সিন্ধু ও বৈদিক সভ্যতার পার্থক্য।

author photo
- Saturday, August 25, 2018
advertise here

সিন্ধু ও বৈদিক সভ্যতার মধ্য সম্পর্ক।

অনেকের মতে, হরপ্পা সভ্যতা ও বৈদিক সভ্যতা একই ছিল এবং তাদের মধ্যে বহুবিধ সম্পর্ক ছিল। ভারত আর্যদের আবাসস্থল এবং বৈদিক সভ্যতা হরপ্পা সভ্যতার অংশ। কিন্তু স্যার জন মার্শাল মনে করেন দুই সভ্যতা ভিন্ন। বেশিরভাগ পণ্ডিত তার মতামতের সাথে একমত। আসলে, দুই সভ্যতার মধ্যে সমান পার্থক্য আছে।


সিন্ধু ও বৈদিক সভ্যতার সাদৃশ্য:

(১) সিন্ধু ও আর্যদের খাবার ও পোশাক একই রকম ছিল। উভয় ধুতি ও চাদর জাতীয় বস্ত্র ব্যবহার করত। খাদ্য হিসাবে উভঁয় গম, ছাতু প্রভুটির ব্যবহার ছিল। বৈদিক যুগের নারীদের কেশবিন্যাস ছিল হরপ্পা সভ্যতার মত। উভয়ে অলঙ্কার ব্যবহার করত।


(২) দুই সভ্যতা ছাগল, গরু, কুকুর, Buffalo, এবং ভেড়া পালন করত। উভয় সংস্কৃতিতে তুলা চাষ, সুতা উত্পাদন এবং টেক্সটাইল বয়ন সাধারণ ছিল।

৩) হরপ্পা সভ্যতার চিত্রলিপি ব্রাহ্মী লিপির আদি রূপ, যা পরে সংস্কৃতি ভাষায় পরিণত হয়।

৪) বৈদিক দেবতা রুদ্র, অদিতি ও পৃথিবী হল হরপ্পা সভ্যতার শিব ও শক্তি দেবতা।



সিন্ধু ও বৈদিক সভ্যতার বৈসাদৃশ্য:

১) হরপ্পা সভ্যতা শহুরে ছিল, কিন্তু আর্য সভ্যতা গ্রাম কেন্দ্রিক ছিল। সিন্ধু মানুষ পোড়া ইটের ঘর তৈরি করত, আর্যরা বাঁশ ও খড় দিয়ে ঘর তৈরি করত।

২) সিন্ধু সভ্যতা মূলত ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে গড়ে ওঠে এবং পরে গঙ্গা সমভূমিতে এবং দক্ষিণে কিছুটা বিস্তৃত ছিল। আর্য সভ্যতা সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে।

৩) হরপ্পার সমাজ ছিল মাত্রিকেন্দ্রিক, বৈদিক সমাজ ছিল পিতৃতান্ত্রিক।

৪) হরপ্পা সভ্যতায় ঢাল, শিরস্ত্রাণ প্রভুতি আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রের প্রচলন ছিল না, কিন্তু বৈদিক সভ্যতায় তা ছিল।

৫) মৃৎপাত্রের ক্ষেত্রে দুই সভ্যতার মধ্য পার্থক্য ছিল। হরপ্পা সভ্যতায় মৃৎপাত্রের রঙ ছিল লাল-কালো। আর্য সভ্যতায় মৃৎপাত্রের রং ছিল ধূসর।

৬) হরপ্পা বাসীরা মৃতদেহ কবর দিত। আর্যরা মৃতদেহ দাহ করত।

৭) হরপ্পা সভ্যতা ছিল তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা। তারা লোহার ব্যবহার জানত না। বৈদিক সভ্যতা ছিল লৌহ যুগের সভ্যতা।



৮) হরপ্পার অর্থনীতিতে শিল্প বাণিজ্য প্রধান ছিল। আর্য অর্থনীতি ছিল পশু খামার ও কৃষি।

৯) আর্যরা ঘোড়া ব্যবহার জানত, কিন্তু সিন্ধুর মানুষ ঘোড়া ব্যবহার করতে জানত না।

১০) উভয় সভ্যতায় পূজা সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য ছিল। হরপ্পা সভ্যতার মন্দিরের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশেষ সন্দেহ আছে, কিন্তু বৈদিক সমাজে মন্দির অপরিহার্য ছিল। হরপ্পা সংস্কৃতিতে পৌত্তলিকতা চালু করা হয়েছিল কিন্তু এটি বৈদিক সমাজে ছিল না। তারা প্রকৃতি উপাসক ছিল। হরপ্পা সংস্কৃতির মাতৃ পূজা করা হয়েছিল। বৈদিক সমাজে গরু পূজা করা হয়। হরপ্পা শিবলিং ও মা দেবী পূজা করতেন। আর্য সভ্যতা যৌন উপাসনা ছিল না। হরপ্পা সভ্যতা মহিলা দেবীর প্রভাবশালী ছিল, আর্য সভ্যতা ছিল পুরুষ দেবতার কর্তৃত্ব।

দুই সমাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল। হরপ্পা সভ্যতা যথেষ্ট ভাল ছিল। এর তুলনায় আর্য সমাজ পিছিয়ে ছিল। অনেক ঐতিহাসিকরা আর্যদের বর্বর মানুষ বলে ডেকেছেন। সুতরাং, যদিও দুটি সমাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, তবে উভয় সংস্কৃতির অবদান ভারতীয় সভ্যতার বিকাশের জন্য যথেষ্ট।
Advertisement advertise here