ভারতের আঞ্চলিক শক্তির উত্থান: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর।

author photo
- Saturday, March 02, 2019
advertise here

উত্তর পশ্চিম ভারতের আঞ্চলিক শক্তির উত্থান: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর।

প্রশ্ন) হুন কারা?

উত্তর:- হুনরা ছিল মধ্য এশিয়ার বসবাসকারী এক দুর্ধর্ষ উপজাতির মানুষ। তারা নতুন তৃণভূমি ও বাসস্থানের সন্ধানে একসময় দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল রোম সাম্রাজ্যর অভিমুখে রওনা হয়েছিল। এদের নেতা ছিল এটিলা। অপরদল অক্ষু নদীর অভিমুখে গিয়ে ভারত আক্রমণ করে। এদের নেতা ছিল তোরমানমিহিরকুল


প্রশ্ন) রাজ্যশ্রী কে ছিলেন?

উত্তর:- রাজ্যশ্রী ছিলেন পুষ্যভূতি বংশের রাজা প্রভাকরবর্ধনের কন্যা ও হর্ষবর্ধনের ভগিনী। তার বিবাহ হয় গ্রহবর্মনের সঙ্গে। শশাঙ্ক গ্রহবর্মনকে পরাজিত করে রাজ্যশ্রীকে বন্দী করে। হর্ষবর্ধন তাকে উদ্ধার করে।

প্রশ্ন) শশাংক প্রথম জীবনে কি ছিলেন?

উত্তর:- অনেকের মতে শশাঙ্কের অপর নাম ছিল নরেন্দ্রগুপ্ত। আবার অনেকে বলেন, শশাঙ্ক পরবর্তী গুপ্তবংশীয় মগধ রাজ মহাসেনগুপ্তের অধীনে সামন্ত ছিলেন। মহাসেনগুপ্তের মৃত্যুর পর ৬০৬ সালের পূর্বেই তিনি গৌড় স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই যুগে গৌড় বলতে উত্তর বাংলা ও পশ্চিম বাংলাকে বোঝাত। শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।

প্রশ্ন) কলহন কে ছিলেন?

উত্তর:- কলহন ছিলেন রাজতরঙ্গিনী গ্রন্থের রচয়িতা। গ্রন্থটির রচনা কাল ১১৪৮-৪৯ সাল। এই গ্রন্থে তিনি কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় বর্ণনা করেছেন। কলহনের পিতা চম্পক ছিলেন কাশ্মীর নৃপতি হর্ষের মন্ত্রী।

প্রশ্ন) ভাস্কর বর্মন কে ছিলেন?

উত্তর:- ভাস্কর বর্মন ছিলেন কামরূপের শাসক। তার পিতা ছিলেন সুস্থিতবর্মন। ভাস্কর বর্মন হর্ষবর্ধনের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন। ভাস্কর বর্মন রাজধানী কর্ণসুবর্ণ সহ ভাগীরথী ও পদ্মার পূর্বদিকের অঞ্চল সমূহ অধিকার করেন। চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে কামরূপে আসেন। ভাস্কর বর্মন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।

প্রশ্ন) গৌড় কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:- বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলায় এবং কিছু অংশ বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

প্রশ্ন) কর্ণসুবর্ণ কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:- মুর্শিদাবাদ জেলার সদরদপ্তর বহরমপুর থেকে ৯.৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী রাঙামাটি গ্রাম এলাকায় অবস্থিত কর্ণসুবর্ণ।



প্রশ্ন) মিহিরকুল কে ছিলেন?

উত্তর:- খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতকের শেষ ভাগে গুপ্ত সাম্রাজ্য পতনের সময় উত্তর ভারতের উপর হুনদের আধিপত্য বিস্তার হবার পর তোরমান ও মিহিরকুল হুন রাজ্য স্থাপন করেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ মিহিরকুল-কে তীব্র বৌদ্ধবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন। মিহিরকুল বহু বৌদ্ধ মঠ ধ্বংস করেন। মান্দাসারের যশোধবর্মন মিহিরকুল-কে পরাজিত করেন।

প্রশ্ন) গৌড়তন্ত্র কি?

