PayPal

গুপ্ত সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণে সমুদ্রগুপ্তের অবদান

author photo
- Thursday, March 14, 2019
সমুদ্রগুপ্তের (আঃ ৩৩৫-৩৮০ খ্রি:) পিতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও মাতা কুমারদেবীর পুত্র। সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ট সম্রাট। বিভিন্ন শিলালিপিতে তাকে লিচ্ছবি দৌহিত্র বলে উল্লেখ করেছে। সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণ বা হরিসেন রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তি ও মধ্যপ্রদেশে প্রাপ্ত এরাণ লিপি থেকে তার রাজত্বকাল সম্পর্কে জানা যায়। সম্রাট অশোকের এলাহাবাদ স্তম্ভের উপর খোদিত করা সংস্কৃত ছন্দে রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে সমুদ্রগুপ্তের সামরিক প্রতিভা ও রাজত্বকালের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়। এই লিপিটি বর্তমানে এলাহাবাদ দুর্গে রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রা থেকে তাঁর রাজত্বের অনেক তথ্য জানা যায়।
Samudragupta Gold Coins
অনেকে মনে করেন, সমুদ্র গুপ্তের সঙ্গে তার ভ্রাতাদের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে। সমুদ্রগুপ্তের জ্যৈষ্ঠ ভ্রাতা কচ ছিল এই দ্বন্দ্বের প্রধান। পূর্ব উত্তরপ্রদেশে কচ নামাঙ্কিত কিছু স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া গেছে। ড: স্মিথের মতে, কচ নামে সমুদ্রগুপ্তের কোনও ভ্রাতা হয়তো কিছুদিনের জন্য সিংহাসনে বসেছিলেন এবং সমুদ্রগুপ্ত তাকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করে। ড: রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায় বলেন, সমুদ্রগুপ্ত ও কচ একই ব্যক্তি এবং সর্বরাজোচ্ছেত্তা কথাটি একমাত্র সমুদ্রগুপ্ত সম্পর্কে প্রযোজ্য। পাটলিপুত্র ছিল সমুদ্রগুপ্তের রাজধানী। সমুদ্রগুপ্তের মন্ত্রী ছিলেন বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত বসুবন্ধু। সমুদ্রগুপ্তের উপাধি ছিল পরক্রমাঙ্ক, সর্বরাজোচ্ছেত্তা, অশ্বমেধ-পরাক্রম, অপ্রতিরথ ও কবিরাজ।

সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয়ের উদ্দেশ্য: সিংহাসনে আরােহণ করেই সমুদ্রগুপ্ত দিগ্বিজয়ীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্যের বিস্তীর্ণ স্থানে রাজ্য জয় করেন। এলাহাবাদ প্রশক্তিতে তার রাজ্যজয়ের বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায়। হরিষেণ তাকে শতযুদ্ধের নায়ক বলে অভিহিত করেছেন। ডঃ হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী বলেন যে, সমুদ্রগুপ্ত নিজেকে একরাট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা কারণ বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, শক্তিশালী রাজাদের কর্তব্যই হল ভারতভূমির ঐক্য প্রতিষ্ঠা। ডঃ রােমিলা থাপার এর মতে, তার রাজ্যজয়ের উদ্দেশ্য ছিল ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রসার ও সাম্রাজ্যবাদ। ডঃ গয়াল বলেন যে, দক্ষিণ ভারতের অপরিমিত সম্পদ আহরণ করে একটি বিশাল সেনাদল পােষণ এবং মগধের দরবারের বৈভব বৃদ্ধিই তার লক্ষ্য ছিল।

সমুদ্রগুপ্তের আর্যাবর্ত জয়: এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে জানা যায়, তিনি আর্যাবর্তের (উত্তর ভারত) অচ্যুত ( অহিচ্ছত্র বা বর্তমান রহিলখণ্ডের অধিপতি), নাগসেন ( মধ্য ভারতের পদ্মাবতী বা বর্তমান গোয়ালীয়রের রাজা), গণপতিনাগ (মথুরার নাগ-বংশীয় রাজা), রুদ্রদেব (বাকাটক বংশীয় রাজা), মতিল (উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের শাসক), নাগদত্ত (বিদিশা অঞ্চলের নাগ-বংশীয় রাজা), চন্দ্রবর্মন (বাঁকুড়া জেলার গোকর্ণ বা পুষ্করণ অঞ্চলের শাসক), বলবর্মন (কামরূপের রাজা) এবং নন্দিন (মধ্য ভারতের নাগ-বংশীয় রাজা) প্রমুখ নয়জন রাজাকে পরাজিত করে। তিনি পাঞ্জাব, রাজপুতানা, মালব, গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চল ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলি অধিকার করে। এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বলা হয়েছে, সমুদ্রগুপ্ত পুষ্পনগর থেকে তার আর্যাবর্ত যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। পুষ্পনগর বলতে অনেকে প্রাচীন কান্যকুব্জ বা কনৌজ বোঝেন, কারণ প্রাচীনকালে কান্যকুব্জর নাম ছিল পুষ্পপুর। আবার প্রাচীনকালে পাটালিপুত্রের নাম ছিল পুষ্পপুর। এলাহাবাদ প্রশস্তির ১১ ও ২১ সংখ্যক স্তবকে মোট দুইবার আর্যাবর্ত অভিযানের বিবরণ পাওয়া যায়।

