বঙ্গভঙ্গ পটভূমি ও কারণ কি ছিল?

উনিশ শতকের শেষ থেকে কংগ্রেসের মধ্যে উদারপন্থী নেতৃত্বের ব্যর্থতা চরমপন্থী আদর্শের জন্ম দিয়েছিল। অমলেশ ত্রিপাঠী “একস্ট্রিমিষ্ট চ্যালেঞ্জ” গ্রন্থে বলেন, চিন্তার দিক থেকে চরমপন্থীদের প্রস্তুতি থাকলেও, তাকে দানা বাঁধতে সাহায্য করেছিল লর্ড কার্জনের নীতি। কার্জনের সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসনিক নীতির বিরুদ্ধে যে অসন্তোষ তৈরী হয়েছি, তা চরমে ওঠে বাংলাকে ভাগ করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর, লর্ড কার্জন পূর্বে প্রস্তাবিত বাংলা ভাগের পরিকল্পনাকে কার্যকর করার নির্দেশ দেন। ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করার আসল উদ্দেশ্য কি ছিল তা নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়েছিল। বৃটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার কথা বললেও, এর পিছনে বৃটিশ আমলাদের বাঙালী বিরােধী মনােভাবই ছিল প্রধান কারণ।

বঙ্গভঙ্গ এর সময় মানচিত্র ১৯০৫-১৯১১

উনিশ শতকের গােড়ার দিকে যে বৃটিশ আমলারা ভারতে এসেছিলেন তারা মনে করতেন যে ইংরাজি শিক্ষায় শিক্ষিত বাঙালি সম্প্রদায়ের উদ্ধব হলে বৃটিশ শাসক এবং তাদের প্রজাদের মধ্যে সংযােগ স্থাপনে সাহায্য করবে। বর্ণে ভারতীয় হলেও, চিন্তা এবং আদর্শে এরা হবে ইংরেজ এবং শাসকশ্রেণীর অনুগত। কিন্তু উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বৃটিশ আমলাদের এই মনােভাবে পরিবর্তন আসতে থাকে। উনিশ শতকের বৃটিশ বিরােধী আন্দোলন, বিশেষ করে নীলচাষীদের পক্ষে হিন্দু পেট্রিয়টের সমর্থন, ইলবার্ট বিল বিরােধী আন্দোলন, বৃটিশ আমলাদের মধ্যে বাঙালীদের প্রতি বিরুপ মনােভাব সৃষ্টি করেছিল। এর সঙ্গে ছিল নীলকর সাহেব এবং বৃটিশ বণিকদের উস্কানি। ভাইসরয় হিসাবে ভারতে আসার আগে থেকেই কার্জন ব্রিটিশ সরকারের কংগ্রেস বিরােধী এবং বাঙালি বিরোধী মনোভাবের ভাগীদার ছিলেন।

বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক পরিকল্পনা: বাংলা ভাগের পিছনে প্রশাসনিক কারণ হিসাবে দেখানাে হয়েছিল বাংলা প্রেসিডেন্সির বৃহৎ আয়তন। বিশাল এই প্রেসিডেন্সির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নানা প্রশাসনিক সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের ফলে বাংলা প্রেসিডেন্সির সঙ্গে উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, উত্তর পশ্চিম প্রদেশ যুক্ত হয়। ১৮৮৭ সালে উড়িষ্যায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় প্রথম প্রশাসনিক সমস্যা অনুভূত হয়। সেই সময় বোম্বে এবং মাদ্রাজের মতন বাংলা প্রেসিডেন্সিকেও একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দায়িত্বাধীন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু জন লরেন্স এই প্রস্তাবের বিরােধিতা করেন এবং বাংলার জেলাগুলির আয়তন সংকোচনের প্রস্তাব দেন। এরই সঙ্গে তার বিকল্প প্রস্তাব ছিল বাংলা থেকে আসামকে বিচ্ছিন্ন করে চিফ কমিশনারের অধীনে তিনটি কমিশনে ভাগ করা। তিনি মনে করতেন যে আর্থিক ব্যয় সংকোচনের সঙ্গে আসামের উন্নতি সাধন হবে এই পরিকল্পনার ফলে। পরে তিনি আসামের সঙ্গে তৎসন্নিহিত জেলাগুলিকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিহার এবং উড়িষ্যাকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোনাে কারণ তিনি দেখেননি।

