ভারতের ইতিহাসে কুষাণ যুগের অবদান

মৌর্য যুগের পতন ও গুপ্ত যুগের আবির্ভাবের মধ্যবর্তীকালে এদের শাসনকাল ভারত ইতিহাস এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আনুমানিক ১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে কুষাণদের শাসন শুরু হয় এবং অনুমান করা হয় যে, কুষাণ বংশের সর্বশেষ নরপতি দ্বিতীয় বাসুদেব ২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। কুষাণদের এই দুই শতাধিক বৎসরের শাসনকাল উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে রাজনৈতিক ঐক্যবিধানে, শিল্প ও স্থাপত্যের প্রসারে, ধর্মের উন্নতিতে এবং বহির্বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সূত্রে বিশ্বের সঙ্গে সংযােগ স্থাপনে এক গৌরবােজ্জ্বল যুগ হিসেবে পরিচিত। রােলিনসন যথার্থই কুষাণ যুগকে গুপ্ত যুগের ‘প্রকৃত মুখবন্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

রাজনৈতিক ঐক্য: মৌর্যদের পতনের পর ভারত ইতিহাসে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগের সূচনা হয়। রাজনৈতিক অনৈক্য, অস্থিরতা ও বহিরাক্রমণ ভারতবর্ষকে বহুধা বিভক্ত করেছিল। গ্রিক, শক ও পার্থিয়ানদের পরাজিত করে কুষাণরা সেই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনৈক্য দূর করে এবং ভারতের এক বিস্তীর্ণ অংশে ঐক্য ও সুস্থিতি প্রতিষ্ঠা করে। পশ্চিমে খােরাসান থেকে পূর্বে বিহার এবং উত্তরে খােটান থেকে দক্ষিণে কঙ্কোন পর্যন্ত কুষাণ সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। কণিষ্ক পূর্বে কোনও ভারতীয় নৃপতি মধ্য এশিয়ার এত বিস্তৃত অঞ্চলে সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারেন নি।

শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা: ইন্দো-গ্রিক, ইন্দো-সিথিয়ান, ইন্দো-পার্থিয়ান ও অন্যান্য জাতিবর্গের মধ্যে আধিপত্য লাভের সংঘর্ষের ফলে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক স্থিতি একেবারে বিনষ্ট হয়। এই অবস্থায় ভারতে কেবলমাত্র রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাই নয় — দেশীয় ও বিদেশীয় ধারার সমন্বয়ে কুষাণরা ভারতে একটি সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা গড়ে তােলে, যা কয়েক পুরুষ ধরে ভারতে প্রচলিত ছিল। কুষাণ রাজারা নিজেদের দেবতার পুত্র বলে অভিহিত করতেন। এর ফলে ভারতে ‘রাজার দৈবসত্ত্বে’র আদর্শ শক্তিশালী হয়। তারা ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় ‘স্যাট্রাপ’ (ক্ষত্রপ), স্ট্রাটিগােস প্রভৃতি সামরিক শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। কুষাণ রাজ্যে দু’জন নৃপতির একই সঙ্গে যৌথভাবে শাসনকার্য পরিচালনার রীতি দেখা যায়।

বিচ্ছিন্নতার অবসান: কুষাণরা ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে চিন, মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও রোমের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তােলে। কুষাণ সাম্রাজ্য উত্তর-পশ্চিম ভারতে হিন্দুকুশ পর্বতের অপর পারে বিস্তৃত ছিল। এর ফলে সুদুর পশ্চিম ও মধ্য এশিয়াও ভারতীয় বাণিজ্যের আওতায় আসে। বাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় বাণিজ্যের ব্যাপারে যুক্ত সব কিছুর উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

