মৌর্য যুগের সমাজ ব্যবস্থা কেমন ছিল?

মৌর্য যুগের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন ব্রাহ্মণ বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্যের উপর নির্ভর করতে হয়। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, গ্রিক দূত মেগাস্থিনিসের বিবরণ, পরবর্তীকালের গ্রিক লেখক ডায়ােডােরাস, এ্যারিয়ান প্রমুখের রচনা এবং সম্রাট অশােকের বিভিন্ন শিলালিপি মৌর্য যুগের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।

মৌর্য যুগের পরিবার : মৌর্য যুগের সমাজ ব্যবস্থা ছিল পরিবার ভিত্তিক। পরিবারগুলি ছিল যৌথ ও পিতৃতান্ত্রিক। পরিবারের সকল সদস্যই সমানভাবে পারিবারিক সম্পত্তির মালিক ছিলেন। ভৃত্য ও দাসরাও পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মৌর্য যুগের চতুবর্ণ : কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র অনুসারে সমাজে পূর্বের মতােই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র — এই চারটি বর্ণের অস্তিত্ব ছিল এবং শাস্ত্র-কর্তৃক তাদের কর্মও নির্দিষ্ট ছিল। চতুরাশ্রম প্রথা মৌর্য যুগে যুগে প্রচলিত ছিল। মৌর্য যুগে বৈশ্য ও শূদ্রের অবস্থার কিছু পরিবর্তন ঘটে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ফলে বৈশ্যদের অবস্থা উন্নত হয়। তারা প্রচুর জমির মালিক হয়। মৌর্য রাষ্ট্রে রাজস্বের সিংহভাগ তারাই দিত। ধনবান এই বৈশ্যরা ক্ষত্রিয়দের সমান মর্যাদা দাবি করতে থাকে। নতুন জমিতে চাষ-বাসের ফলে শূদ্রদের আর্থিক অবস্থাও উন্নত হয়। এতে কিন্তু তাদের সামাজিক মর্যাদার কোনও উন্নতি হয় নি।

মেগাস্থিনিসের জাতিবিভাজন : গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস ভারতীয় সমাজে সাতটি জাতির অস্তিত্বের কথা বলেছেন। এগুলি হল — (১) দার্শনিক, (২) কৃষক, (৩) শিকারি ও পশুপালক, (৪) কারিগর, (৫) সৈনিক, (৬) পরিদর্শক বা গুপ্তচর এবং (৭) মন্ত্রণাদাতা ও সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণকারী। বলা বাহুল্য, মেগাস্থিনিসের এই বিভাজন ভারতীয় সমাজের চিরাচরিত চতুর্বর্ণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

(১) মেগাস্থিনিস-বর্ণিত দার্শনিকরা ছিলেন সমাজের অগ্রগণ্য শ্রেণি। তারা ছিলেন সংখ্যালঘু। জনসাধারণ ও রাজন্যবর্গের যাগযজ্ঞ-পূজার্চনায় তারা সাহায্য করতেন এবং বছরের শুরুতে তারা সারা বছরের জলবায়ু, আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্বিপাক সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন। তারা দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন — ব্রাকমেনিসসারমেনিস
(ক) ব্রাকমেনিসদের জীবন দুভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে তারা তপােবনে অনাড়ম্বর জীবন কাটাতেন এবং এখন অধ্যাপনায় রত থাকতেন। দ্বিতীয় পর্বে অর্থাৎ ৩৭ বছর বয়স হলে তারা গার্হস্থ্য-জীবনে প্রবেশ করে পরম নিশ্চিন্তে জীবন অতিবাহিত করতেন।
(খ) সারমেনিসরা দুভাগে বিভক্ত ছিলেন। একদল ছিলেন অরণ্যবাসী। অন্য দলটি ছিলেন চিকিৎসক। তারা লােকালয়ে বাস করে বিনামূল্যে মানুষের চিকিৎসা করতেন। গৃহস্থরাই তাদের অন্নবস্ত্রের ব্যবস্থা করতেন।
(২) দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত কৃষকরা ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়। তারা ছিলেন ভদ্র ও নম্র। তারা জমির মালিক ছিলেন না — তারা উৎপন্ন ফসলের এক-চতুর্থাংশ পেতেন।
(৩) শিকারি ও পশুপালকরা বনে-জঙ্গলে পশু-পাখি শিকার করতেন এবং গবাদি পশুর রক্ষণাবেক্ষণ করতেন।
(৪) কারিগর ও শিল্পীরা শিল্পকার্যে রত ছিলেন এবং রাষ্ট্রের অস্ত্রশস্ত্র ও জাহাজ নির্মাণ করতেন।
(৫) সৈনিকরা রাজার হয়ে যুদ্ধবিগ্রহ করতেন।
(৬) পরিদর্শক বা গুপ্তচররা রাজ্যের খবরা-খবর সংগ্রহ করতেন।
(৭) মন্ত্রণাদাতা ও মূল্যনির্ধারকরা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিযুক্ত হতেন এবং বিচারকার্য পরিচালনা করতেন।

