১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন

- December 22, 2018
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের পটভূমি: ১৯১৯ খ্রীঃ মন্টফোর্ড আইন ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে অক্ষম হয়। ফলে এই আইনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস তীব্র সমালােচনা করে। ১৯২০-২২ খ্রীঃ অসহযােগ আন্দোলন এবং ১৯৩০-৩৪ খ্রীঃ আইন অমান্য আন্দোলন দ্বারা জাতীয় কংগ্রেস যথাক্রমে স্বরাজ ও পুর্ণ স্বরাজ দাবী করে। মটফোর্ড আইন যে কংগ্রেসের কাছে আদপেই গ্রহণযােগ্য নয় তা প্রমাণিত হয়। এমন কি মডারেট নেতারাও হতাশ হয়ে পড়েন। ব্রিটিশ সরকার উপলব্ধি করেন যে, নতুন সংবিধান প্রবর্তন না করা পর্যন্ত কংগ্রেসের গণ আন্দোলনকে নিরস্ত করা যাবে না।
1935 indian government act
ব্রিটিশ সরকার অবশ্য আন্দোলনাকারীদের দমনের জন্যে রাউলাট আইন প্রয়ােগ করেন। কিন্তু তাতে জনমতকে প্রশমিত করা যায়নি। অসহযােগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর চিত্তরঞ্জন ও মোতিলালের নেতৃতে স্বরাজ দল নির্বাচনে জয়লাভ করে আইন সভার ভেতর সাংবিধানিক বাধা সৃষ্টির দ্বারা মন্টফোর্ড ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আইন সভা প্রস্তাব নেয় যে, গভর্ণর জেনারেল ও তার কাউন্সিলকে অনুরােধ করা হচ্ছে যে, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্যে ১৯২৯ খ্রীঃ মধ্যেই যেন প্রচলিত সংবিধানের সংশােধন করা হয়। যদিও গভর্ণর জেনারেল এই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি, তখনি ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারেন যে, একটি বিকল্প সংবিধান দরকার।

ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সরকার স্যার আলেকজাণ্ডার মুড়িম্যানে সভাপতিত্বে একটি তদন্ত কমিটির সাহায্যে মটফোর্ড আইনের ক্রটি সম্পর্কে রিপাের্ট দিতে বলেন। এই কমিটিতে স্যার তেজ বাহাদুর সাপ্রু ও মহম্মদ আলি জিন্নাহ ছিলেন। এই কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা সরকারকে অনুকল রিপাের্ট দিলেও, সংখ্যালঘু কিছু সদস্য নতুন সংবিধান প্রনয়ণের প্রয়োজন দেখান। তারা বলেন যে, প্রদেশে ডায়ার্কী প্রথা সম্পূর্ণ রূপে বিফল হয়েছে।

এরপর ব্রিটিশ সরকার সাইমন কমিশন ১৯২৮ খ্রীঃ নিয়ােগ করেন। এই কমিশনের ৭ সদস্যর সকলেই ব্রিটিশ ছিলেন। কমিশনে কোন ভারতীয় সদস্য ছিলেন না। সাইমন কমিশনকে ১৯১৯ খ্রীঃ মন্টফোর্ড আইনের ত্রুটি বিচ্যুতি নিরূপণ এবং ভারতে দায়িত্বশীল সরকার গঠন সম্পর্কে তদন্ত করে মতামত জানাতে বলা হয়। এই কমিশনের কোন ভারতীয় সদস্য না থাকায় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ সকল দলই এই কমিশন বর্জন করে। যাই হােক, ১৯৩০ খ্রীঃ এই কমিশনের রিপাের্টে ডায়ার্কী প্রথা লােপের সুপারিশ করা হয়। প্রাদেশিক শাসনের সমস্ত দায়িত্ব নির্বাচিত মন্ত্রীসভার হাতে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সাইমনের রিপাের্টে ভােটাধিকার সম্প্রসারণ ও আইন সভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কথাও বলা হয়। একটি সর্বভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের জন্যে ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধিদের সমবায়ে পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

