PayPal

বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম : ভারত ইতিহাসের প্রশ্ন ও উত্তর

author photo
- Thursday, September 27, 2018
প্রশ্ন) হীনযান ও মহাযান কাকে বলে?
উত্তর: খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে কণিস্কের আমলে কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বৌদ্ধ সম্মেলনে বৌদ্ধরা হীনযান ও মহাযান নামে দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে যান। যে সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বুদ্ধদেবের মুর্তি ছাড়া উপাসনা করতেন এবং ব্যক্তিগত মুক্তির ওপর জোর দিতেন তারা হীনযান নামে পরিচিত। আর যারা বুদ্ধদেবের মূর্তিপূজা করতেন এবং ব্যক্তির বদলে সমষ্টির মুক্তি অর্জনে আগ্রহী ছিলেন তারা মহাযান নামে চিহ্নিত হন।

প্রশ্ন) মহাবীর কে ছিলেন?
উত্তর: মহাবীর ছিলেন জৈনধর্মের ২৪তম তথা শেষ তীর্থংকর। তিনিই জৈনধর্মের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রচারক। খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ৫৪০ অব্দে বৈশালীতে জ্ঞাতৃক নামে এক ক্ষত্রিয় বংশে তার জন্ম। তাঁর পিতার নাম সিদ্ধার্থ ও মা ত্রিশলা। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে জৈন ধর্ম প্রচার করার পর ৭২ বছর বয়সে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬৮ অব্দে রাজগৃহের নিকটবর্তী পাবা নগরীতে তার মৃত্যু হয়।
Buddhism and Jain religious Short Question and Answer
প্রশ্ন) পার্শ্বনাথ কে ছিলেন?
উত্তর: জৈন কল্পসূত্র থেকে জানা যায় যে, পার্শ্বনাথ ছিলেন বেনারসের রাজা অশ্বসেনের পুত্র। ৩০ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করে তিনি কঠোর সাধনা দ্বারা সিদ্ধিলাভ করেন এবং ৭২ বৎসর বয়স পর্যন্ত ধর্মপ্রচার করে পরেশনাথ পাহাড়ে নির্বান লাভ করেন। তিনি ছিলেন জৈনদের ২৩তম তীর্থংকর। পার্শ্বনাথ প্রবর্তিত ধর্মের মূলমন্ত্র হল অহিংসা, সত্য, চুরি না করা, ও অপরিগ্রহ। এগুলি চতুর্যাম নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) বৌদ্ধধর্মে পঞ্চশীল কী?
উত্তর: বৌদ্ধধর্মে শীল শব্দটির ওপর গুরুত্ব আরােপ করা হয়েছে। শীল শব্দের অর্থ নৈতিক শুদ্ধতা। বৌদ্ধধর্মে পাঁচটি শীল বা নৈতিক শুদ্ধতা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে — (১) চুরি না করা, (২) ব্যভিচারী না হওয়া, (৩) অসত্য পরিহার করা, (৪) হিংসা না করা এবং (৫) অন্যায় না করা। এগুলি একত্রে পঞ্চশীল নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন বলতে কী বােঝ?
উত্তর: ব্রাহ্মণ্য গরিমাদীপ্ত সমাজব্যবস্থা ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মের আচার - সর্বস্ব অনুষ্ঠান এবং যজ্ঞে পশুবলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বৌদ্ধ, জৈন, আজীবিক প্রভৃতি ধর্মের উদ্ভব ঘটে। তাই এগুলিকে প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন বলে আখ্যায়িত করা হয়।

প্রশ্ন) দিগম্বর কাদের বলা হয়?
উত্তর: যেসব জৈন সন্ন্যাসী মহাবীরের অনুশাসনগুলিকে কঠোরভাবে মেনে চলতেন এবং কোনাে গ্রন্থি বা বস্ত্র পরতেন না, তারা দিগম্বর নামে পরিচিত হন। দিগম্বর গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন ভদ্রবাহু।

প্রশ্ন) শ্বেতাম্বর কাদের বলা হয়?
উত্তর: যেসব জৈন নগ্নতা পালন না করে শ্বেতবস্ত্র পরিধান ও মস্তকে আবরণ ব্যবহার করতেন তারা শ্বেতাম্বর নামে পরিচিত হন। শ্বেতাম্বর গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন স্থূলভদ্র।

