দিল্লির মামলুক সুলতান আরাম শাহ

- November 25, 2018
১২১০ খ্রিষ্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবকের আকস্মিক মৃত্যুর ফলে দিল্লির সিংহাসনের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নে একটা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় তুর্কী আমীর ও মালিকগণ জৈনিক আরাম বক্স-কে (১২১০) দিল্লির সিংহাসনে বসিয়ে দেন। লাহােরে আরাম বক্স 'শাহ' উপাধি নিয়ে শাসন শুরু করেন। তিনি ছিলেন অকর্মন্য, অলস, অনভিজ্ঞ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
দিল্লির সুলতান আরাম শাহ
রাজত্ব ডিসেম্বর ১২১০ - জুন ১২১১
পূর্বপুরুষ কুতুবউদ্দিন আইবক
উত্তরাধিকারী ইলতুৎমিস
মৃত্যু জুন ১২১১
রাজবংশ মামলুক বা দাস বংশ
ধর্ম ইসলাম
আরাম শাহর পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই আরাম শাহকে কুতুবউদ্দনের পুত্র বলে মনে করেন। কিন্তু আতামালিক জুয়াইনি তারিখ-ই-জাহান-সুমা গ্রন্থে পরিষ্কার বলেছেন যে, "কুতুবউদ্দনের তিনজন কন্যা সন্তান ছিল, কোন পুত্র সন্তান ছিল না"। মিনহাজ-ই-সিরাজ লিখেছেন যে, কুতুবউদ্দিনের তিন মেয়ে ছিল। আবুল ফজল ইবনে মুবারাক বলেন, তিনি কুতুবউদ্দিনের ভাই ছিলেন।

সম্ভবত শূন্য সিংহাসনকে কেন্দ্র করে যে কোন গােলযােগের সম্ভাবনা দুর করার জন্যই আরাম শাহকে সিংহাসন দেওয়া হয়েছিল। নিজামী তাই লিখেছেনঃ "It was availability rather than enutrience or competence which led the Turkis officers stationed at Lahore to raise Ararn to the throne."

যাই হােক আরাম শাহের অপদার্থতার সুযােগে দেশের বিভিন্ন অংশে কর্মরত তুর্কী আমীররা নিজ নিজ অঞ্চলকে মুলতানির কর্তৃত্বমুক্ত ঘােষণা করে স্বাধীনভাবে শাসন করতে শুরু করেন। কুবাচা উচ, মুলতান ছাড়াও ভাঙ্গার, শিউরান দখল করেন। বাংলায় খলজী মালিকরা বিদ্রোহী হয় এবং কিছু কিছু রাজপুত রাজাও তুর্কীদের অধীনতা থেকে তাদের হৃত রাজ্যাংশ পুনর্দখল করে নেয়।

এমতাবস্থায় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন তুর্কী অভিজাতগণ বদাউনের শাসনকর্তা সামউদ্দিন ইলতুৎমিসকে সিংহাসন দখলের জন্য আহ্বান জানান। ইলতুৎমিসও দিল্লীর সিংহাসন দখলে আগ্রহী ছিলেন। তাছাড়া কুতুবউদ্দিনের জামাতা হিসেবে সিংহাসনের উপর তার একটা বৈধ দাবিও ছিল। ইতিপূর্বেই মহম্মদ ঘুরী তাকে দাস বন্ধন থেকে মুক্তি দেবার ফলে সিংহাসন দখলের ব্যাপারে আইনগত বাধাও ছিল না।

যাই হােক ইলতুৎমিস সসৈন্যে দিল্লিতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে সুলতান বলে ঘােষণা করেন। আরাম শাহ সামান্য অনুচরসহ তাকে বাধা দেবার একটা চেষ্টাও করেন। কিন্তু জুদ নামক স্থানে ইলতুৎমিস আরাম শাহকে পরাজিত ও হত্যা করে সিংহাসন কন্টকমুক্ত করেন (১২১১)। অধ্যাপক নিজামীর মতে, আরাম শাহ ৮ মাসের বেশি সিংহাসনে আসীন ছিলেন না।
Advertisement