যাই হােক, সাইমন কমিশনের রিপাের্টের পাশাপাশি পণ্ডিত মােতিলাল নেহেরুর সভাপতিত্বে একটি বেসরকারি কমিটি নেহেরু রিপাের্ট (১৯২৮ খ্রীঃ) রচনা করেন। নেহেরু রিপাের্টে ডােমিনিয়ান ষ্টেটাসকে ভারতীয়দের আন্দোলনের লক্ষ্য বলা হয়। মুসলিম লীগ নেতা জিন্নাহের সঙ্গে মতভেদের ফলে নেহেরু রিপাের্ট গৃহীত হয়নি। ইতিমধ্যে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পূর্ণ স্বরাজের দাবীতে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৩০-৩১ খ্রীঃ ইংলন্ডের প্রধানমন্ত্রী ভারতের সাংবিধানিক সমস্যা আলােচনার জন্যে প্রথম গােল টেবিল বৈঠক ডাকেন। কিন্তু কংগ্রেস এই বৈঠক বয়কট করায় আলােচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ১৯৩১ খ্রীঃ দ্বিতীয় গােল টেবিল বৈঠকে কংগ্রেসের পক্ষে মহাত্মা গান্ধী যােগ দেন। কিন্তু মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মহম্মদ আলি জিন্নাহ মুসলিমদের স্বতন্ত্র অধিকার দাবী করলে বৈঠক ভেঙে যায়। ১৯৩২ খ্রীঃ ব্রিটিশ সরকার তৃতীয় গােল টেবিল বৈঠক ডাকেন। এই বৈঠক কংগ্রেস বর্জন করে। ১৯৩৩ খ্রীঃ ব্রিটিশ সরকার একটি শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশ করে কেন্দ্রে ডায়ার্কী ও প্রদেশে দায়িত্বশীল শাসন প্রবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই শ্বেতপত্রের নীতিকে কার্যকরী রূপদানের খসড়া রচনায় লিনলিথগো কমিটি নিয়োগ করা হয়। এই কমিটিকে ভারতীয় প্রতিনিধিদের মতামত যাচাই করে কাজ করতে বলা হয়। এই উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ভারত থেকে ২১ জন ও রাজন্যশাসিত অঞ্চল থেকে ৭ জন মনােনীত প্রতিনিধিকে নিয়ােগ করা হয়। এই কমিটি যদিও বহু লােকের সাক্ষ্য নেয় এবং কিছু সুপারিশ করে, কার্যতঃ শ্বেতপত্রের ভিত্তিতেই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত শাসন আইন প্রবর্তন হয়।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ধারা: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ছিল ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বৃহৎ ও দীর্ঘ আইন। এই দীর্ঘতার জন্য ভারত শাসন আইনকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। (১) ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। এই আইনের মোট ৩২১ টি ধারা ও ১০ তপশিলি। (২) ১৯৩৫ সালে বর্মা শাসন আইন। এই আইনের মোট ১৫৯ টি ধারা ও ৬ টি তপশিলি ছিল। (মূল প্রবন্ধ ইংরেজি: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ধারা)

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য: ১৯৩৫ খ্রীঃ ভারত শাসন আইনকে প্রধানতঃ দুভাগে ভাগ করা যায়, যথা কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা ও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা। ১৯৩৫ খ্রীঃ আইন দ্বারা ব্ৰহ্মদেশকে ভারতবর্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। উড়িষ্যা ও সিন্ধু নতুন প্রদেশ হিসেবে জন্মলাভ করে। ১৯১৯ খ্রীঃ মন্টফোর্ড আইন প্রবর্তিত প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থায় Dyarchy বা দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা লােপ করা হয়। প্রদেশের শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে সকল দপ্তর দায়িত্বশীল নির্বাচিত মন্ত্রীসভার হাতে স্থানান্তরিত করা হয়। ভােটাধিকারের সম্প্রসারণ করে ৬ মিলিয়নের স্থলে ৩০ মিলিয়ন ভােটদাতাকে ভােটদানের অধিকার দেওয়া হয়। মাদ্রাজ, বােম্বাই, বাংলায় দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা চালু করা হয়। অন্যান্য প্রদেশে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হয়। সরকারি মনােনীত সদস্যের সংখ্যা হ্রাস করা হয়। অনুন্নত শ্রেণী ও এ্যাংলাে-ইণ্ডিয়ানদের জন্যেও সদস্য মনােনয়ন প্রথা লােপ করা হয়। তবে মুসলিমদের জন্যে আসন সংরক্ষণ করা হয়। উচ্চ কক্ষের সদস্য নির্বাচনের জন্যে বড় সম্পত্তির মালিকদের ভােটদানের অধিকার দেওয়া হয়।

