PayPal

সেন রাজবংশের শাসন কাঠামো আলোচনা কর।

author photo
- Thursday, February 21, 2019

সেন বংশের শাসন কাঠামো।

সেন রাজবংশের শাসন কাঠামো জানা যায় সমকালীন লেখমালা। যেমন - বিজয় সেনের ব্যারাকপুর তাম্রশাসন ও দেওপাড়া প্রশস্তি, লক্ষণ সেনর আনুলিয়া লিপি, সূর্য সেনের ইদিলপুর তাম্রশাসন, ভোজবর্মনের বেলাব লিপি, ডোম্মনপালের সুন্দরবন লিপি ইত্যাদি।


সেন শাসব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য:

১) রাজা ও রাজপরিবারের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
২) সেন যুগে শাসনকার্য আমলাতন্ত্র অভিজাতদের প্রভাব বহুল মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
৩) সমাজ ও রাষ্ট্রে অভিজাত সম্প্রদায়, আমলাতন্ত্র ও ব্রাহ্মণদের প্রাধান্যের ফলে সাধারণ মানুষ কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
৪) শাসনকার্যে রাজমহিষীদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়।
৫) সেন যুগে শাসনকার্যে জনপ্রতিনিধি বিষয়টি একেবারে সংকুচিত হয়।

সেন যুগের রাজা:

সেন শাসব্যবস্থায় রাজা ছিলেন সর্বেসর্বা এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী। রাজতন্ত্র ছিল বংশানুক্রমিক। এরা বিভিন্ন ধরনের উপাধি ধারণ করতেন। পরমেশ্বর, পরমভট্টরক, মহারাজাধিরাজ প্রভুতি। বিজয় সেন, বল্লাল সেন ও লক্ষণ সেন যথাক্রমে অরিরাজবৃষভশঙ্কর, অরিরাজনিঃশঙ্কশঙ্কর এবং অরিরাজমর্দনশঙ্কর প্রভুতি উপাধি গ্রহণ করেন।

সেন যুগের রাজকর্মচারী:

সেন রাজাদের লিপিতে বিভিন্ন কর্মচারীদের নাম পাওয়া যায়। এর মধ্য উল্লেখযোগ্য ছিল মহামন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া এই যুগে মহা নামধারী প্রচুর নতুন পদের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেগুলি হল মহাসন্ধিবিগ্রহিক, মহাপুরোহিত, মহাভোগপতি, মহাধর্মধক্ষ, মহাসেনাপতি, মহাকরণাধক্ষ প্রভুতি। বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন মহাধর্মধক্ষ। সামরিক বিভাগের প্রধানকে বলা হত মহাপিলুপতি।



সেন যুগের প্রশাসনিক বিভাগ:

সেন যুগে ভুক্তি, বিষয়, মণ্ডল ও গ্রাম প্রভুতি প্রশাসনিক বিভাগ ছিল। এই যুগের লিপিগুলিতে ভুক্তি, মণ্ডল, বিষয় ও বীথির পরবর্তী স্তরে গ্রাম এর কোন উল্লেখ নেই। বরং গ্রাম সংক্রান্ত ক্ষুদ্র বৃহৎ একাধিক নতুন বিভাগ উপবিভাগের উল্লেখ আছে। সেগুলি হল পাটক, চতুরক, আবৃত্তি, গ্রাম প্রভুতি।

বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে সেন যুগ শান্তি ও সমৃদ্ধির যুগ। এই শান্তি ও সমৃদ্ধির ফলে বাংলার রাজনীতি, ধর্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক নব যুগের সূচনা হয়।

সহায়ক গ্রন্থাপঞ্জী:
১) ভারত ইতিহাস - জীবন মুখোপাধ্যায়।

ট্যাগ: সেন যুগের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর। সেন বংশের ইতিহাস। সেন যুগের ছোটো প্রশ্ন ও উত্তর।