সাধারণভাবে দেখলে মনে হয় যে, ভারতের সনাতন বর্ণাশ্রম ব্যবস্থার চিত্র মেগাস্থিনিসের রচনায় ফুটে ওঠে নি। তার জাতিবিভাগ ছিল কর্মভিত্তিক। ডঃ লােমিলা থাপার বলেন যে, মেগাস্থিনিসের সাতটি জাতিবিভাগ ছিল অর্থনৈতিক — সামাজিক নয়। আসলে সমাজে তখন নতুন নতুন নানা বৃত্তির উৎপত্তি হচ্ছিল — বিভিন্ন বৃত্তিকে কেন্দ্র করে নিত্য নতুন জাতির আবির্ভাব হচ্ছিল। এরই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে মেগাস্থিনিসের বর্ণনায় — যা কিনা চিরাচরিত ভারতীয় বর্ণব্যবস্থার ছবি নয়। আবার একথাও ঠিক যে, ভারতীয় চাতুর্বর্ণ-সমাজের বিভিন্ন বর্ণকে অতি সহজেই মেগাস্থিনিসের সাতটি জাতিগােষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করা যায়। দার্শনিকরা ছিলেন ব্রাহ্মণ সমাজের অন্তর্ভুক্ত। সৈনিক, পরিদর্শক ও মন্ত্রণাদাতারা ছিলেন ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ভুক্ত। কৃষক, শিকারি ও পশুপালক, কারিগর ও শিল্পীরা ছিলেন বৈশ্য সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীকালে অবশ্য শিকারি ও পশুপালকরা শূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত হয়।

মৌর্য যুগের মিশ্র জাতি : কৌটিল্যের রচনায় কেবলমাত্র চতুর্বর্ণই নয় — অনুলােম ও প্রতিলােম বিবাহের ফলে উদ্ভূত সংকর বা মিশ্র জাতি এবং বিভিন্ন ব্যক্তিভিত্তিক জাতির উল্লেখ আছে। নিজ বর্ণের মধ্যে বিবাহই ছিল সাধারণ নিয়ম, কিন্তু এই যুগে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে — এমনকী শূদ্রদের সঙ্গে বিবাহ চালু হয়। উচ্চবর্গের পুরুষের সঙ্গে নিম্নবর্ণের কন্যার বিবাহ অনুলােম বিবাহ এবং নিম্নবর্ণের পুরুষের সঙ্গে উচ্চবর্ণের কন্যার বিবাহ প্রতিলােম বিবাহ বলে পরিচিতি লাভ করে। অর্থশাস্ত্রে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিবাহ এবং এর ফলে বিভিন্ন সংকর বা মিশ্র জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তৃত আলােচনা আছে। আবার দুটি সংকর জাতির মিলনে এক নতুন সংকর জাতির উৎপত্তি এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কেও তিনি বিস্তৃত আলােচনা করেছেন। এই আমলের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক জাতিগুলির মধ্যে ছিল কৃষক, গােরক্ষক (গোয়ালা), বেণুকারু (বেতশিল্পী), চর্মকারু (চর্মকার), চিকিৎসক, কল্পক (নাপিত), সৌভিক (ঐন্দ্রজালিক), ধীবর প্রভৃতি। মৌর্য যুগের সমাজ ব্যবস্থা ছিল বিভিন্ন বর্ণের মিশ্রণ।