প্রদেশগুলিতে নির্বাচিত আইনসভা ও আইনসভার দ্বারা নির্বাচিত মন্ত্রীসভার হাতে সকল দপ্তর ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রদেশ তালিকাভুক্ত সকল বিষয়ে তারা শাসন ও আইন রচনার অধিকার পান। কিন্তু আইনসভার আইন রচনার ক্ষমতা থাকলেও, আইনসভার পাশ করা আইনে গভর্ণরের সম্মতির দরকার হয়। গভর্ণরের সম্মতি ব্যতীত এই আইন বৈধ ছিল না। দ্বিতীয়তঃ, আইনসভার অধিবেশন আহ্বান অথবা মুলতুবী অথবা রদ করার, অথবা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা গভর্ণরের ছিল। এ বিষয়ে মন্ত্রীসভার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চলতে বাধ্য ছিলেন না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ, আই-সি-এস কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা, ব্রিটিশ বণিকদের স্বার্থরক্ষা প্রভৃতি ব্যাপারে গভর্ণর মন্ত্রীসভার পরামর্শ নিতে বাধ্য ছিলেন না। জরুরী অবস্থা দেখা দিলে গভর্ণর ৯৩ ধারা প্রয়ােগ করে আইনসভা ভেঙে দিয়ে নিজ হাতে শাসন ক্ষমতা নিতে পারতেন।

কেন্দ্রে ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজন্যবর্গের মনােনীত প্রতিনিধিদের সমবায়ে একটি ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। দেশীয় রাজাদের প্রতিনিধিদের জন্যে আইনসভার অর্ধেক আসন বরাদ্দ করা হয়। যদি দেশীয় রাজারা এই নির্ধারিত আসনের অন্ততঃ অর্ধেক সদস্য মনোনয়ন করেন তবেই কেন্দ্রে ফেভারেশন ব্যবস্থা চালু হবে বলা হয়। নতুবা কেন্দ্রে ফেভারেশন চালু করা হবে না। ফেলে দ্বৈতশাসন চালু করা হয়। হস্তান্তরিত বিষয়ে আইন রচনার পর বৈধতার জন্য ভাইসয়ের অনুমােদন দরকার ছিল। ভাইসরয় অনুমােদন দিলেও প্রয়ােজনে ইংল্যান্ডের ভারত সচিব এই আইন নাকচ করতে পারতেন।