প্রশ্ন) মহাপরিনির্বাণ কি?
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ৪৮৬ অব্দে গৌতম বুদ্ধ ৮০ বছর বয়সে উত্তরপ্রদেশের গােরক্ষপুর জেলার কুশীনগরে দেহত্যাগ করেন। মহাজীবনের এই অবসান বৌদ্ধশাস্ত্রে মহাপরিনির্বাণ নামে খ্যাত।

প্রশ্ন) আর্যসত্য কি?
উত্তর: দুঃখের উৎস ও তার থেকে মুক্তির জন্য গৌতম বুদ্ধ চারটি মহান সত্য নির্দেশ করেছেনঃ (১) এ পৃথিবী দুঃখময়, (২) কামনা-বাসনা ও আসক্তি থেকে দুঃখের সৃষ্টি, (৩) কামনা-বাসনার নিবৃত্তি করতে পারলে মুক্তিলাভ সম্ভব এবং (৪) মুক্তিলাভের জন্য নির্দিষ্ট পথ বা মার্গ অনুসরণ করতে হবে। এগুলি একত্রে আর্যসত্য নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) অষ্টাঙ্গিক মার্গ কাকে বলে?
উত্তর: দুঃখের হাত থেকে মুক্তিলাভের জন্য গৌতম বুদ্ধ আটটি পথ বা মার্গের কথা বলেছেন - (১) সৎবাক্য, (২) সৎকার্য, (৩) সৎজীবিকা, (৪) সৎচেষ্টা, (৫) সৎচিন্তা, (৬) সৎচেতনা, (৭) সৎসংকল্প ও (৮) সৎদৃষ্টি। এগুলি অষ্টাঙ্গিক মাগ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) নির্বাণ কি?
উত্তর: বৌদ্ধধর্মের চরম লক্ষ্য হল নির্বাণ বা মুক্তিলাভ। নির্বাণ হল জরা-শােক-দুঃখ ও অপবিত্রতা মুক্ত এমন এক অবস্থা যেখানে অপার শান্তি ও অনন্ত সুখ বিদ্যমান এবং যেখানে পৌঁছেলে আর পুনর্জন্ম হবে না।

প্রশ্ন) ত্রিপিটক কি?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধের উপদেশাবলী পালি ভাষায় রচিত তিনটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়েছে সুত্ত পিটক, বিনয় পিটক ও অভিধম্ম পিটক। এদের একত্রে ত্রিপিটক বলা হয়।

প্রশ্ন) ত্রিপিটকের মূল বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: ত্রিপিটকের অন্তর্গত সুত্ত পিটকে বুদ্ধের উপদেশাবলী, বিনয়-পিটকে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের পালনীয় বিধি এবং অভিধম্ম পিটকে বৌদ্ধধর্মের দার্শনিক তত্ত্বসমূহ আলােচিত হয়েছে।

প্রশ্ন) জাতক কি?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধ "বুদ্ধ" হিসাবে জন্মগ্রহণের আগে এই পৃথিবীতে বহুবার জন্মগ্রহণ করেন। এবং শুভকাজ করেন। তার এই পূর্বজন্মের কাহিনি লিপিবদ্ধ হয়েছে জাতক গ্রন্থে। এরকম দুটি জাতক গ্রন্থ হল ষড়দন্তজাতক ও শিবিজাতক। জাতক বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্রের অন্তর্গত।

প্রশ্ন) বােধিসত্ত্ব বলতে কী বােঝায় ও দুজন বােধিসত্বের নাম লেখাে?
উত্তর: বােধি বা বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বাবস্থায় পৌছেছেন এমন মহাপুরুষদের বােধিসত্ত্ব বলা হয়। বৌদ্ধশাস্ত্রে পূর্ববর্তী জীবনে বুদ্ধদেবকে বােধিসত্ত্ব বলা হয়েছে। বৌদ্ধ মতে কয়েকজন বােধিসত্ত্ব হলেন অবলােকিতেশ্বর, বক্রপাণি, মৈত্রেয়, মঞ্জুশ্রী।

প্রশ্ন) প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি কবে, কোথায় ও কেন অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি রাজা অজাতশত্রুর সময় আনুমানিক ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্ব মগধের রাজধানী রাজগৃহে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থবির মহাকশ্যপ। গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার বিচারধারা নষ্ট না হয় তার জন্য প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি আহ্বান করা হয়।

প্রশ্ন) দ্বিতীয় বৌদ্ধ সংগীতি কবে, কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: দ্বিতীয় বৌদ্ধ সংগীতি শৈশুনাগ বংশের রাজা কালাশােকের সময় আনুমানিক ৩৮৬ খ্রিস্টপূর্ব মগধের রাজধানী বৈশালীতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহাস্থবির যশ।

