তেভাগা আন্দোলন: বাংলার নিপীড়িত কৃষকের অধিকার

অবিভক্ত বাংলায় ষাট লক্ষাধিক ভাগচাষী তাদের উৎপাদিত ফসলের তিনভাগের দুই ভাগ আদায় করার জন্য জমিদার-জোতদারদের বিরুদ্ধে যে কৃষক সংগ্রাম সংগঠিত করেছিল সেই ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন প্রথম পর্যায়ে ১৯৪৬ এর সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১৯৪৭ এর মার্চ মাস – কমবেশি ছয় মাস (ফসল তােলার মরসুম) ধরে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলার ১৯টি জেলায়। একমাত্র বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ জেলা বাদ দিয়ে অন্যান্য জেলাগুলিতে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৪৮-১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে তেভাগার দাবিতে কৃষক সংগ্রাম শুরু হয়েছিল বটে কিন্তু তা প্রধানত সীমাবদ্ধ ছিল পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার দক্ষিণ অংশে, বিশেষকরে কাকদ্বীপ-সুন্দরবন অঞ্চলে এবং চরিত্রও তার সম্পূর্ণতঃ তেভাগাকেন্দ্ৰিক ছিল না। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভা ও কমিউনিস্ট পার্টিই ছিল তেভাগা আন্দোলনের প্রধান চালিকা শক্তি।

তেভাগা আন্দোলনের কারণ ও পটভূমি: কৃষকদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করা, শ্রেণী-রাজনীতিতে তাদের সামিল করার কাজ বাংলার মাটিতে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভা ও কমিউনিস্ট পার্টিই শুরু করেছিল। স্থানীয় ভিত্তিতে আঞ্চলিক ইস্যুতে হলেও কৃষক সভার নেতৃত্বেই সংগঠিত হয়েছিল ত্রিশের দশকে বেশ কয়েকটি আন্দোলন। এরমধ্যে ১৯৩৭-১৯৩৮ সালে ২৪ পরগণার ‘খাস জমি আন্দোলন’ এবং বর্ধমান জেলার ‘ক্যানাল কর বিরােধী আন্দোলন’ অন্যতম। ১৯৩৯ সালে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রাদেশিক কৃষক সভার পক্ষ থেকে একটি ইস্তাহারে কৃষক জীবনের বিভিন্ন অবস্থা আলােচনা করে তাদের অভাব অভিযােগগুলি দুর করার জন্যে সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তােলার নির্দেশ দেওয়া হয়। যে দাবিগুলির ভিত্তিতে আন্দোলন সংগঠিত করতে কৃষকদের বলা হয় তা হলাে: ১. খাজনার হার অর্ধেক কমানাে, ২. নদীনালা সংস্কার করা, ৩. পাটের নিম্নতম দর যুদ্ধের সময় মান প্রতি ২০ টাকা ও অন্য সময়ে ১০ টাকা ধার্য করা, ৪. ধানের নিম্নতম দর ধার্য করা, ৫. খেতমজুরদের নিম্নতম মজুরীর হার বেধে দেওয়া, ৬. ভাগচাষীদের (বর্গাদার) জন্যে জমিতে দখলীসত্ব দেওয়া ও ফসলের কমপক্ষে দশ আনা ভাগের অধিকার স্বীকার করা, ৭. জমিদারের আবােয়াব বেআইনী করা, ৮. ঋণের সুদ মকুব করা, ৯. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার সাব্যস্ত করা ইত্যাদি।

১৯৩৯-১৯৪০ সালে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে, বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, রংপুর, দিনাজপুরে ‘হাটতোলা-বিরােধী আন্দোলন’ এবং বিভিন্ন দাবিতে আধিয়ার (ফসলের অর্ধেক ভাগ পাওয়া ভাগচাষী বা বর্গাদার) আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। পুলিশী হামলা ও জোতদারের আক্রমণের ফলে আধিয়ারদের আন্দোলন সফল না হলেও ঐ একই সময়ে গড়ে ওঠা ময়মনসিংহ জেলার হাজং এলাকায় ‘টঙ্ক আন্দোলন’ অনেক বেশি সফল হয়। সেখানে জমিতে কৃষকদের সত্ব ও টাকায় খাজনা দেবার অধিকার ইত্যাদি দাবি আংশিকভাবে স্বীকৃত হয়। বস্তুতপক্ষে ১৯৪৬-১৯৪৭ এর তেভাগা সংগ্রামের একটি অনুশীলন ১৯৩৯-১৯৪০ এর আধিয়ার আন্দোলনের মাধ্যমেই ঘটেছিল।