১৮৭২ সালের প্রথম আদমশুমারিতে দেখা যায় যে বাংলার জনসংখ্যা প্রায় ৬৭ কোটি, এবং এই বিশাল প্রেসিডেন্সিতে সুষ্ঠু প্রশাসন চালানাে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সরকার যে নতুন কর আরােপ করেছিল, তার বিরুদ্ধে জমিদারদের অসন্তোষ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে রায়তদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এবং রাজস্ব সংগ্রহ আরও সহজ করার জনাে জেলাগুলির আয়তন কমানাে প্রয়ােজন ছিল।

১৮৭৪ সালে আসামকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাংলা ভাষী সিলেট, কাছাড় ও গােয়ালপাড়া জেলা নিয়ে আসামে চিফ কমিশনার এর অধীনে স্বতন্ত্র একটি প্রদেশ গঠিত হয়। কিন্তু সিভিলিয়ান এই ক্ষুদ্র প্রদেশে কর্মোপলক্ষ্যে যেতে রাজি না হওয়াতে, চিফ কমিশনার ১৮৯৬ সালে উইলিয়াম ওয়ার্ড পরিকল্পনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগ, ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলাকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের প্রদেশে পরিণত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু জনমতের চাপে বিশেষ করে চট্টগ্রামের মানুষের বিরােধিতার জন্যে এই প্রস্তাব কাউন্সিলে অনুমােদন করানাে যায়নি। ইতিমধ্যে লর্ড কার্জন ভারতের বড়োলাট হয়ে আসেন।

১৯০০ সালে কার্জনের আসাম সফরের সময় সেখানকার চা বাগানের মালিকরা রপ্তানি বাণিজ্যের সুবিধার জন্য নতুন বন্দর গঠনের দাবি জানান। যদি চট্টগ্রামকে বন্দর হিসেবে উন্নয়ন করে লর্ড আসামের সঙ্গে যুক্ত করা যায় তবে চা বাগানের মালিকদের সুবিধা হয়। বাংলার গভর্নর স্যার অ্যান্ড্রু প্রস্তাব দেন যে, যেহেতু বাংলার লােকসংখ্যা বেশী সেহেতু উড়িষ্যাকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে মধ্যপ্রদেশের সঙ্গে জোড়া হোক। অমলেশ ত্রিপাঠী তার “একস্ট্রিমিষ্ট চ্যালেঞ্জ” গ্রন্থে বলেন, এই সময় অবধি বৈজ্ঞানিকভাবে সীমা বিন্যাসের প্রশ্নটাই বড়ো ছিল, রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি যুক্ত হয়নি।

বাংলা, আসাম, সেন্ট্রাল প্রদেশ এবং মাদ্রাজের সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ফ্রেজারকে একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। ফ্রেজারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯০৩ এর ১লা জুন, সীমানা নির্ধারণের মিনিট তৈরি হয়। স্বরাষ্ট্র সচিব হার্বার্ট রিজলির অনুমােদন পাওয়ার পর ১৯০৩ এর ৩রা ডিসেম্বর রিজলি পেপার প্রকাশিত হয়। চট্টগ্রাম ডিভিসন, পার্বত্য ত্রিপুরা, ঢাকা এবং ময়মনসিংহ জেলাকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ছােটনাগপুরকে সেন্ট্রাল প্রদেশের সঙ্গে এবং সম্বলপুরকে বাংলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। মাদ্রাজের গঞ্জাম জেলাকেও বাংলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নতুনভাবে সীমান্ত বিন্যাসের ফলে মনে করা হয় বাংলার জনসংখ্যা খানিকটা কমে যাবে এবং জেলা শাসকের পক্ষে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযােগের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের মধ্যে দিয়ে আসামের চা রপ্তানি করা গেলে, রপ্তানির ব্যয় কমবে। ওড়িয়া ভাষী মানুষেরা এক শাসনের অধীনে আসবে। পূর্বের জেলাগুলি কলকাতার নিয়ন্ত্রণমুক্ত হলে, এই অঞ্চলের মুসলিম জনগণ সুবিচার পাবেন।