কেন্দ্রীয় ফেডারাল আইনসভায় ৩০ - ৪০ % আসন রাজন্যবর্গের মনােনীত কর্মচারীদের দেওয়া হয়। কেন্দ্রের সঙ্গে ব্রিটিশ সিংহাসনের সম্পর্ক ছিল আইনসভার এক্তিয়ারের বাইরে। এই আইনে ভারতকে ডােমিনিয়ন স্টেটাস দানের কথা বলা হয়নি। তবে এই আশ্বাস দেওয়া হয় যে, নতুন সংবিধান চালু হলে প্রচলিত প্রথা অনুসারে ভারত ব্রিটিশ কমনওয়েলথের অন্য সদস্যদের মতই আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পেতে পারে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ব্যর্থতা: (১) ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুসারে কেন্দ্রে ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হয়নি। কারণ দেশীয় রাজাদের অনেকে যথা পাতিয়ালার মহারাজা ও বিকানীরের রাজা ফেডারেশনে যােগদানে আপত্তি জানান। হায়দ্রাবাদের নিজামের প্রতিনিধি আকবর হায়দারি বিশেষ রক্ষাকবচ ছাড়া হায়দ্রাবাদের ফেডারেল আইনসভায় যোগ দিতে আপত্তি জানান। তার ভয় ছিল যে, আইনসভায় কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভােটের জোরে দেশীয় রাজাদের ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে।
(২) ফেডারেশন প্রস্তাবে জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ তীব্র আপত্তি জানান। কারণ ফেডারেশন হলে কেন্দ্রীয় লােকসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে, হিন্দু সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত। মুসলিম সদস্যরা সংখ্যালঘু হয়ে যেত। জিন্নাহ চান মুসলিমদের আধিপত্য। সুতরাং জিন্নাহ ১৯৩৫ খ্রীঃ কেন্দ্রীয় ফেডারেশন প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। ত্রিপাঠীর মতে ব্রিটিশ সরকার, দেশীয় রাজনাবর্গ ও লীগ নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রে ফেডারেশন গঠনের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। ঐতিহাসিক রাসব্রক উইলিয়ামস পাতিয়ালার মহারাজা ও জামনগরের জাম সাহেবকে বুদ্ধি যােগাচ্ছিলেন।
(৩) কংগ্রেসের দিক থেকে ১৯৩৫ খ্রি: এর আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ফেডারেশনে যোগদানে আপত্তি তোলা হয়। কংগ্রেসের আপত্তি ছিল নীতিগত। (ক) দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধিরা দেশীয় রাজ্যের জনসাধারণ দ্বারা নির্বাচিত না হয়ে, দেশীয় রাজাদের দ্বারা মনােনীত হবেন এই শর্ত ছিল কংগ্রেসের মতে অগণতান্ত্রিক। এই সকল প্রতিনিধি হতেন রাজাদের হাতের পুতুল, জনসাধারণের সঙ্গে সংযােগহীন।
(খ) কেন্দ্রের আইনসভার ১/২ আসন দেশীয় রাজ্যকে দেওয়া ছিল অগণতান্ত্রিক। এর দ্বারা কেন্দ্রীয় সরকারের দেশীয় রাজাদের অমঙ্গলজনক প্রভাব বাড়ত। তারা মুসলিম লীগের ১/৩ সদস্যের সঙ্গে যােগ দিলে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস সদস্যদের কোণঠাসা করে ফেলতেন। দেশের অগ্রগতিমূলক কোন আইন পাশ করা যেত না।
(গ) দেশীয় রাজাদের অন্ততঃ অর্ধেক কেন্দ্রে যােগ দিতে রাজী হলে, তবেই কেন্দ্রের ফেডারেশন হবে, এই শর্তও ছিল গভীর অসন্তোষজনক।
(ঘ) কেন্দ্রে পূর্ণ ক্ষমতা আইনসভা ও নির্বাচিত মন্ত্রীসভার হাতে না দিয়ে, হস্তান্তরিত বিষয় মাত্র আইনসভার হাতে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল অসন্তোষজনক। এর ফলে আইনসভার হাতে বিশেষ কিছু ক্ষমতা ছিল না। অর্থ, দেশরক্ষা, আই-সি-এসদের বেতন, রেল প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বড়লাট নিজ হাতে সংরক্ষিত বিষয়রূপে রাখায়, কেন্দ্রে ডায়ার্কী বা দ্বৈত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ খ্রীঃ মন্টফোর্ড আইনে প্রদেশে ডায়ার্কী শাসনের কুফল দেখা দেয়। এখন সেই ডায়ার্কী কেন্দ্রে স্থাপনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আপত্তি ছিল।
(ঙ) কেন্দ্রে মন্ত্রীসভার হাতে পুর্ণ ক্ষমতা ছিল না। আইনসভার পাশ করা আইন বড়লাট নাকচ করতে পারতেন। আইনসভার সার্বভৌম ক্ষমতা ছিল না।
(চ) ডােমিনিয়ন স্টেটাস দানের কোন শর্ত ১৯৩৫ খ্রীঃ আইনে উল্লেখ করা হয়নি। অথচ কংগ্রেসের দাবী ছিল পূর্ণ স্বরাজ। পূর্ণ স্বরাজের স্থলে অন্ততঃ ডােমিনিয়ন ষ্টেটাস দেওয়া ব্রিটিশ সরকারের উচিত ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে ডােমিনিয়ন স্টেটাস দানের আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয়নি।
(ছ) প্রদেশে নির্বাচিত মন্ত্রীসভা গঠনের ব্যবস্থা থাকলেও মন্ত্রীসভার কাজে গভর্ণরের হস্তক্ষেপের অধিকার ছিল। তার সম্মতি ছাড়া কোন আইন বৈধ হত না।
(জ) ৯৩ ধারা অনুসারে গভর্ণর আইনসভা ভেঙে দিতে ও নিজ হাতে ক্ষমতা নিতে পারতেন। এই কারণে ১৯৩৫ খ্রীঃ ভারত শাসন আইনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তীব্র আপত্তি ছিল। জওহরলাল নেহেরু ১৯৩৫ খ্রীঃ আইনকে “দাসত্বের এক নতুন অধ্যায়" বলে মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ও লীগ কেন্দ্রীয় ফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব বর্জন করে, কিন্তু প্রদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে আইনসভা ও মন্ত্রীসভা গঠনে রাজী হয়।