১৯২৯-১৯৩০ সালের অর্থনৈতিক বাংলার কৃষকদের অবস্থা আরাে শােচনীয় করে তােলে। ড: বিনয়ভূষণ চৌধুরি তার এক গবেষণা নিবন্ধে (দি প্রসেস অব ডিপেন্টোইজেশন ইন বেঙ্গল অ্যান্ড বিহার: (১৮৮৫-১৯৪৭) এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলােচনা করেছেন। এসব ক্ষেত্রে ১৯২৮ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত বাংলার কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক জমি হস্তান্তরের ফলে কৃষকদের ভূমিহীন ও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে ১৯৪০ এর ‘ল্যান্ড রেভেনিউ কমিশন (ফ্লাউড কমিশন)’ এর প্রাপ্ত তথ্য উদ্ধৃত করে। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত রিপাের্ট ‘অব দি কংগ্রেস অ্যাগ্রেরিয়ান রিফর্মস কমিটি’-র প্রতিবেদনে বলা হয় যে, গত মন্দার এক সুবিশাল অংশের জমি কৃষকদের হাত থেকে চলে গেছে জনসমষ্টির অ-কৃষক অংশের হাতে। বাংলার দুটি প্রধান ফসল (একটি ভোজ্য, অপরটি বাণিজ্যিক) ধান ও পাটের মূল্য অথনৈতিক মহামন্দার সময় থেকে দ্রুত হারে হ্রাস পেতে থাকে।

ডঃ পার্থ চ্যাটার্জীর মতে ঋণগ্রস্ত কৃষক নগদ অর্থের জন্য তার জমি বিক্রয় করতে বাধ্য হতাে। ঋণের সুদ মেটানাে এবং জমির খাজনা প্রদানের জন্য কৃষকের প্রয়ােজন ছিল নগদ অর্থের। এর ফলে গ্রামের সুদখাের মহাজনেরা ফুলেফেপে উঠতাে। তাদের আর জমিলােলুপ জোতদারদের গ্রাসে কৃষকদের হাজার হাজার একক জমি চলে যেতে থাকে। রায়ত-প্রজা ক্রমে ভাগচাষী বা বর্গাদার এবং ভাগচাষী ক্রমশ ভূমিহীন ক্ষেতমজুরে পরিণত হয়। দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৮ সালের ‘বেঙ্গল টেনান্সি অ্যাক্ট’ ১৯৩২ সালের ‘মানি লেন্ডার্স বিল’ এবং ১৯৩০ সালের ‘বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেবটস্ বিল’ বাংলার কৃষকদের কার্যতঃ কোনাে সহায়তাই দেয়নি — তাদের অবস্থা ক্রমাগয়ে শােচনীয় হয়ে উঠছিল। যদিও বাংলার আইনসভায় জমিদার ও জোতদারদের স্বার্থরক্ষাকারী হিন্দু সদস্যরা এই বিলগুলির তীর বিরােধিতা করেন। কংগ্রেসের ভূমিকাও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ছিল না।

১৯৪০ সালে ভূমি রাজস্ব কমিশন (ফ্লাউড কমিশন) ১৯৩৯-৪০ এর সার্ভে অনুযায়ী দেখিয়েছেন যে, মালিক চাষীর কাছ থেকে হস্তান্তরিত জমির একটি ক্ষুদ্র অংশই প্রকৃত ক্রেতা চাষ করতো, অধিকাংশই দিয়ে দেওয়া হতে ভাগচাষে। মজুররা কম জমিই চাষ করত। জোতদারদের কাছে বর্গাদারী ব্যবস্থাই এখনও পর্যন্ত আদর্শ স্থানীয় ছিল। কারণ এক্ষেত্রে চাষের একটি পয়সাও ব্যয়ভার হিসেবে বহন না করে ঘরে বসে তারা অর্ধেক ফসল (আধিয়ার প্রথা অনুযায়ী) ভােগ করতে পারতাে। এর উপর ছিল ঋণগ্রস্ত চাষীর কাছ থেকে সুদ ও নানারূপে আবওয়াব (বাজে আদায়) এর মাধ্যমে বাকি ফসলের সিংহভাগ গ্রাস করার ব্যবস্থা। ফ্লাউড কমিশন তার রিপাের্টে লিখেছেন: “বর্গাদারদের দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের অন্যতম উদ্বেগজনক লক্ষণ এবং বংশানুক্রনিক রায়তরা কী পরিমাণে তাদের মর্যাদা হারাচ্ছে এবং নিম্নতর জীবনমানে পতিত হচ্ছে, এটা তারই একটা ইঙ্গিত”।

ফ্লাউড কমিশনের রিপাের্ট (১৯৪০) অনুযায়ী বাংলার কৃষি নির্ভর পরিবারের মােট সংখ্যা ৭৫ লক্ষ। এর মধ্যে ১ লক্ষ জোতদার-জমিদার। বাংলার সমস্ত জেলায় মােট ১৯, ৫৯৯ টি পরিবারের মধ্যে রানডম সার্ভে করে ফ্লাউড কমিশন জমির পরিমাণ সংক্রান্ত যে তথ্য পেশ করেছিলেন (১৯৪০) তা মােটামুটিভাবে নির্ভরযােগ্য। এতে দেখানাে হয়েছে, শতকরা কত পরিবারের কতটা জমি আছে: ০-২ একর – ৪৬.০%, ২-৩ একর – ১১.২%, ৩-৪ একর – ৯.৪%, ৪-৫ একর – ৮.০%, ৫-১০ একর – ১৭.০%, ১০ একরের উর্ধ্বে – ৮.৪%।

