ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান।

author photo
- Saturday, February 09, 2019
advertise here

ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের সম্পর্ক।

ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক বেশ গভীর। আগস্ট কোতকে সমাজ বিজ্ঞানের জনক। আবার তিনি ইতিহাসচর্চার বিকাশের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। তাই স্বভাবতই সমাজবিদ্যার সঙ্গে ইতিহাসে যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকবে তা প্রায় অবসম্ভাবী। অধ্যাপক অমলেশ ত্রিপাঠী বলেছেন যে, "ইতিহাস হল মানববিদ্যার এবং সমাজবিজ্ঞান সমূহের আত্মা"। ইতিহাস থেকে তথ্য নিয়ে সমাজবিদ্যা তার তত্ত্বগুলি নির্মাণ করে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তার ভিত্তি স্থাপন করে। ইতিহাসের মধ্যে মানব জীবনে সব কর্মকাণ্ডকে স্থান দেওয়া হয়েছে। সমাজবদ্ধ মানুষের অতীতের কর্মকাণ্ডের কাহিনী হল ইতিহাস।


মনুষ্য সভ্যতা হলো সঙ্গবদ্ধ সামাজিক জীবনের ফল। সমাজবিজ্ঞান সামাজিক মানুষের জীবনের কাহিনী নথিভুক্ত করে রাখে, আর ইতিহাস সেই কাহিনীর ভিত্তি স্থাপন করে। সমাজবিদ্যা মানুষের জীবন-যাপন ও ভাবধারাকে প্রভাবিত করার মত যে সমস্ত উপাদান যেমন- ভৌগলিক, জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং অর্থনৈতিক দিকগুলির নথিভুক্ত করে ও ব্যাখ্যা করে।



ইতিহাস যেমন মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় জীবন-যাপনের ব্যাখ্যা করে। তেমনি বলা যায়, সমাজবিদ্যার জ্ঞান থাকলে এই ইতিহাসে ভাবধারাকে সহজে ব্যাখ্যা করা যায়। সমাজবিদ্যার বৈশিষ্ট্য ইতিহাসের অভ্যন্তরে নানা ঘটনার উপযুক্ত বর্ণনা করতে পারে ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করতে পারে।

অন্যদিকে যায় যে, ইতিহাসের আলোকে সমাজবিজ্ঞানের সব শাখার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হয়। কোন বিশেষ সময়ের সামাজিক অবস্থান, মানুষের জীবন-যাপন, সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ইত্যাদি সঠিক বর্ণনা করতে ইতিহাসের জ্ঞানের বিশেষ জরুরী বলে মনে করা হয়।

রক্ষণশীল ঐতিহাসিকরা অনেক সময় ইতিহাসের সঙ্গে সমাজ বিজ্ঞানের সম্পর্ক মানতে রাজি নন। তথাপি বলা যায়,  মানব সভ্যতা বা সমাজবিজ্ঞানের নানা দিক বর্ণনা করতে সমাজবিজ্ঞান ইতিহাসের নানা ঘটনা ঘটনাপঞ্জীকে কাজে লাগায়। সুতরাং ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানে সম্পর্ক পারস্পরিক নির্ভরতা উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে এবং উভয়বিদ্যা এর ফলে যথার্থভাবে উপকৃত হয়েছে।




সর্বশেষে বলা যেতে পারে যে, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান একে অপরের সঙ্গে পরিপূরক। একথা স্বীকার করা হয় যে, সমকালীন সমাজবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করার জন্য প্রয়োজন, অতীত সম্পর্কে ধ্যান-ধারণা এবং তথ্য আমরা ইতিহাস থেকে লাভ করি। সমাজবিজ্ঞান থেকে আলাদা করে ইতিহাস পাঠ যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি ইতিহাসকে সমাজবিদ্যা থেকে পৃথক করে বর্ণনা করা অযৌক্তিক। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ইতিহাস বা সমাজ বিদ্যার বিভিন্ন শাখা বর্ণনার জন্য জরুরী একে অপরের জ্ঞানকে যথার্থভাবে ব্যবহার করা ও বিজ্ঞানসম্মত করা।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জী:

১) কাকে বলে ইতিহাস - ই. এইচ. কার।
২) ইতিহাসচর্চা - নির্মল বন্দোপাধ্যায়।
৩) প্রাচীন ভারতের ইতিহাস - সুনীল চট্টোপাধ্যায় (১ ম খণ্ড)
ইতিহাস অনুসন্ধান ৪ (গৌতম চট্টোপাধ্যায়, সম্পাদিত) ইতিহাস রচনায় প্রত্নতত্ত্বের ভূমিকা - অমিত রায়।
৪) ইতিহাসতত্ত্ব -এম. দেলওয়ার হোসেন।
৫) ইতিহাস ও ঐতিহাসিক - মমতাজুর রহমান তরফদার।
Advertisement advertise here