১৯০৩ সাল পর্যন্ত প্রশাসনিক সুবিধা সীমান্ত বিন্যাসের প্রধান কারণ ছিল। কিন্তু ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের পিছনে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছিল, তার সুত্রপাত হয়েছিল ১৯০৩ সালে প্রকাশিত রিজলি পেপারের মধ্য দিয়ে। ফ্রেজার এবং রিজলির পরিকল্পিত বঙ্গভঙ্গের প্রথম পরিকল্পনা যে চরমপন্থীদের দমন করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছিল তা স্পষ্ট হয়ে যায় ফ্রেজারের মন্তব্য থেকে — তার মতে বাংলা প্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলা বাঙালীদের নিজস্ব আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। রিজলি মনে করতেন প্রাদেশিক রাজনীতিতে বাঙালী হিন্দুদের আধিপত্য হ্রাসের প্রয়ােজন আছে এবং তা একমাত্র বাংলাকে ভাগ করলেই সম্ভব হবে। ঐক্যবদ্ধ বাংলা একটি শক্তি হিসাবে কাজ করবে। কিন্তু বাংলাকে ভাগ করলে তিনি স্পষ্টই উল্লেখ করেছেন যে বাংলা ভাগের পরিকল্পনার একটি উদ্দেশ্য বৃটিশ বিরােধী আন্দোলনকে দুর্বল করে দেওয়া।

অবশ্যই রিজলি পেপারের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। আপত্তি এসেছিল প্রধানতঃ বাঙালীদের থেকেই। কংগ্রেস রিজলি পেপারের কড়া সমালােচনা করে এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্য বিনষ্ট হবে বলে মনে করে।

কার্জন এই উত্তেজনার সময়কে বেছে নিয়েছিলেন পূর্ববঙ্গ সফরের জন্যে। মুসলমান প্রধান পূর্ববঙ্গে সমর্থন লাভ না করলে বঙ্গভঙ্গ বাস্তবায়িত করা যাবে না। ময়মনসিংহ সফরের সময় হঠাৎ রিজলি পত্রের পরিকল্পনার আরও ব্যাপক রূপ দেন। মালদাসহ রাজশাহী বিভাগ (দার্জিলিং বাদে) ও ঢাকার বাকি জেলাকে রিজলি পত্রে বর্ণিত জেলাগুলির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন। ঢাকার একটি সমাবেশে কার্জন মুসলমানদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য আলাদা প্রদেশ গঠন করাই রিজলি পত্রের লক্ষ্য বলে ঘােষণা করেছিলেন।

১৯০৪ সালে কংগ্রেস রিজলি পত্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ পুনরায় জানিয়েছিল। এর উত্তরে কার্জন বলে যে বাঙালী ভাষীদের বিভক্ত করার যে কোন পরিকল্পনাই কংগ্রেস বিরােধিতা করবে কারণ কলকাতা কংগ্রেসের সকল ষড়যন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র এবং কলকাতা গুরুত্ব হারালে কংগ্রেসের মধ্যে আধিপত্যস্থাপনকারী উকিলশ্রেণী তাদের ক্ষমতা হারাবে। কার্জনের এই বক্তব্য থেকে বঙ্গভঙ্গের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রাধান্য সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ থাকে না। বঙ্গভঙ্গের শেষ প্রস্তাবে বাংলা হারিয়েছিল ১৫টি জেলা। ১৯শে জুলাই বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা ঘােষিত হয়েছিল, ১৬ই অক্টোবর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা কার্যকরী করা হয়। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বাংলা। রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে পালন করা হয় রাখী উৎসব।

