতবাহনদের পতন:

যজ্ঞশ্রী সাতকর্ণির রাজত্বের শেষ দিকে সাতবাহন রাজ্যর পতন শুরু হয়। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকের মধ্যভাগে কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগে সামন্ত রাজারা স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

No comments:

Post a Comment