কুষাণ যুগের আর্থিক সমৃদ্ধি: উত্তর-পশ্চিম ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি কুষাণদের দখলে ছিল। এর উপর দিয়ে রােমান সাম্রাজ্য, চিন প্রভৃতি দেশের সঙ্গে ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। এর ফলে উত্তর পশ্চিম ভারত সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে। চিন থেকে ইরান ও রােমান সাম্রাজ্যে যে সিল্ক রপ্তানি হত তা যেত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে। এই সিল্ক পথ বা রেশম পথ কুষাণদের করায়ত্ত থাকায় তারা বণিকদের কাছ থেকে প্রচুর উপশুল্ক আদায় করত। এটিই ছিল গােটা উত্তর পশ্চিম ভারতের সমৃদ্ধির প্রধান কারণ। কুষাণ রাজারাই ভারতে সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করে। এই মুদ্রাগুলিতে ব্যবহৃত সােনার মান ছিল উঁচু এবং তাতে সােনার পরিমাণও ছিল বেশি। স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন নিঃসন্দেহে দেশের আর্থিক সমৃদ্ধির কথা ঘােষণা করে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে রােমান সাম্রাজ্য থেকে ভারতে যে বিপুল পরিমাণ সােনা আমদানি হত তার প্রচুর নজির আছে। রােমান ঐতিহাসিক প্লিনি এইভাবে রােম থেকে ভারতে সােনা রপ্তানি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মমসেন -ও রােম থেকে ভারতে সােনা রপ্তানির কথা লিখেছেন। এছাড়া, মধ্য এশিয়া কুষাণদের করায়ত্ত হওয়ার ফলে আলতাই পর্বত থেকে প্রচুর পরিমাণ সােনা এদেশে এসে পৌছাত। এইভাবে কুষাণ আমলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও অন্যান্য কারণে ভারতের অর্থনীতি এক নতুন দিকে মােড় নেয়।

কুষাণ যুগের মিশ্র সংস্কৃতি: ঐতিহাসিক রােলিনসন -এর মতে, ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে কুষাণ যুগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বি. জি. গােখলে বলেন যে, সাংস্কৃতিক দিক থেকে কুষাণ যুগ ভারত ইতিহাসে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। দেশি-বিদেশি, বিভিন্ন জাতি-উপজাতি ও আঞ্চলিক সংস্কৃতির সমন্বয়ে এই যুগে ভারতে এক মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এই সংমিশ্রণ বা সমন্বয়ই হল কুষাণ যুগের সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। লিপি, ধর্ম, মুদ্রা, শিল্প-সাংস্কৃতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রেই এই বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।

কুষাণ যুগের ধর্ম: কুষাণ যুগ ধর্মীয় পুনরুত্থানের যুগ। এই যুগে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম সব ধর্মেরই একসঙ্গে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। হিন্দুধর্মে শৈব, বৈষ্ণব, মিহির, কার্তিকেয় প্রভৃতি ধর্মমতের উদ্ভব হয়। কুষাণ যুগে প্রচলিত মুদ্রায় গ্রিক, ইরান, ভারতীয়, জরথুষ্ট্রিয় প্রভৃতি বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি অঙ্কিত দেখা যায়। ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ হলেও কুষাণ রাজারা পরধর্মমতসহিষ্ণু ছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কণিষ্ক চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতির অধিবেশন আহ্বান করেন। এবং এ সময় বৌদ্ধধর্ম মহাযান ও হীনযান দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে গরে পড়ে। এই যুগে বৌদ্ধধর্ম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং মহাযান ধর্মমতের প্রাধান্য সূচিত হয়। মহাযানরা বুদ্ধের মূর্তিপূজা প্রচলন করেন এবং প্রতীকের মাধ্যমে বুদ্ধের উপাসনা পদ্ধতি লুপ্ত হয়। বৌদ্ধ ধর্মের সৎকর্মের স্থলে মহাযানরা বুদ্ধ ও বােধিসত্ত্বদের পূজার উপর গুরুত্ব আরােপ করেন। মহাযান বৌদ্ধরাই প্রথম পালি ভাষার পরিবর্তে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সংস্কৃত ভাষার প্রচলন করেন।

