PayPal

বাংলার সেন যুগের পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর।

author photo
- Sunday, February 24, 2019

সেন যুগের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর।

প্রশ্ন) উমাপতি ধর কে ছিলেন?

উত্তর:- সেন যুগের বিখ্যাত সংস্কৃত কবি সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি বিজয় সেনের সভাকবি ছিলেন। তিনি সুবর্ণগ্রামে (বর্তমান বাংলাদেশের সোনারগাঁও) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেওপাড়া প্রশস্তি রচনা করেন।


প্রশ্ন) দায়ভাগ আইন কি?

দায়ভাগ গ্রন্থের প্রণেতা বিখ্যাত হিন্দু আইনের ব্যাখ্যাকর্তা জীমূতবাহন। এই হিন্দু দায়ভাগ আইন গ্রন্থে মৃত স্বামীর সম্পতিতে বিধবা স্ত্রীর অধিকার স্বীকৃত করা হয়। বাংলা ও আসামে এই নীয়ম প্রচলিত ছিল।

প্রশ্ন) মিতাক্ষরা কি?

উত্তর:- মিতাক্ষরা গ্রন্থের লেখক হায়দ্রাবাদের বিজ্ঞানেশ্বর। মিতাক্ষরা আইন মতে মৃত স্বামীর সম্পতিতে বিধবা স্ত্রীর অধিকার স্বীকৃত নয় এবং পিতার জীবিত কালে তার সন্তানরা সম্পদে সমান অধিকারে অধিকারী। এই মত ভারতের অন্যত্র চালু ছিল। এগুলি পাল যুগে রচিত হয়েছিল।

প্রশ্ন) দানসাগর ও অদ্ভুত সাগর কি?

উত্তর:- দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর গ্রন্থ দুটি রচনা করেন বল্লাল সেন। এই গ্রন্থ দুটি যথাক্রমে ছিল স্মৃতি শাস্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র। এই দুটি গ্রন্থে হিন্দু বর্ণাশ্রম ধর্ম, আচরণ বিধি ও দান কর্ম বিধির কথা লিখিত আছে।

প্রশ্ন) জয়দেব কে ছিলেন?

উত্তর:- লক্ষণ সেনের সভাকবি জয়দেব ছিলেন সংস্কৃতি ভাষার কবি। তিনি গীতগোবিন্দ কাব্যের রচয়িতা। সংস্কৃতি কবি জয়দেবের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূমের কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে। জয়দেবের নামে সেখানে প্রতি বছর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। জয়দেবের পিতার নাম ভোজদেব ও মাতার নাম বামাদেবী।

প্রশ্ন) চর্যাপদ কাকে বলে বা চর্যাপদ কি?

উত্তর:- বাংলা ভাষার আদিরুপের নিদর্শন হল চর্যাপদ। পাল যুগে এই ভাষার ব্যবহার প্রথম দেখা যায়। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের দরবার থেকে চর্যাপদ পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। সম্ভবত খ্রিস্টিয় দশম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্য চর্যাগীতগুলি রচিত হয়েছিল। এইগুলির রচয়িতাদের বলা হত সিদ্ধাচার্য। এই রকম কয়েকজন সিদ্ধাচার্য হলেন লুইপাদ, শবরীপাদ, ভুসুকপাদ ইত্যাদি। চর্যাগীতগুলির বিষয়বস্তু হল বৌদ্ধ সহজীয়া ধরণার গুঢ় আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা ও জীবনচরণের আনন্দের আখ্যান। মোট ২২ জন কবির ৪৭ টি দোহা পাওয়া গিয়েছে।

প্রশ্ন) কৌলিন্য প্রথা কাকে বলে বা কৌলিন্য প্রথা কি?

উত্তর:- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক বল্লাল সেন। হিন্দু সমাজে রক্ষণ শীল তা বজায় রাখার জন্য তিনি ব্রাহ্মণ, বৈদ্য ও কায়স্তদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি ও পরিবারকে কুলীন মর্যাদা দান করেন। এঁরা উচ্চবর্ণের ও সমাজের ধারক বলে বিবেচিত হতেন। এই ব্যবস্থা কৌলিন্য প্রথা নামে পরিচিত। তবে এই প্রথা যে হিন্দু সমাজে সামাজিক ভেদ ও অস্পৃশ্যতা বৃদ্ধি করেছিল, তাতে কোন সন্দেহ নেই।


প্রশ্ন) হলায়ুধ কে ছিলেন?

উত্তর:- সেন যুগে স্মৃতি ও ধর্মশাস্ত্র রচয়িতাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন হলায়ুধ। তিনি রাজা লক্ষণ সেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হল ব্রাহ্মণসর্বস্ব ও মীমাংসাসর্বস্ব। এই গ্রন্থগুলিতে তদানীন্তন হিন্দু সমাজের রক্ষণশীল মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বৈষ্ণব ধর্মের অনুগামী ছিলেন।

প্রশ্ন) লক্ষণ সেনের রাজসভায় পঞ্চরত্ন কারা ছিলেন?

উত্তর:- শরণ, ধোয়ী, গোবর্ধন, উমাপতি ধর ও জয়দেব।

প্রশ্ন) গীতগোবিন্দ কি?

উত্তর:- সেন যুগের কবি জয়দেব গীতগোবিন্দ রচনা করেন। এই গ্রন্থটি সংস্কৃতি ভাষায় রচনা করেন। এর রচনাকাল ১২ শতক। এই কাব্যর মূল বিষয় শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলা।

প্রশ্ন) ধোয়ী কে ছিলেন?

