চোল বংশের শ্রেষ্ট রাজা প্রথম রাজেন্দ্র চোল।

author photo
- Saturday, March 09, 2019
advertise here

প্রথম রাজেন্দ্র চোল (১০১৪-১০৪৪ খ্রি:)।

প্রথম রাজরাজের পুত্র প্রথম রাজেন্দ্র চোল ছিলেন চোল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নরপতি। তার উপাধি ছিল মার্তন্ড, উত্তম চোল, গঙ্গইকোন্ডচোল। তিরুমালাই পর্বতলিপি ও তাঞ্জোর লিপি থেকে প্রথম রাজেন্দ্র চোল সম্পর্কে জানা যায়।


রাজত্বের পঞ্চম বর্ষে সিংহল রাজ পঞ্চম মহেন্দ্র-কে পরাজিত করে সমগ্র সিংহল জয় করেন। মহাবংশ থেকে সিংহল অভিযানের কথা জানা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শৈলেন্দ্র বংশীয় হিন্দু রাজ্য শ্রীবিজয় রাজ্য অর্থাৎ মালব , সুমাত্রা ও জাভায় তার আধিপত্য স্থাপন হয়। চীন-ভারত বানিজ্য হস্তক্ষেপ করে শ্রীবিজয় রাজ্য নিজ সমৃদ্ধি চেষ্টা করলে রাজেন্দ্র চোল যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং শ্রীবিজয়-রাজ বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য হন। চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য নিরাপদ হয়।

পিতা রাজরাজ কর্তৃক বিজিত পান্ড্য ও চের রাজ্য বিদ্রোহ দেখা দিলে তিনি কঠোর হাতে দমন করেন এবং পান্ড্য ও চের রাজ্যকে চোল রাজ্যর অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি নিজ পুত্রকে রাজ্যদুটির শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।




রাজেন্দ্র চোলের অন্যতম প্রধান কীর্তি হল বাংলা অভিযান। তিনি পূর্ববঙ্গের গোবিন্দচন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিপাল ও দক্ষিণ বঙ্গের রণসুর-কে পরাজিত করে গঙ্গইকোন্ডচোল বা গঙ্গা-বিজেতা চোল নৃপতি উপাধি ধারণ করেন। বঙ্গ বিজয়ের সামান্য পরেই কাবেরী নদীর তীরে তিনি চোল-দের এক নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার নাম দেন গঙ্গইকোন্ডচোল পুরম। বলা বাহুল্য, বাংলায় তার আধিপত্য স্থায়ী হয় নি। তার নৌশক্তির প্রভাবে বঙ্গোপসাগর চোল হ্রদে পরিণত হয়।

চোল বংশের শ্রেষ্ট নৃপতি প্রথম রাজেন্দ্র চোল অসাধারণ সামরিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। বাংলা জয় ও সুদূর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চোল আধিপত্য বিস্তার নি:সন্দেহে তার কীর্তি। চোল নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগর-কে চোল হ্রদে পরিণত করে। স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তার অবদান স্মরণীয়।

Tag: চোল শাসন ব্যবস্থা। চোল মন্দির স্থাপত্য।
Advertisement advertise here