কুষাণ যুগে বহির্বিশ্বে ভারতীয় সংস্কৃতি: কুষাণরা ছিল বহির্বিশ্বে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার দূত। ডঃ হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী বলেন যে, কণিষ্কের বংশ মধ্য ও পূর্ব এশিয়াতে ভারতীয় সভ্যতার দ্বার খুলে দেয়। এই যুগেই সদ্য উদিত খ্রিস্টধর্ম পূর্ণ বিকশিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্মের সংস্পর্শে আসে এবং পরিব্যাপ্ত পৌত্তলিকতার দ্বারা বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়। কণিষ্ক অশােকের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন। বৌদ্ধধর্ম ও ভারতীয় এতে সংস্কৃতি মধ্য এশিয়ার কাশগড়, খােটান, তিব্বত, চিন ও জাপানে প্রচারিত হয়। এই যুগেই এশিয়া ও ইউরােপের বাণিজ্যকেন্দ্রগুলি বৌদ্ধ ধর্মের সংস্পর্শে আসে। কুষাণদের ধর্মপ্রচার ও রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে বৌদ্ধধর্ম মধ্য এশিয়ার বর্বর জাতিগুলির একমাত্র ধর্মে পরিণত হয় এবং তাদের মধ্যে ঐক্যবােধ গড়ে ওঠে। কুষাণদের চেষ্টায় ভারতবর্ষ এশিয়ার তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়। নৌবাণিজ্যের প্রসারের ফলে দূর প্রাচ্যের দ্বীপগুলিতে ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিস্তৃত হয়। অনেক ক্ষত্রিয় রাজপুত্র রাজ্যচ্যুত হয়ে দূরপ্রাচ্যের দ্বীপগুলিতে বসতি স্থাপন করে এবং কালক্রমে ওইসব অঞ্চলে ভারতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। রােম, মিশর প্রভৃতি দেশের সঙ্গেও ভারতের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হয়।

কুষাণ যুগের সাহিত্য: সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কুষাণ যুগ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কুষাণ রাজন্যবর্গ ছিলেন সংস্কৃতির পৃষ্ঠপােষক। এই যুগে সংস্কৃত ভাষার ব্যাপক প্রচলন হয় এবং পালির পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা ব্যবহৃত হতে থাকে। অশ্বঘােষ, নাগার্জুন, বসুমিত্র প্রভৃতি কৃতী পণ্ডিত ও দার্শনিকেরা কণিষ্কের রাজসভা অলংকৃত করতেন। অশ্বঘােষ ছিলেন এই যুগের বিশিষ্ট কবি, দার্শনিক, সংগীত ও শাস্ত্রজ্ঞ। তার রচিত বুহ্মচরিত, সুত্রালঙ্কার, সৌন্দরানন্দ কাব্য ও সারিপুত্রপ্রকরণ অতি উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ। অনেকে তাকে মিলটন, ভলতেয়ার ও গ্যেটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেবলমাত্র সাহিত্যই নয় — ধর্ম ও দর্শনের ক্ষেত্রেও তিনি নতুন ভাবধারার প্রবর্তক। প্রজ্ঞা-পারমিতা-শত-সহস্রিকা ও মাধ্যমিক-সূত্র গ্রন্থের রচয়িতা নাগার্জুন ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক। তার মাধ্যমিক সূত্র প্রকৃতপক্ষে আপেক্ষিক তত্ত্বের আলােচনা। তাকে রসায়ন ও অপরসায়ন জাতীয় নানা গ্রন্থের লেখক বলে মনে করা হয়। বৌদ্ধদর্শন মহাভিভাষ্য রচয়িতা বসুমিত্র, আয়ুর্বেদশাস্ত্র প্রণেতা চরক, বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক সুশ্রুত কুষাণ যুগেরই মানুষ ছিলেন। কুষাণদের মাধ্যমে গ্রিকদের সঙ্গে যে যােগসূত্র স্থাপিত হয় তাতে ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষবিদ্যা যথেষ্ট উন্নতি করেছিল। তারাপুঞ্জের গতিবিধি সংক্রান্ত অনেক গ্রিক শব্দ সংস্কৃত ভাষায় স্থান পায়। তাছাড়া, জ্যোতিষবিদ্যার ক্ষেত্রে গ্রিক ভাবধারা ভারতীয় ভাবধারাকে প্রভাবিত করে।