সমুদ্রগুপ্তের আটবিক রাজ্যজয়: বাগেলখণ্ড শিলালিপি থেকে জানা যায়, সমুদ্রগুপ্ত বর্তমান গাজীপুর থেকে জব্বলপুর পর্যন্ত বিস্তৃত অরণ্য সংকুল অঞ্চলের ১৯ জন জঙ্গল অধিপতিকে পরাস্ত করে আটবিক রাজ্যগুলি জয় করে নিজ রাজ্যভুক্ত করেন। দক্ষিণ ভারত অভিযানের জন্যে এই রাজ্যগুলি জয় করে। উত্তরপ্রদেশ থেকে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত অরণ্য অঞ্চল গাজীপুর ও জব্বলপুর জেলা নিয়ে আটবিক রাজ্য গঠিত।

সমুদ্রগুপ্তের দাক্ষিণাত্যে জয়: সমুদ্রগুপ্ত ভারতের পূর্ব উপকূল ধরে দাক্ষিণাত্য অভিযানে অগ্রসর হন। অনেকের মতে সমুদ্র গুপ্তের সঙ্গে নৌবাহিনীর পাশাপাশি স্থলবাহিনী ছিল। সমুদ্রগুপ্ত দাক্ষিণাত্য কোশলের (মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুর ও রায়পুর জেলা এবং উড়িষ্যার সম্বলপুর জেলা) রাজা মহেন্দ্র। তার রাজধানী ছিল শ্রীপুর, মহাকান্তারের (মধ্য ভারতের অরণ্য অঞ্চল) ব্যাঘ্ররাজ, এরণ্ডপল্লের (বিশাখাপত্তনম জেলা) দমন, কৌরলের (মধ্যপ্রদেশের শোনপুর জেলা) মন্তরাজ, কাঞ্চির (তামিনাড়ুর কাঞ্জিভরম জেলা) বিষ্ণুগোপ, অবমুক্তার (কাঞ্চির নিকটবর্তী স্থান) নীলরাজ, পলাক্কের (নেলোর জেলা) উগ্রসেন, কোত্তরের (উড়িষ্যার গঞ্জাম জেলা) স্বামীদত্ত, দেবরাষ্ট্রের (বিশাখাপত্তনম অঞ্চল) কুবের, পিষ্ঠপুরমের (অন্ধের গোদাবরী জেলা) মহেন্দ্রগিরি, কুস্থলপুর (উত্তর অার্কট জেলা) ধনঞ্জয়, বেঙ্গির (ইলোরার সাত মাইল উত্তরে গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর মধ্যবর্তী স্থলে অবস্থিত পেদ্দাবেগী) হস্তিবর্মন প্রভুতি মোট বারো জন রাজাকে পরাজিত করেন। তিনি দাক্ষিণাত্যর রাজন্যবর্গের কাছ থেকে কর গ্রহণ ও আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ রাজ্য ফিরিয়ে দেন। হরিষেণ বা হরিসেন সমুদ্র গুপ্তের এই নীতিকে "গ্রহণ পরিমোক্ষ" বলেন। "গ্রহণ" বলতে প্রথমে তিনি শত্রুকে পরাজিত ও বন্দী করেন, তারপর "মোক্ষ" বা মুক্তি দেন। "অনুগ্রহ" অর্থাৎ পরাজিত শত্রুর বশ্যতা লাভ করে তার রাজ্য ফিরিয়ে দেন।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহ জয়: সমুদ্রগুপ্তের শক্তি বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হয়ে সমতট (দক্ষিণ ও পূর্ব বাংলা), দাভক (আসামের নওগা),কামরূপ (উত্তর আসাম), নেপাল ও কর্তৃপুর (পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলা) প্রভুতি পাঁচটি সীমান্তবর্তী রাজ্য এবং মালব (পূর্ব রাজপুতানা), অর্জুনায়ন (জয়পুর ও আলোয়ার অঞ্চলে বসবাসকারী), যৌধেয় (শতদ্রু ও বিপাশা অঞ্চল), মদ্রক (রাভি-চেনাব অঞ্চল), আভীর (মধ্যপ্রদেশের ভিলসা অঞ্চল), সনকানিক (মধ্যপ্রদেশের ভিলসা বা পাঞ্জাবের কোনও অঞ্চল), কাক (মধ্যপ্রদেশ বা কাশ্মীর), প্রার্জুন (মধ্যপ্রদেশে বা গান্ধার অঞ্চল) ও খরপারিক (মধ্যপ্রদেশ বা উত্তর-পশ্চিম ভারত) প্রভুতি উপজাতিদের দ্বারা শাসিত নয়টি গণরাজ্য বিনাযুদ্ধে তার আনুগত্য মেনে নেন।