উত্তর:- ধোয়ী ছিলেন লক্ষণ সেনের রাজসভার একজন বিশিষ্ট কবি। তার বিখ্যাত গ্রন্থের নাম পবনদূত। তিনি সংস্কৃত ভাষায় কাব্য রচনা করতেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার নবদ্বীপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাশ্যপ গোত্রের পালাধী গ্রামীন ছিলেন।

প্রশ্ন) পবনদূত কাব্য কি?

উত্তর:- পবনদূত কাব্য রচনা করেন সেন যুগের কবি ধোয়ী। এই কাব্যর মূল বিষয় হল লক্ষ্মণ সেন দিগ্বিজয় উপলক্ষে দক্ষিণদেশে মালয় পর্বতের কাছে গেলে কুবলয়বতী নামে এক গন্ধর্বকন্যার প্রেমে আসক্ত হয় এবং সে পবন অর্থাৎ বায়ুকে দূত করে তাঁর কাছে প্রেরণ করে। তাই এই কাব্য গ্রন্থের নাম পবনদূত। এই কাব্যটি ১০৪ টি শ্লোকে রচিত। এই কাব্যটিতে কুবলয়বতী ও লক্ষ্মনসেনের প্রেমলীলা ছাড়া গৌড় নগরী সহ ভারতের অন্যান্য কিছু স্থান ও নদনদীর বর্ণনা আছে।

প্রশ্ন) শূলপাণি কে ছিলেন?

উত্তর:- শূলপাণি ছিলেন নব্যস্মৃতির প্রবর্তক। পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপে শূলপাণি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রাদ্ধ, একাদশী, বৈবাহিক সম্বন্ধ, ব্রত, তিথি, প্রায়শ্চিত্ত, দুর্গোৎসব, রাসযাত্রা, দোলযাত্রা, সংক্রান্তি, আয়ুর্বেদ ও দত্তক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার এসব গ্রন্থে হিন্দুসমাজের বিভিন্ন রীতি-নীতি ও ধর্মীয় আচার-আচরণ সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া তাঁর রচিত যাজ্ঞবল্ক্যস্মৃতির দীপকলিকা নামক টীকা আয়ুর্বেদশাস্ত্রের মূল্যবান গ্রন্থ। শূলপাণি মীমাংসা ও ন্যায়দর্শনের পন্ডিত ছিলেন। বিখ্যাত নৈয়ায়িক রঘুনাথ শিরোমণি শূলপাণির দৌহিত্র।

প্রশ্ন) ভবদেব ভট্ট কে ছিলেন?

উত্তর:- ভবদেব ভট্ট প্রাচীন বঙ্গদেশের সুবিখ্যাত ধর্মশাস্ত্র রচয়িতা ছিলেন। তিনি অর্থশাস্ত্র, আয়ুর্বেদ, গণিতসিদ্ধান্ত, জ্যোতিষ ফলসংহিতা, ব্রহ্মাদ্বৈত দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে সুপন্ডিত ছিলেন। ভবদেব ভট্টের পিতামহ আদিদেব বঙ্গদেশে রাজার সন্ধিবিগ্রহিক ছিলেন। ভবদেব ভট্টের পিতার ছিল গোবর্ধন এবং মাতা ছিল সাঙ্গোকা। তিনি বর্মণরাজ হরিবর্মার মহাসন্ধিবিগ্রহিক মন্ত্রী ছিলেন। ভবদেব ভট্ট রাঢ় অঞ্চলের সিদ্ধল গ্রামের অধিবাসী একজন সাবর্ণ গোত্রের ব্রাহ্মণ ছিলেন। ভবদেব ভট্ট রচিত গ্রন্থ হল ভৌতাতিতম তিলক, দশকর্ম পদ্ধতি, হোরাশাস্ত্র, ছান্দোগ্যপ্রকরণ, প্রায়শ্চিত্তপ্রকরণ ও ব্যবহারতিলক।

প্রশ্ন) জীমূতবাহন কে ছিলেন?

উত্তর:- জীমূতবাহন প্রাচীন বঙ্গদেশের সুবিখ্যাত ধর্মশাস্ত্র রচয়িতা। জীমূতবাহন কালিবেক, ব্যবহারমাতৃকা ও দায়ভাগ নামক তিনটি গ্রন্থ রচনা করেন। কালবিবেক গ্রন্থে জীমূতবাহন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের শুভ ও অশুভ কাল ছাড়া সৌরমাস ও চান্দ্রমাস সন্বন্ধে আলোচনা করেছেন। ব্যবহারমাতৃকা গ্রন্থে তিনি ব্রাহ্মণ্য ধর্মের আদর্শ অনুযায়ী বিচার পদ্ধতির আলোচনা করেন। এই গ্রন্থ ব্যবহারমুখ, ভাষাপাদ, উত্তরপাদ, ক্রিয়াপদ ও নির্ণয়পাদ এই পাঁচটি বিভাগে বিভক্ত ছিল। এই পাঁচটি বিভাগে তিনি ব্যবহারের সংজ্ঞা, বিচারকের গুণ ও কর্তব্য, ধর্মাধিকরণ নামক সভ্যদের কর্তব্য, বিচারপ্রার্থীর আবেদন বা পূর্বপক্ষ, প্রতিভূ বা জামীন, প্রত্যার্থীদের চার প্রকার উত্তর, প্রমাণ, মানব ও দৈব সাক্ষ্য, বিচার ও বিচারফল সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন। দায়ভাগ গ্রন্থে হিন্দুসমাজে উত্তরাধিকার, সম্পত্তি-বিভাগ ও স্ত্রীধন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

ট্যাগ: সেন রাজবংশের ইতিহাস। সেন বংশের শাসন কাঠামো। সেন যুগের ছোটো প্রশ্ন ও উত্তর।

No comments:

Post a Comment