PayPal

কৃষক বিদ্রোহের কারণ।

author photo
- Monday, January 21, 2019

কৃষক বিদ্রোহের কারণ (The cause of peasant rebellion)।

ভারতে ব্রিটিশ রাজত্বের সূচনা থেকে অর্থাৎ ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জয়লাভের পর থেকে একের পর এক কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। তবে এই বিদ্রোহ সারা ভারতে একসঙ্গে দেখা যায়নি। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে এই বিদ্রোহ ঘটে। এই সমস্ত কৃষক বিদ্রোহের অনেকগুলি কারণ ছিল।

(১) কোম্পানি প্রবর্তিত নতুন ভূমিরাজস্ব নীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকশ্রেণি:

ব্রিটিশ শাসনের প্রথম শতকে কোম্পানি প্রবর্তিত নতুন ভূমিরাজস্ব নীতি ও ভুমিরাজস্ব ব্যবস্থা, রাজস্ব আদায়ের জন্য আমিলদার ও ইজারাদারদের অত্যাচার, প্রচলিত ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিবিহীন নতুন আইন ও বিচারব্যবস্থায় ভারতীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যা তাদের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করে তুলেছিল। দরিদ্র ভূমিহীন প্রজাদের বিদ্রোহ তারই আত্মপ্রকাশ।

(২) কোম্পানি প্রবর্তিত ভূমিরাজস্বের উচ্চ হার:

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, মহলওয়ারি বন্দোবস্ত, রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত ও ভাইচারি ব্যবস্থা অন্যান্য ধরণের রাজস্বব্যবস্থা এবং নতুন ভুমিরাজস্ব ব্যবস্থায় ভুমিরাজস্বের হার ছিল অনেক বেশি । এইসব ভুমি-রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ায় ভারতের গ্রামীণ জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে।

(৩) কুটিরশিল্প ধ্বংস:

ইংল্যান্ডে ১৮ শতক ও ১৯ শতকের শিল্পবিপ্লবের ফলে ভারতীয় কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়। এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল কৃষকরা তাই ব্রিটিশ বিরোধী হয়ে ওঠেন এবং আন্দোলনের পথ বেছে নেয়।

পড়ুন:রংপুর কৃষক বিদ্রোহ।

(৪) জমিদারী উৎপীড়ন:

জমিদার ও তাঁদের নায়েব গোমস্তাদের প্রজাপীড়ন কৃষকদের বিদ্রোহে ইন্ধন যোগায়।



(৫) মহাজনদের শোষণ:

মহাজনদের শোষণ ও বঞ্চনা কৃষক বিদ্রোহে অন্যতম কারণ। তাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ ঘটে।

(৬) সরকারি বঞ্চনা:

কৃষকদের প্রতি সরকারের বঞ্চনা ও উপেক্ষা কৃষক বিদ্রোহে প্ররোচিত করে।

৭) কৃষক আন্দোলনের অর্থনৈতিক শোষণের প্রতিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চরিত্র:

কৃষক শ্রেণী ছিল ইংরেজের সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বর্সামুখ। তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। মহাজন ও জমিদারদের আক্রমন করে।


৮) কৃষকদের বিদ্রোহী চেতনা:

ভারতের শান্ত, নিরীহ ও তুষ্ট কৃষকরা জমিদার, মহাজনদের উৎপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

৯) মধ্যসত্বভোগীদের অত্যাচার:

জমিদাররা রায়তের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের ঝঞ্জাট এড়াতে অধিনস্ত জমিদারদের জমি বন্দোবস্ত দিয়ে দেই। এদের বলা হয় পত্তনীদার। অধিনস্ত জমিদাররা আবার তাদের জমিদারী সত্বকে অধিনস্ত ক্ষুদ্র জমিদারদের কাছে বন্দোবস্ত দেই। এদের নাম ছিল দর পত্তনীদার। এর নিচে আরও ক্ষুদ্র জমি মালিক ছিল দর দর পত্তনীদার এবং তার নীচে জোতদার। সবার নীচে কৃষক। এই মধ্যসত্বভোগী শ্রেণী প্রত্যেক স্তরে অধীনস্থ জমি গৃহীতার ওপর খাজনার পরিমাণ বৃদ্ধি করত। ফলে কৃষক শ্রেণী বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।