প্রশ্ন) তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি কবে, কোথায় ও কেন অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি মৌর্য সম্রাট অশােকের সময় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৫১ অব্দে পাটলিপুত্রে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মােন্নালিপুত্ত তিসস। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পালনীয় আসরণবিধি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং বৌদ্ধরা প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী (থেরবাদী বা স্থবিরবাদী) দুটি গােষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যায়। এই মতবিরােধ দূর করার জন্য তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি আহূত হয়।

প্রশ্ন) চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি কবে, কোথায় ও কেন অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে কুষাণরাজ কনিষ্কের আমলে কাশ্মীরে (মতান্তরে জলন্ধরে) অনুষ্ঠিত হয়। বসুমিত্র এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পালনীয় আচরণবিধি নিয়ে বৌদ্ধরা দুটি গােষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যায়। এই মতবিরােধ দূর করার উদ্দেশ্যে চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি আহূত হয়।

প্রশ্ন) চতুর্যাম কি?
উত্তর: ২৩তম তীর্থংকর পার্শ্বনাথ প্রবর্তিত জৈনধর্মের চারটি মূল নীতি চতুর্যাম নামে পরিচিত। এগুলি হলঃ (১) অহিংসা, (২) সত্যবাদিতা, (৩) অচৌর্য বা চুরি না করা এবং (৪) অপরিগ্রহ বা অন্যর দ্রব্য গ্রহণ না করা।

প্রশ্ন) পঞ্চমহাব্রত বা পঞ্চযাম কী? বা জৈন ধর্মের মূলনীতি শিক্ষা কী?
উত্তর: পার্শ্বনাথ প্রবর্তিত চারটি নীতি — যথা (১) অহিংসা, (২) সত্যবাদিতা, (৩) অচৌর্য, (৪) অপরিগ্রহের সঙ্গে মহাবীর আর একটি নীতি যুক্ত করেন ব্রহ্মচর্য। এই পাঁচটি নীতি বা শিক্ষা একত্রে পঞ্চমহাব্রত নামে পরিচিত।

প্রশ্ন) কবে কোথায় গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়? তার নাম গৌতম হয় কেন?
উত্তর: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৬ অব্দে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে নেপালের তরাই অঞ্চলে কপিলাবস্ত গণরাজ্যের শাক্যবংশে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। ঐ রাজ্যের অন্তর্গত লুম্বিনী উদ্যানে তার জন্ম হয়। গৌতম বুদ্ধের বাল্য নাম ছিল সিদ্ধার্থ। জন্মের পর তার মা মায়াদেবীর মৃত্যু হলে বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী তাকে প্রতিপালন করেন। গৌতমীর নামানুসারে তিনি গৌতম নামেও পরিচিতি হন।

প্রশ্ন) মহাভিনিষ্ক্রমণ কি?
উত্তর: দুঃখ-দারিদ্র্য-ব্যাধিক্লিষ্ট মানবজাতির মুক্তির পথ খোঁজার জন্য বুদ্ধ ২৯ বছর বয়সে এক গভীর রাত্রে গৃহত্যাগ করেন। বৌদ্ধশাস্ত্রে এই ঘটনা মহাভিনিষ্ক্রমণ নামে খ্যাত।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধ কোথায় বােধি লাভ করেন? বােধিবৃক্ষ কী?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধ ৩৫ বছর বয়সে গয়ার নিকটবর্তী নৈরঞ্জনা নদীর তীরে অবস্থিত উরুবিল গ্রামে এক অশ্বথ বৃক্ষের নীচে দীর্ঘ ৪৯ দিন তপস্যার পর বােধি অর্থাৎ পরম জ্ঞান লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি বুদ্ধ (জ্ঞানপ্রাপ্ত) নামে পরিচিত হন। যে অশ্বথ বৃক্ষের নীচে বসে তপস্যা করে তিনি বােধি লাভ করেন সেটি বােধিবৃক্ষ নামে খ্যাত।

প্রশ্ন) ধর্মচক্রপ্রবর্তন কি?
উত্তর: বুদ্ধত্ব লাভের পর গৌতম বুদ্ধ কাশীর নিকট সারনাথে মৃগদাব নামক উদ্যানে পঞ্চভিক্ষু নামে পরিচিত তার প্রথম পাঁচজন শিষ্যের (কৌণ্ডিন্য, অশ্বজিৎ, বপ্র, ভদ্রীয় ও মহানাম) কাছে তার মতবাদ প্রচার করেন। বৌদ্ধশাস্ত্রে এই ঘটনা ধর্মচক্রবর্তন নামে খ্যাত।