বঙ্গভঙ্গ রদ: বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সূচনা হয়, যা স্বদেশী আন্দোলন নামেও পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ রদ করতে মর্মস্পর্শী গান “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” লেখেন। বিভিন্ন আন্দোলনের ফলে ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ বঙ্গভঙ্গ রদ করেন। ভাষাতাত্ত্বিক বিভক্তির মাধ্যমে হিন্দি, ওড়িয়া এবং অসমীয়া অঞ্চলগুলো বঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়। ১৯১১ সালে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লী স্থানান্তর করা হয়।

বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনার পিছনে কার্জনের ভূমিকা: ১৮৯৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর লর্ড কার্জন বড়লাটের দায়িত্বভার নিয়ে ভারতবর্ষে আসেন। বিদেশনীতির ক্ষেত্রে তার দৃঢ় সাম্রাজ্যবাদী মনােভাব বৃটিশ সরকারকে প্রায়ই সমস্যায় ফেলত। প্রথম থেকেই কার্জন বৃটিশ আমলাদের হিন্দু এবং কংগ্রেস বিরোধিতার মানসিকতার ভাগীদার ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের উচ্চপদগুলি একমাত্র ইউরােপীয়দের জন্যই সংরক্ষিত হওয়া উচিত। সঞ্জীবনী পত্রিকা থেকে জানা যায়, কার্জনের আমলে সরকারী উচ্চপদগুলিতে ইউরােপীয়দের সংখ্যা বেড়েছিল। গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা এবং ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি সম্বন্ধে কার্জনের অসহিষ্ণুতা বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য।

১৯০০ সালের ১৮ই নভেম্বর ভারত সচিব হ্যামিলটনকে তিনি জানান যে কংগ্রেস ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং আমার অন্যতম উচ্চাকাঙ্খা হল এর শান্তিপূর্ণ বিলুপ্তিতে সহায়তা করা। কংগ্রেসকে অপ্রয়ােজনীয়, রাজদ্রোহী প্রমাণ করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। একটি সংখ্যালঘুদের প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসকে ভারতীয় জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসাবে মানতে তিনি রাজি ছিলেন না। স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব বা গণতন্ত্রের আর্দশ ভারতীয়দের জন্যে নয় বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। কার্জনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল প্রতিক্রিয়াশীল। কার্জন ছিলেন যথার্থভাবেই একজন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারি যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে বৃটিশ শাসনকে শক্তিশালী, নির্দিষ্টমুখী এবং স্থায়ী করা। বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়ে ভারতীয় জাতীয় সংহতিকে বিনষ্ট করে বৃটিশ শাসনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার মধ্যেও তার সাম্রাজ্যবাদী মনােভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।

ঔপনিবেশিক শাসকদের মনে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত প্রশাসনিক সমস্যা প্রাধান্য পেলেও, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কারণই প্রধান হয়ে দাড়িয়েছিল। কার্জন পূর্বেকার বৃটিশ আমলাদের প্রভাব খারিজ করে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে যে ভাষাগত ঐক্যের ভিত্তিতে বাংলাকে ভাগ করলে বাঙালী জাতীয়তাবাদ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ১৯০৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী লর্ড মিন্টোর একটি স্মারকলিপি থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বাঙালী ভদ্রলােক, জমিদার, মহাজন এবং পেশাদারী শ্রেণী যাদের অধিকাংশই ব্রাহ্মণ, কায়স্থ এবং বৈদ্য, তাদের আধিপত্য বিনষ্ট হবে বাংলা ভাগের ফলে। শিক্ষা এবং প্রশাসনের সমস্ত পদগুলি তাদের দখলে ছিল যা তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে সাহায্য করেছিল। সুতরাং ভদ্রলােকদের বিপরীতে অন্যান্য সম্প্রদায় বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করতে হবে।