উত্তর:- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বঙ্গদেশ বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সময় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য প্রভূতিরা ক্ষমতা দখল করতে থাকে। হত্যা, চুরি, লুণ্ঠন দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাড়ায়। এই অবস্থাকে বৌদ্ধ গ্রন্থ আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্পে গৌড়তন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রশ্ন) হর্ষচরিত কি?

উত্তর:- হর্ষচরিত হল বাণভট্টর রচিত জীবনীমুলুক গ্রন্থ। এই গ্রন্থ থেকে হর্ষবর্ধনের জীবনী ও রাজত্বকাল সম্পর্কে জানা যায়।

প্রশ্ন) মাৎস্যন্যায় কাকে বলে?

উত্তর:- পুকুরের বড়ো মাছ যেমন ছোটো মাছ গুলিকে খেয়ে নেয়, ঠিক তেমনি শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় ১০০ বছর অরাজকতা সৃষ্টি হয়। বাংলায় দুর্বলের উপর সবলের যে অত্যাচার তাকে মাৎস্যন্যায় বলে।

প্রশ্ন) তাম্রশাসন কি?

উত্তর:- তাম্রশাসন হল তামার পাতে প্রাচীনতম লিখিত দলিল। সাধারণত রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মীয় সংগঠন বা গোষ্ঠীকে ধর্মাচরণের ক্ষেত্র তৈরির জন্য ভূমিদান-র চুক্তি তামার পাতের ওপর দলিল আকারে বিস্তারিত লেখা হত। তামার পাতের উপর লেখাই ইতিহাসে তাম্রশাসন নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) বানভট্ট কে ছিলেন?

উত্তর:- বানভট্ট ছিলেন হর্ষবর্ধনের সভাকবি। বাৎসগোত্রভুক্ত ব্রাহ্মণ বানভট্ট শোন নদীর তীরবর্তী প্রীতিকুট নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ হল হর্ষচরিত। এই গ্রন্থটি হর্ষবর্ধনের জীবন ও রাজত্বকাল সম্পর্কে জানা যায়। তবে এই গ্রন্থে বানভট্ট হর্ষবর্ধনের প্রতি অনেক বেশি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছেন। বানভট্টর অন্য একটি গ্রন্থ হল কাদম্বরী।


প্রশ্ন) মাৎস্যন্যায় বলতে কি বুঝায়?

উত্তর:- গৌড়রাজ শশাঙ্কের মৃত্যুর পর পাল বংশের উথান পর্যন্ত বাংলাদেশে যে চরম অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল ইতিহাসে তা মাৎস্যন্যায় নামে পরিচিত। যা আমরা খালিমপুর তাম্রশাসন থেকে জানতে পারি। শেষ পর্যন্ত প্রকৃতিপুঞ্জ-দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোপাল রাজা নির্বাচিত হন এবং বাংলাকে অরাজকতার হাত থেকে রক্ষা করে।

প্রশ্ন) হিউয়েন সাঙ কে ছিলেন?

উত্তর:- হিউয়েন সাঙ ছিলেন চৈনিক পরিব্রাজক। যিনি হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে আসেন। তিনি ভারতে ১৬ বছর ছিলেন। তার ভারত সম্পর্কে লিখিত গ্রন্থটি হল সি-ইউ-কি।

প্রশ্ন) প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝায়?

উত্তর:- প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ বলতে মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি গ্রাম-কে বোঝায়।

প্রশ্ন) খালিমপুর তাম্রশাসন কি?

উত্তর:- মালদহ জেলার অন্তর্গত খালিমপুর গ্রামের উত্তরাংশে হলকর্ষণ করতে গিয়ে, এক কৃষক এই তাম্রপট্টলিপি পেয়েছেন। এটি থেকে পাল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল সম্পর্কে জানা যায়।

প্রশ্ন) প্রাচীন গৌড় অঞ্চল বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝায়?

উত্তর:- আধুনিক কালের মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলা এবং বর্ধমান জেলার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে প্রাচীন গৌড় অঞ্চল গঠিত।
Advertisement advertise here