প্রশ্ন) প্রথম জৈন সংগীতি কোথায় এবং কার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে পাটালিপুত্রে প্রথম জৈন সংগীতি অনুষ্ঠিত হয় স্থূলভদ্র নেতৃত্বে। এখানে জৈন ধর্মশাস্ত্র কে ১৪ টি পর্বের পরিবর্তে ১২ টি অঙ্গ-এ সংকলিত করা হয়।

প্রশ্ন) দ্বিতীয় জৈন সংগীতি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে গুজরাটের বলভীতে দ্বিতীয় জৈন সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দ্বাদশ অঙ্গের কিছু সংশোধন করে নতুন ১২টি অনুশাসন যোগ করা হয়।

প্রশ্ন) তীর্থঙ্কর কাকে বলে?
উত্তর: তীর্থঙ্কর শব্দের অর্থ যারা সাংসারিক দুঃখ-কষ্ট পার হবার ঘাট (তীর্থ) নির্মাণ করেন। জৈন মতে, মানুষের মুক্তির পথ নির্মাণের জন্য জৈনধর্মের যে ২৪ জন প্রবর্তকের আবির্ভাব ঘটেছিল, তাদের তীর্থঙ্কর বলা হয়?

প্রশ্ন) শাক্যসিংহ নামে কে পরিচিত?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধ।

প্রশ্ন) ত্রিপিটক কোন ভাষায় লেখা?
উত্তর: পালি ভাষায়।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের দেহ ত্যাগকে কি বলা হয়?
উত্তর: মহাপরিনির্বাণ।

প্রশ্ন) জৈনদের প্রথম তীর্থঙ্কর কে?
উত্তর: ঋষভদেব।

প্রশ্ন) জৈনদের শেষ তীর্থঙ্কর কে?
উত্তর: মহাবীর।

প্রশ্ন) প্রথম বৌদ্ধ সম্মেলন কোথায় হয়?
উত্তর: রাজগৃহে।

প্রশ্ন) ত্রিপিটক শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: যেখানে কোনো কিছু সংরক্ষন করা হয়।

প্রশ্ন) বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক কে ছিলেন?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধ।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের মাসীর নাম কি?
উত্তর: গোপা।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধ কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: শাক্য বংশে।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনী কোন গ্রন্থে লেখা আছে?
উত্তর: জাতক।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধ প্রথম কোথায় ধর্মপ্রচার করেন?
উত্তর: সারনাথ।

প্রশ্ন) বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কি?
উত্তর: ত্রিপিটক।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধকে জেতবনবিহার কে দান করেন?
উত্তর: অনাথ পিন্ডক।

প্রশ্ন) ভদ্রবাহু কে ছিলেন?
উত্তর: তিনি ছিলেন জৈন সন্ন্যাসী। মহাযান সম্প্রদায়ের নেতা।

প্রশ্ন) জৈন মন্দির আবু মাউন্ট কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: রাজস্থান।

প্রশ্ন) জৈনদের আদি শাস্ত্রের নাম কি?
উত্তর: কল্পসূত্র।

প্রশ্ন) মহাবীরের স্ত্রীর নাম কি?
উত্তর: যশোদা।

প্রশ্ন) মহাবীরের পিতার নাম কি?
উত্তর: সিদ্ধার্থ।

প্রশ্ন) মহাবীরের মায়ের নাম কি?
উত্তর: ত্রিশলা।

প্রশ্ন) জৈন ধর্মশাস্ত্রগুলি কোন ভাষায় রচিত?
উত্তর: প্রাকৃত ভাষা।

প্রশ্ন) জৈনদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কি?
উত্তর: দ্বাদশ অঙ্গ।

প্রশ্ন) জৈন ধর্মে কতজন তীর্থঙ্কর ছিলেন?
উত্তর: ২৪ জন।

প্রশ্ন) মহাবীর কার কাছে দীক্ষা নেন?
উত্তর: গোসাল।

প্রশ্ন) দ্বাদশ অঙ্গ কোন ভাষায় রচিত হয়?
উত্তর: প্রাকৃত ভাষা।

প্রশ্ন) মহাবীর কোন মহাজনপদে মারা যান?
উত্তর: মল্ল (পাবা)।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধ কোন মহাজনপদে মারা যান?
উত্তর: মল্ল (কুশিনগর)

