রাষ্ট্রকূট বংশ।

author photo
- Monday, October 29, 2018
advertise here

রাষ্ট্রকূট রাজবংশ।

অষ্টম শতাব্দীর মধ্যভাগে চালুক্য শক্তির পতনের পর দক্ষিণ ভারতে রাষ্ট্রকূটদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের বংশ পরিচয় বা আদি বাসস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যায় না।


দন্তিদুর্গ:



রাষ্ট্রকূট বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দন্তিদুর্গ। তিনি চালুক্যদের সামন্তরাজা ছিলেন। দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্য তাকে পৃথিবীবল্লভ উপাধি দেন। তিনি গুজরাট, মালব, মধ্যপ্রদেশ ও বেরার জয় করেন। তার শক্তি বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত চালুক্য-রাজ দ্বিতীয় কীর্তিবর্মন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন এবং খান্দেশের যুদ্ধে পরাজিত হন। রাষ্ট্রকূট বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় ৭৫৩ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রথম কৃষ্ণ (৭৫৮-৭৭৩ খ্রিস্টাব্দ):

দন্তিদুর্গের পর সিংহাসনে বসেন তার পুত্র প্রথম কৃষ্ণ। তিনি চালুক্য-রাজ কীর্তিবর্মনকে পরাজিত করে সমগ্র মহারাষ্ট্রে নিজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এর ফলে চালুক্য বংশের পতন ঘটে। তিনি মহীশূরের গঙ্গ ও বেঙ্গীর পূর্ব চালুক্যদেরও পরাস্ত করে। তিনি ইলোরার বিখ্যাত শিবমন্দির ও কৈলাসনাথের মন্দির নির্মাণ করেন। ইলোরার পাহাড় কেটে মন্দিরটি নির্মিত।

দ্বিতীয় গোবিন্দ (৭৭৩-৭৮০ খ্রিস্টাব্দ):

এরপর সিংহাসনে বসেন তার পুত্র দ্বিতীয় গোবিন্দ। আরামপ্রিয় এই নৃপতি নিজ ভাই প্রথম ধ্রুব-র হাতে শাসনভার অর্পণ করেন।


প্রথম ধ্রুব (৭৮০-৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ):

প্রথম ধ্রুব মহীশূরের গঙ্গ-বংশীয় রাজা, বেঙ্গীর চালুক্য-রাজ ও পল্লব রাজ-কে পরাজিত করে সমগ্র দক্ষিণ ভারত দখল করেন। প্রতিহার-রাজ বাৎসরাজ এবং পালারাজা ধর্মপালকে পরাজিত করার পর, তিনি গাঙ্গেয় উপত্যকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন। তিনি ধ্রুব নিরুপম, ধ্রুব ধারাবর্ষ, শ্রীবল্লভ উপাধি গ্রহণ করেন।

তৃতীয় গোবিন্দ (৭৯৩-৮১৪ খ্রিস্টাব্দ):

ধ্রুভের পর তাঁর পুত্র তৃতীয় গোবিন্দ সিংহাসনে বসেন। তিনি উত্তর ভারত রাষ্ট্র প্রসারে আগ্রহী হন। তিনি প্রতিহার-রাজ নাগভট্ট-কে পরাজিত করেছিলেন। বাংলার পালারাজা ধর্মপাল ও তার প্রতিনিধি কানৌজের চক্রায়াধু তার আনুগত্য গ্রহণ করেছিলেন।

প্রথম অমোঘবর্ষ (৮১৪-৮৭৭ খ্রিস্টাব্দ):

তৃতীয় গোবিন্দের মৃত্যুর পর প্রথম অমোঘবর্ষ সিংহাসনে বসেন। তিনি খুব শান্তিপ্রিয় রাজা ছিলেন। তিনি নাসিক থেকে মান্যখেটে রাজধানী স্থানান্তরিত করে। প্রথম অমোঘবর্ষ রচিত কন্নড় ভাষায় লিখিত গ্রন্থ রত্নমালিকা ও কবিরাজমার্গ।

দ্বিতীয় কৃষ্ণ (৮৭৭-৯১৪ খ্রিস্টাব্দ):

প্রথম অমোঘবর্ষের পর তার পুত্র দ্বিতীয় কৃষ্ণ সিংহাসনে বসেন। তাঁর শাসনকালে রাষ্ট্রকুটদের সঙ্গে প্রতিহার শক্তির চ্যালেঞ্জের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। প্রতিহার-রাজ ভোজ রাষ্ট্রকূটদের যুদ্ধে পরাজিত করে মালব ও গুজরাট দখল করেন। তিনি বেঙ্গির পূর্ব চালুক্য-রাজ ভীম-কে পরাস্ত করে সামন্ত হিসেবে থাকতে বাধ্য করেন।


তৃতীয় ইন্দ্র (৯১৪-৯২২ খ্রিস্টাব্দ):

দ্বিতীয় কৃষ্ণের পর তার পৌত্র তৃতীয় ইন্দ্র সিংহাসনে বসেন। তিনি প্রতিহার-রাজ মহীপাল-কে পরাজিত করে কনৌজ নগর ধ্বংস করে। তৃতীয় ইন্দ্রের পর রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্যের পতন অব্যাহত ছিল। দ্বিতীয় অমোঘর্ষষ, চতুর্থ গোবিন্দ এবং তৃতীয় অমোঘবর্ষ ৯২২ থেকে ৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সিংহাসনে বসেছিলেন। তারা সবাই দুর্বল ছিল।

তৃতীয় কৃষ্ণ (৯৪০-৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ):

রাষ্ট্রকূট রাজবংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা তৃতীয় কৃষ্ণ। তিনি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে রাষ্ট্রকূট আধিপত্য বিস্তার করে। তিনি মহীশূর পুনর্বার জয় করেন। উত্তরে প্রতিহার-রাজ মহীপালকে পরাজিত করে কালাঞ্জর ও চিত্রকুট দখল করেন। ৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে মালব, উজ্জয়িনী ও বুন্দেলখণ্ড জয় করেন। তিনি নিজেকে 'সকল দক্ষিণ দিগাধিপতি' বলে অভিহিত করেন।

রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্যর পতন:

তৃতীয় কৃষ্ণের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রকূট বংশের পতন শুরু হয়। বিভিন্ন প্রদেশে বিদ্রোহ দেখা দেয়। আনুমানিক 973 খ্রিস্টাব্দে কল্যাণীর চালুক্য বংশীয় রাজা দ্বিতীয় তৈলপ বা তৈল শেষ রাষ্ট্রকূট-রাজ চতুর্থ অমোঘবর্ষ বা কার্ক-কে পরাজিত করে রাষ্ট্রকূট বংশের অবসান ঘটে।

ট্যাগ:
Advertisement advertise here