মৌর্য যুগের বিবাহপ্রথা : অর্থশাস্ত্রে আটপ্রকার বিবাহের উল্লখ আছে — আর্য, আসুর, প্রাজাপত্য, দৈব, ব্রাহ্ম, গান্ধর্ব, রাক্ষস এবং পৈশাচ।
(১) যে বিবাহে কন্যাকে অলংকৃত করে বরের হাতে দেয়া হয় তাকে ব্রাহ্ম বিবাহ বলে।
(২) যে বিবাহে যজ্ঞবেদিতে পুরােহিতকে তার পারিশ্রমিক হিসেবে কন্যাদান করা হয় তাকে দৈব বিবাহ বলে।
(৩) যে বিবাহে পাত্রপক্ষের কাছ থেকে একটি গাভি ও একটি ষাঁড় গ্রহণ করে কন্যাকে দান করা হত তাকে আর্য বিবাহ বলে ।
(৪) যে বিবাহে কন্যা ও বর একত্রে ধর্মাচরণ করবে বলে প্রতিশ্রুত হয়ে বিবাহ করে তাকে প্রাজাপত্য বিবাহ বলে।
(৫) যে বিবাহে বর কন্যার পিতাকে বা কন্যাকে শুল্ক প্রদান করে বিবাহ করে তা আসুর বিবাহ নামে পরিচিত।
(৬) যে বিবাহে পিতা-মাতার অনুমতি না নিয়ে বর ও কন্যা স্বেচ্ছায় পরিণীত হয় তাকে গান্ধর্ব বিবাহ বলে।
(৭) যে বিবাহে কন্যাকে বলপূর্বক হরণ করে বিবাহ করা হয় তাকে রাক্ষস বিবাহ বলে।
(৮) যে বিবাহে কন্যাকে ঘুমন্ত বা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় হরণ করে বিবাহ করা হয় তা পৈশাচ বিবাহ নামে পরিচিত।
এই আটপ্রকার বিবাহের মধ্যে প্রথম চার প্রকার বিবাহ ছিল ধর্মীয় বিবাহ এবং এগুলির পশ্চাতে সামাজিক অনুমােদন ছিল। গান্ধর্ব বিবাহটিও সমাজ মেনে নিয়েছিল। সম্ভবত বাকি তিন ধরনের বিবাহে সামাজিক অনুমােদন ছিল না। অর্থশাস্ত্রে বিধবা বিবাহ অনুমােদিত। বলা হয়েছে স্বামী যদি দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশ থাকেন বা সন্ন্যাস গ্রহণ করেন, তাহলে স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করতে পারবেন।

মৌর্য যুগের নারী সমাজ : মৌর্য যুগে নারীদের অবস্থা মােটামুটি উন্নত ছিল এবং সমাজ জীবনে তারা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। নারীরা বিশেষ করে ব্রাহ্মণ পরিবারের নারীরা বিদ্যাচর্চা করতেন এবং সামরিক শিক্ষা নিতেন। আলেকজাণ্ডারের আক্রমণ প্রতিরােধে অসসকেনােই (পাঞ্জাব) রাষ্ট্রের বধুরা যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের একটি নারী রক্ষীবাহিনী ছিল। নারীরা নৃত্য, গীত ও যন্ত্রসংগীতে পারদর্শী ছিলেন। অনেকে গুপ্তচরের কাজ করতেন এবং নানা শিল্পে নিযুক্ত ছিলেন। অর্থশাস্ত্রে তাদের অধিকার স্বীকৃত ছিল। স্বামী দুশ্চরিত্র, চিরপ্রবাসী, রাজদ্রোহী এবং ক্লীব হলে স্ত্রী বিবাহ-বন্ধন ছিন্ন করতে পারতেন। বিধবা বিবাহ এবং নিয়ােগ প্রথা স্বীকৃত ছিল।