সমুদ্রগুপ্তের মিত্রতা স্থাপন: পশ্চিম পাঞ্জাব ও আফগানিস্তানে রাজত্বকারী কুষাণ বংশীয় রাজা দৈৰপুত্র-শাহী-শাহানুশাহী পারসিক আক্রমণের বিরুদ্ধে তার সাহায্য প্রার্থনা করেন। সিংহল-রাজ মেঘবর্ণ তার অনুমতিক্রমে বােধগয়ায় একটি বৌদ্ধমঠ স্থাপন করে। মালব ও কাথিয়াওয়াড়ে রাজত্বকারী শক-বংশীয় রাজা ও সুবর্ণদ্বীপ (সুমাত্রা, মালয়, যবদ্বীপ) এর রাজন্যবর্গও তার সঙ্গে মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্যর আয়তন: সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল ছিল ৩৩৫-৩৮০ খ্রিস্টাব্দ। সমুদ্রগুপ্ত অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন। ঐতিহাসিক স্মিথ "সমুদ্রগুপ্তকে ভারতীয় নেপোলিয়ন বলেছেন"। ড: রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায় এর মতে তার সাম্রাজ্য পূর্বে ব্রহ্মপুত্র, দক্ষিণে নর্মদা এবং উত্তরে হিমালয় ও কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ড: রমেশচন্দ্র মজুমদার এর মতে, কাশ্মীর, পশ্চিম পাঞ্জাব, পশ্চিম রাজপুতানা, সিন্ধু ও গুজরাট বাদে সারা উত্তর ভারত এবং দক্ষিণে উড়িষ্যার ছত্রিশগড় হয়ে পূর্ব উপকূল ধরে তামিনাড়ুর চিঙ্গলপেট পর্যন্ত সমুদ্র গুপ্তের সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল।

সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রা

সমুদ্রগুপ্ত মোট আট ধরনের স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন। এই মুদ্রা গুলির মধ্যে রাজদন্ড, তীরন্দাজ, অশ্বমেধ মুদ্রা বাংলায় প্রচলিত ছিল বলে জানা যায়। রাজদন্ড অঙ্কিত মুদ্রা আবিষ্কৃত হয় বাংলাদেশ, মেদিনীপুর, বর্ধমান, হুগলি এবং চবিবশ পরগনা (উত্তর) থেকে। এতে উৎকীর্ণ রয়েছে দন্ডায়মান দন্ডধর রাজা নৈবেদ্য প্রদান করছেন। অন্য পিঠে সিংহাসনে উপবিষ্ট দেবীর হাতে ছাগলের শিং এবং পরাক্রম উক্তিটি উৎকীর্ণ।

তীরন্দাজ মুদ্রা পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলা থেকে। এর এক পিঠে রয়েছে তীর-ধনুক হাতে দন্ডায়মান রাজা এবং রাজার বাম বাহুর নিচে উৎকীর্ণ হয়েছে সমুদ্র শব্দটি অন্য পিঠে আছে রাজদন্ড মুদ্রার ন্যায় তবে এতে অপ্রতিরথঃ বা প্রতিদ্বন্দ্বীহীন যোদ্ধা উক্তিটি উৎকীর্ণ রয়েছে। অশ্বমেধ মুদ্রা আবিষ্কৃত হয় বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা থেকে। এই মুদ্রায় অঙ্কিত রয়েছে উড়ন্ত পতাকা সম্বলিত যুপকাষ্ঠের সম্মুখে সাজসজ্জাবিহীন একটি অশ্ব। এর অপর পিঠে আছে সজ্জিত বর্শার সম্মুখে দন্ডায়মান একজন নারী, যাকে প্রধান রানী বলে মনে করা হয় এবং উৎকীর্ণ হয়েছে অশ্বমেধ পরাক্রম উক্তিটি। নারীমূর্তিটির ডান কাঁধের উপর আছে একটি ঝাড়ু।

সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রা গুলিতে নানা বিষয়ের চিত্র খোদিত ছিল। কোন কোন মুদ্রায় লক্ষ্য করা যায় সমুদ্রগুপ্ত কুঠার ধারন করে আছেন, আবার কোথাও দেখা যায় তিনি বাঘ্র্য শিকার করছেন। এই সকল মুদ্রাগুলি সমুদ্রগুপ্তের সামরিক কৃতিত্বের পরিচায়ক। যেটিতে কুঠারধারী সমুদ্রগুপ্ত লক্ষ্য করা যায় সেটির নাম কৃতান্তাপরশু এবং বাঘ্র শিকার করা মুদ্রাটির নাম বাঘ্রা-পরাক্রম। ঐতিহাসিকদের সমুদ্রগুপ্তের যে মুদ্রাটি সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেটিতে সমুদ্রগুপ্তকে বীণাবাদক রূপে দেখা যায়। এটি সমুদ্রগুপ্তের সাংস্কৃতিক মনোভাব প্রকাশ করে। সমুদ্রগুপ্তের প্রচলিত মুদ্রা গুলির ব্যাস ছিল ১৯ থেকে ২৩ মিলিমিটার। সমুদ্র গুপ্তের প্রচলিত মুদ্রা গুলিতে ৭.১৫ থেকে ৭.৬২ পরিমান স্বর্ণ থাকত মুদ্রা ভেদে।

সমুদ্রগুপ্তের কৃতিত্ব

ড: স্মিথের মতে, সমুদ্রগুপ্ত ভারত ইতিহাসের একজন অতি উল্লেখযোগ্য ও গুনবান নরপতি হিসেবে চিহ্নিত (Oxford History of India, Smith, P. 148)। ড: রমেশচন্দ্র মজুমদার-এর মতে, সমুদ্রগুপ্ত ভারত ইতিহাসে একজন উল্লেখযোগ্য ও চমকপ্রদ ব্যক্তিত্ব। ভারত ইতিহাসে তিনি এক নব যুগের উদ্বোধন করেছিলেন।

বৈদেশিক শাসন ও অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যর অস্তিত্বের ফলে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য যখন বিনষ্ট, সেরকম এক অবস্থায় সমুদ্রগুপ্ত সামরিক বলের দ্বারা ভারতের এক বিস্তীর্ণ স্থানে রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপন করেন। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের মথুরা লিপিতে বলা হয়েছে, সমুদ্রগুপ্তের "রাজ্যজয়ের খ্যাতি চার সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল"।

সামরিক বলের মোহে অন্ধ হয়ে তিনি দক্ষিণ ভারত ও শক-কুষাণ প্রভুতি দূরবর্তী অঞ্চলের রাজ্যগুলিকে কুক্ষিগত করেন নি। বরং তাদের স্বায়ত্তশাসননের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে এবং তাদের কর ও আনুগত্য গ্রহণ করে তিনি তার স্বশাসিত রাজ্যর নিরাপত্তা করেন। এটি তার বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক।

গুপ্ত যুগে বৌদ্ধিক ও জাগতিক সমৃদ্ধির যে চরম বিকাশ পরিলক্ষিত হয় তার সূচনা হয়েছিল সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে। এই কারণে ঐতিহাসিক গোখলে সমুদ্রগুপ্ত-কে "প্রাচীন ভারতীয় সুবর্ণ যুগের অগ্রদূত" হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষক হয়েও সমুদ্রগুপ্ত পরধর্মমতসহিষ্ণু ছিলেন। সিংহল-রাজ মেঘবর্ণ-কে সমুদ্রগুপ্ত বুদ্ধ গয়ায় মঠ নির্মাণের অনুমতি দেন ও ভূমিদান করেন। এবং বৌদ্ধ পণ্ডিত বসুবন্ধুর পৃষ্ঠপোষকতা করেন।

সমুদ্রগুপ্ত কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত ও শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সমুদ্রগুপ্তের উপাধি ছিল কবিরাজ বা শ্রেষ্ট কবি। সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রায় অঙ্কিত বীণাবাদনরত মূর্তি থেকে সমুদ্রগুপ্তের সঙ্গীতানুরাগের কথা জানা যায়। বিখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত হরিসেন সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি ছিলেন এবং বৌদ্ধ পণ্ডিত বসুবন্ধু তার পৃষ্ঠপোষকতা অর্জন করেন।