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধ কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: বৃজি (বৈশালী)।

প্রশ্ন) মহাবীর কোন মহজনপদে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বৃজি (বৈশালী)।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধ যে বৃক্ষের নিচে বসে তপস্যা করেছিলেন সেটি কি নামে পরিচিত?
উত্তর: বোধিবৃক্ষ।

প্রশ্ন) বৌদ্ধদের সর্বাস্তিবাদী উপসম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তর: রাহুল ভদ্র।

প্রশ্ন) জাতকের সংখ্যা কটি ছিল?
উত্তর: প্রায় ৫০০ টি।

প্রশ্ন) মহাবীরের কন্যার নাম কি?
উত্তর: অনোজ্জা বা প্রিয়দর্শন।

প্রশ্ন) দ্বাদশ উপাঙ্গ কোন সম্মেলনে রচিত হয়?
উত্তর: পাটালিপুত্র।

প্রশ্ন) রত্নমালিকা নামক জৈন গ্রন্থ কে রচনা করেন?
উত্তর: অমোঘবর্ষ।

প্রশ্ন) চতুর্যামের প্রবর্তক কে ছিলেন?
উত্তর: পার্শ্বনাথ।

প্রশ্ন) মহাবীরের পূর্বনাম কি ছিল?
উত্তর: বর্ধমান।

প্রশ্ন) কল্পসূত্রের রচয়িতা কে ছিলেন?
উত্তর: ভদ্রবাহু।

প্রশ্ন) বুদ্ধদেব কোথায় তার বাণী প্রথম প্রচার করেন?
উত্তর: ঋষিপত্তনম।

প্রশ্ন) কোন সম্মেলনে হীনযান ও মহাযানরা বিভক্ত হয়?
উত্তর: কাশ্মীর।

প্রশ্ন) স্তূপ কি?
উত্তর: বৌদ্ধ ভিক্ষুকের দেহাবশেষের বা কোন পবিত্র ঘটনার সরণে নির্মিত অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজকে স্তূপ বলে।

প্রশ্ন) আজীবিক ধর্মের প্রবক্তা কে ছিলেন?
উত্তর: মক্ষালি গোসাল।

প্রশ্ন) জৈন ধর্মের দুটি সম্প্রদায়ের নাম কী?
উত্তর: জৈনদের দুটি সম্প্রদায়ের নাম শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর।

প্রশ্ন) বৌদ্ধধর্মে আর্যসত্য কয়টি?
উত্তর: চারটি।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক মগধের রাজা কে ছিলেন?
উত্তর: বিম্বিসার।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের ঘোড়ার নাম কি ছিল?
উত্তর: কণ্টক।

প্রশ্ন) দ্বাদশ অঙ্গ কোথায় সংকলিত হয়?
উত্তর: পাটালিপুত্র।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের পুত্রের নাম কি?
উত্তর: রাহুল।

প্রশ্ন) আর্যসত্য কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধ।

প্রশ্ন) বৌদ্ধ ধর্মের দুটি সম্প্রদায়ের নাম কি?
উত্তর: হীনযান ও মহাযান।

প্রশ্ন) বুদ্ধ কথার অর্থ কি?
উত্তর: জ্ঞানী।

প্রশ্ন) চৈত্য কি?
উত্তর: ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পাহাড় কেটে নির্মিত কৃত্রিম গুহাকে বলা হত চৈত্য।

প্রশ্ন) জৈন ধর্মের ত্রিরত্ন কি?
উত্তর: জ্ঞান, বিশ্বাস ও সদাচার এই তিনটি আদর্শকে একত্রে ত্রিরত্ন বলা হয়।

প্রশ্ন) বৌদ্ধ ধর্মের ত্রিরত্ন কি?
উত্তর: বৌদ্ধধর্ম গ্রহণকারীকে তিনটি বিষয় মেনে চলতে হয় - বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘ। বৌদ্ধধর্মে এগুলিকে একত্রে ত্রিরত্ন বলা হয়।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের মায়ের নাম কি?
উত্তর: মায়াদেবী।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধ কোন ভাষায় ধর্ম প্রচার করতেন?
উত্তর: প্রাকৃত ভাষায়।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের স্ত্রীর নাম কি?
উত্তর: যশোধরা।

প্রশ্ন) গৌতম বুদ্ধের আসল নাম কি?
উত্তর: সিদ্ধার্থ।