রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি(১৯৩৯)

author photo
- Monday, November 19, 2018
advertise here

রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি ও তার সমালোচনা(১৯৩৯)(The Russo-German Non-Aggression Pact and it's criticism):

পোল্যান্ড উপলক্ষে জার্মানির সঙ্গে পশ্চিমা শক্তির যুদ্ধ বাধার উপক্রম হলে, জার্মানি ও রাশিয়া 23 আগস্ট, 1939 খ্রি:  রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তির কারণসমূহ(Reasons for the Russo-German Non-Aggression Pact):

(1) অ্যালান বুলক বলেন, এটি হিটলারের one by one নীতির একটি উদাহরণ। তিনি দুই রণাঙ্গনে একই সময়ে যুদ্ধ করতে চান নি। এই চুক্তির মাধ্যমে হিটলার রাশিয়াকে নিরপেক্ষ রাখেন। ১৯৪১ খ্রি: পশ্চিমের যুদ্ধ সমাপ্ত করে রাশিয়া আক্রমণ করেন।

(২) হিটলার এই চুক্তির দ্বারা পূর্ব ইউরোপে তার বিস্তার নীতিকে সফল করেন। মিউনিখ চুক্তি পর পূর্ব ইউরোপে তার বিনা যুদ্ধে প্রসারে আর কোন সুযোগ ছিল না। পূর্ব ইউরোপে প্রসারে তার প্রধান ছিল রাশিয়া। এখন এই চুক্তির ফলে উভঁয় স্বাক্ষরকারী নিজ নিজ অঞ্চল ভাগ করে নিতে পারে।

(৩) এই চুক্তির দ্বারা হিটলার তার শত্রু ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে মিত্রহীন করে। এ. জে. পি. টেইলারের(A.J.P. Taylor) মতে, হিটলার আশা করেন যে, রুশ মিত্রতা না পাওয়ায় ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধে কথা ভাববে না।

(৪) এসমন্ড রবার্টসনের মতে, সোভিয়েত রাশিয়া মতে রুশ জার্মান চুক্তি দুটি কারণে স্বাক্ষর করেন। (ক) সোভিয়েত সরকারের ভয় ছিল যে, এই চুক্তি যদি রাশিয়া না করে, তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির চুক্তিবদ্ধ হতে পারে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের কঠোর মনোভাব এই আশঙ্কা সৃষ্টি করে। (খ) জার্মান সাম্রাজ্যবাদ যেভাবে পূর্ব ইউরোপে প্রসারিত হচ্ছিল, তা প্রতিহত করতে এই চুক্তির দরকার ছিল। রুশ জার্মান মৈত্রী জোট গড়া হলে পূর্ব ইউরোপে রুশ সীমান্ত সুরক্ষিত হত।

রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তির শর্ত(The Russo-German Non-Aggression Pact condition):

(1) রাশিয়া ও জার্মানি অন্তত 10 বছর কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না।

(২) কোন বিরোধ হলে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

(3) রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তির গোপন শর্তে বলা হয়েছে -

(ক) পূর্ব ইউরোপে দুই স্বাক্ষরকারী নিজ নিজ প্রভাবাধীন অঞ্চল স্থির করে নেন।



(খ) যদি তিন বাল্টিক রাজ্যে, ফিনল্যান্ড, পূর্ব পোল্যান্ড কোন পরিবর্তন করা হয়, তাহলে এই স্থানগুলি রাশিয়ার সীমানা বরাবর থাকবে।

(গ) পোল্যান্ডে রাশিয়া-জার্মান সীমান্ত সান, ভিশ্চুল নদী দ্বারা চিহ্নিত হবে।

(ঘ) লিথুনিয়া উত্তর সীমান্ত সোভিয়েত ও জার্মানির প্রভাবাধীন অঞ্চলের সীমান্ত হবে।

রুশ-জার্মান চুক্তির পক্ষে যুক্তি:

রুশ-জার্মান চুক্তির দ্বারা রাশিয়া বিশ্বযুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এই চুক্তির দ্বারা জার্মানির পূর্ব ইউরোপে জার্মান অগ্রগতি রুদ্ধ হল।

রুশ-জার্মান চুক্তির বিপক্ষে যুক্তি:

পশ্চিমী ঐতিহাসিকরা রুশ-জার্মান চুক্তি তিব্র সমালোচনা করেন। যে নাৎসি সরকারকে সোভিয়েত রাশিয়া Nazi Beasts বলে মনে করত, সেই আগ্রাসী, বর্বর সরকারের সঙ্গে ইউরোপের এই সংকট সময়ে রাশিয়ার চুক্তি ছিল শুধু বিশ্বাসঘাতকতা। এর ফলে ১৯৪০ খ্রি: ফ্রান্সের পতন ও ডানকার্কের যুদ্ধে ব্রিটেনের বিপর্যয় ঘটে।

রুশ-জার্মান চুক্তির মূল্যায়ণ(Assessment):




দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রাক্কালে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমী শক্তির মহ়াজোট গড়ে না ওঠার প্রধান দায়িত্ব ছিল ব্রিটেনের। ব্রিটেন মিউনিখ চুক্তি পর্যন্ত যে জার্মান তোষণ নীতি অনুসরণ করে তাতে রাশিয়া ক্রোধ হয়ে পড়ে। এসমন্ড রবার্টসনের মতে দুটি কাজেই সমান খারাপ ছিল। আইজ্যাক ডয়েথসার অবশ্য রাশিয়াকে সমর্থন করে বলেন, স্টালিন রাশিয়ার আত্মরক্ষার জন্য পূর্ব পোল্যান্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্র নিয়ে একটি রক্ষা বলয় তৈরি করতে চান। অন্য দেশের স্বাধীনতা বিনিষ্ট করে এই বলয় রচনা সমর্থন যোগ্য নয়।

রুশ-জার্মান চুক্তির বিফলতার কারণ(Reasons for the failure of the Russo-German Non-Aggression Pact):

প্রথমত, পূর্ব ইউরোপে সম্প্রসারণবাদী নাৎসি জার্মানি রুশ-জার্মান চুক্তি দ্বারা নির্ধারিত সীমাগুলির সাথে একমত ছিল না। পশ্চিমের পরাজয়ের পর হিটলার পূর্ব ইউরোপে চলে যান।

দ্বিতীয়ত, রূমানিয়া, লিথুয়ানিয়ার ওপর রাশিয়ার অধিকার নিয়ে জার্মানির সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। হিটলারের ভয় ছিল যে, টিলজিটের সন্ধি ভেঙে রাশিয়া যেমন নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের পক্ষ নেয়, সোভিয়েত সরকার হয়ত শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষতা ভেঙে ইঙ্গ-মার্কিন শক্তির দিকে চলে যাবে। এর আগে তিনি রাশিয়া আক্রমণ।
Advertisement advertise here