কুষাণ শিল্প ও প্রযুক্তি: কুষাণদের কাছ থেকে ভারতীয়রা উন্নতমানের অশ্বারােহণ বিদ্যা এবং শিরস্ত্রাণ, শেরওয়ানি, চামড়ার বুট প্রভৃতির ব্যবহার শিখেছিল। ভারতে স্বর্ণমুদ্রা ও শকাব্দের প্রবর্তন কুষাণদের অবদান। মৌর্য যুগের পূর্ব থেকেই ভারতে রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রা ছিল। কুষাণ রাজ কদফিসিস্ রােমান স্বর্ণমুদ্রার অনুকরণে এদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন। রােমের সঙ্গে যােগাযােগের ফলে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা উন্নত হয় এবং কাঁচশিলে ব্যাপক উন্নতি ঘটে।

কুষাণ যুগের শিল্পকলা: শিল্পকলার ইতিহাসে কুষাণ যুগ এক গৌরবােজ্জ্বল অধ্যায়। এই যুগে সারনাথ, মথুরা, অমরাবতী, গান্ধার — চারটি স্থানে চারটি বিশেষ শিল্পরীতির উদ্ভব হয়। এদের মধ্যে গান্ধার শিল্পই সর্বাপেক্ষা উল্লেখযােগ্য। গান্ধার শিল্প হল ভারতীয়, গ্রিক ও রােমান শিল্পরীতির এক বিস্ময়কর সমন্বয়। ভারতীয় ভাব ও বিষয়বস্তু এই নতুন শিল্পরীতির প্রভাবে অপূর্ব সুষমামণ্ডিত হয়ে ওঠে। এই নতুন শিল্পধারা ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে পেশােয়ার ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যকাল থেকে প্রসার লাভ করতে থাকে। এই অঞ্চল প্রায় তিনশাে বছর গ্রিক শাসনে থাকায় তা পূর্ব ও পশ্চিমের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। গান্ধার শিল্পরীতির সর্বোত্তম নিদর্শন ভাস্কর্যে দেখা যায়। মূর্তির মসৃণতা, বস্ত্র ব্যবহার ও মুর্তির আদর্শ মানবিক রূপদান এই শিল্পরীতির অন্যতম অবদান। বুদ্ধমূর্তি ও বােধিসত্ত্ব নির্মাণে এই শিল্পরীতি বিস্ময়কর উৎকর্ষ লাভ করে। গান্ধার শিল্পের প্রভাব মধ্য এশিয়ার পথে চিন পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং এর প্রভাব ভারতের মধ্য দিয়ে জলপথে ইন্দোচিনেও প্রসার লাভ করে। কুষাণ রাজারা বিশেষত কণিষ্ক স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপােষক ছিলেন। তার রাজধানী পুরুষপুর, মথুরা, কণিষ্কপুর ও তক্ষশিলায় স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন পাওয়া যায়। কণিষ্ক কর্তৃক পুরুষপুরে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ ভারতীয় স্থাপত্যের এক বিস্ময় নিদর্শন। বিশাল বৌদ্ধবিহার ও বিভিন্ন প্রকার ভাস্কর্য-কর্ম দ্বারা তিনি মথুরার শ্রীবৃদ্ধি করেন।

এক কথায়, কুষাণ যুগ ভারত ইতিহাসের এক গৌরবােজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘদিনের অশান্তি, অনৈক্য ও হানাহানির পর এই যুগ এক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানের যুগ।

RELATED POSTS