মৌর্য যুগের দাসপ্রথা : গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস-এর মতে, ভারতে দাসপ্রথা ছিল না। এ বক্তব্য সঠিক নয়। আসলে গ্রিস বা রােমে দাসদের প্রতি যে কঠোর ব্যবহার করা হত, ভারতে তা ছিল না। বিভিন্ন বৈদিক সাহিত্য, বৌদ্ধ জাতক, মহাভারত, অর্থশাস্ত্র, অশােকের শিলালিপি ও মনুসংহিতায় দাসপ্রথা সম্পর্কে উল্লেখ আছে। অর্থশাস্ত্রে দাসপ্রথা সম্পর্কে ব্যাপক ও বিস্তৃত আলােচনা আছে। মৌর্য যুগে দাসত্বের উৎস ছিল দারিদ্র্য, আত্মবিক্রয়, যুদ্ধবন্দিত্ব, জন্মসূত্র, শাস্তি প্রভৃতি। দাসরা রাজ-অন্তঃপুর, ব্যক্তিগত খামার, সরকারি শিল্পসংস্থা এবং সম্পন্ন গৃহস্থের বাড়ি বা খামারে কাজ করত। কৌটিল্য দাসপ্রথাকে সুনজরে দেখেন নি। তিনি দাসদের সম্পর্কে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন এবং এ ব্যাপারে কিছু আইনগত বাধানিষেধ আরােপ করেন। তিনি বলেন যে, নাবালক ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য বা শূদ্রকে দাস হিসেবে বিক্রি করা বা বন্ধক রাখা দণ্ডনীয়। অনার্য দাসদের ক্ষেত্রে কৌটিল্য কিন্তু এ ধরনের মনােভাবের পরিচয় দেন নি। তিনি দাসদের তিনটি বিশেষ অধিকারের কথা বলেছেন — প্রভুর ক্ষতি না করে ধন উপার্জনের অধিকার, পৈতৃক সম্পত্তি ভােগের অধিকার এবং মুক্তিমূল্যের বিনিময়ে দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার অধিকার। অনার্য দাসদের কিন্তু এ ধরনের অধিকার দেওয়া হয় নি। অনেকে বলেন যে, মৌর্যযুগে দাসদের বাস্তবে এত অধিকার ছিল না। যাই হােক, ধর্মশাস্ত্রগুলিতে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা যায়। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে দাসদের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি উঠতে থাকে। কৌটিল্য দাসপ্রথাকে ‘ম্লেচ্ছপ্রথা ‘ বলে অভিহিত করেছেন এবং কোনও আর্যকে দাসে পরিণত করার বিরােধিতা করেছেন।

মৌর্য যুগের শিক্ষাব্যবস্থা : মৌর্যযুগে ভারতীয় সমাজ জীবনে শিক্ষা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। সমাজের উচ্চ তিনবর্ণ বাল্যে গুরুগৃহে ব্রহ্মচর্যাশ্রম পালন করত। তাদের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল বেদ, সুত্র-সাহিত্য ও বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্র। পাণিনির আমল থেকে ব্যাকরণের উপর গুরুত্ব আরােপিত হয়। ক্রমে ষড়দর্শন, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ পাঠ্যসূচি-ভুক্ত হয়। মৌর্য যুগে উচ্চশিক্ষার প্রধান কেন্দ্র ছিল পাঞ্চাল, তক্ষশিলা, উজ্জয়িনী ও বারাণসী। মৌর্য যুগে খনি, ধাতু, শিল্প, বিভিন্ন কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক বিদ্যার প্রসার ঘটে। চিকিৎসা বিদ্যারও যথেষ্ট প্রসার ঘটে। বৌদ্ধ ও জৈন সন্ন্যাসীরা এ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। সম্রাট অশােক মানুষ ও পশুর জন্য দেশ-বিদেশে বেশ কিছু রাজকীয় চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। নারী শিক্ষার ব্যাপারে বৌদ্ধ ভিক্ষুণীদের যথেষ্ট অবদান ছিল। সম্রাট অশােক কর্তৃক নিযুক্ত স্ত্রী-অধ্যক্ষ-মহামাত্ররা নারী শিক্ষার প্রসার ঘটান।

মৌর্য যুগের খাদ্য, পোশাক ও বিনোদন : খাদ্য হিসেবে মানুষ চাল, গম, বালি, দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী ব্যবহার করত। উচ্চবিত্ত মানুষদের মধ্যে মাংসাহার ও সুরাপান প্রচলিত ছিল। নারী-পুরুষ উভয়েই নানা বর্ণের পােশাক ব্যবহার করত। মেয়েরা নানা ধরনের অলঙ্কার ও প্রসাধন ব্যবহার করত। আমােদ-প্রমোদের মধ্যে ছিল অভিনয়, পাশাখেলা, নৃত্য ও গীত। মেয়েদের মধ্যে কুন্দক ক্রীড়া ও পাশাখেলার চল ছিল। পুরুষদের বিনােদনের মধ্যে ছিল ধনুর্বিদ্যা, নৌবিহার ও সাঁতার। এছাড়া বসন্তোৎসব, নববর্ষ, দীপাবলি, গিরিপূজা, পুস্পোৎসব প্রভৃতি পালিত হত।