এর মধ্যে একেবারেই বা প্রায় জমি নেই এমন ভূমিহীন কৃষি মজুর অন্তত পক্ষে ৩০ শতাংশ, যারা ২ একরের মালিকানাপ্রাপ্ত, ৪৬ শতাংশ এর মধ্যেই পড়ে। অর্থাৎ, প্রকৃতঅর্থে মাত্র ১৬ শতাংশের ২ এক পর্যন্ত জমি রয়েছে। অপরদিকে, কোন কোন জোতদার কয়েকটি জেলায় ৫ হাজার একর পর্যন্ত জমির মালিক ছিল। এই রিপাের্ট অনুযায়ী ৫ একরের কম জমি আছে বা একেবারে নেই এমন কৃষকের সংখ্যা ১৯৪০ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। তার উপর আসে মড়ার উপর খাড়ার ঘা রূপে পঞ্চাশের মন্বন্তর ও মড়ক (১৯৪৩)। বলা দরকার যে অঞ্চলগুলি বিশেষভাবে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল সে জায়গায় কৃষক জনসমষ্টির প্রায় ৫ শতাংশই তাদের জমি পুরোপুরি বিক্রি করে দেন এবং ১১ শতাংশ করেন আংশিকভাবে। এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, ক্রেতারা ছিল জোতদার ও সম্পন্ন চাষী তার বেশিরভাগ জমিই দিয়ে দেয় ভাগচাষে। দুর্ভিক্ষের সময়ে জোতদাররা পরিণত হয় একাধারে বণিক আর মজুতদারে এবং তারা অত্যন্ত ধনী হয়ে ওঠে। পঞ্চাশের মন্বন্তরের তিন বছর পরে ১৯৪৬ সালে বর্গাদারদের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ফেটে পড়ে তেভাগা আন্দোলনের মাধ্যমে। ১৯৪৭ এর ৪ জানুয়ারি চিরির বনদোরে (দিনাজপুর) ক্ষেতমজুর সমিরুদ্দীন শেখ ও সাঁওতাল আধিয়ার শিবরাম মাঝির পুলিশের গুলিতে নিহত হবার পর থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত আব্দুল্লাহ রসুল সাহেবের হিসাবমতাে ৭৩ জন, নারী ও পুরুষ তেভাগা আন্দোলনের শহীদ হয়েছিলেন। তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অজিত বসু, বিষ্ণু চট্টোপাধ্যায়, ইলা মিত্র, কংসারী হালদার, নুর জালাল, কৃষ্ণবিনোদ রায়, ভূপাল পান্ডার নাম উল্লেখযোগ্য।

তেভাগা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা: তেভাগা কৃষক আন্দোলনের সবথেকে উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল শ্রমজীবী নারী চেতনার জাগরণ এবং নারীশক্তির মুক্তি। তেভাগা আন্দোলনে নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র। তিনি রাজশাহীর নবাবগঞ্জ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বাংলা তথা ভারতের গণ আন্দোলনের ইতিহাসে নারীদের বিশেষতঃ শ্রমজীবী নারীসমাজের এত ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ অন্য কোন গণ আন্দোলনে ঘটেনি। গ্রাম বাংলার কৃষক রমণী হাজার বছরের অপমান, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অবিচার ও কালিমার পঙ্ক থেকে এই আন্দোলনে উঠে এলাে মহাশক্তিময়ী রূপ নিয়ে। তেভাগা কৃষক আন্দোলনে এদের তুলনাহীন সাহসিকতা, দীপ্ত আদর্শবােধ, সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিরােধের ক্ষমতা ও উন্নততর সাংস্কৃতিক চেতনা নতুন দীপ্তিতে ইতিহাসে ভাস্বর হয়ে আছে। সাহিত্যিক সৌরি ঘটক লিখেছেন, “শুধু যে তারা পুলিশ আর সৈন্যদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ করল, বন্দুক কেড়ে নিল, লাঠি হাতে ধান পাহারা দিল, নির্ভয়ে বন্দুকের সামনে বুক পেতে প্রাণ দিল তাই নয়, তাদের সমগ্র অস্তিত্ব সমগ্ন চেতনায় ঘটে গেল এক নিঃশব্দ বিপ্লব।”

তেভাগা আন্দোলন ও আদিবাসী সমাজ: তেভাগা কৃষক আন্দোলনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আদিবাসী ও উপজাতি সমাজভুক্ত কৃষক বা ভাগচাষীর ব্যাপক অংশগ্রহণ। প্রাক স্বাধীনতা যুগের প্রথম পর্যায়ে বা স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দ্বিতীয় পর্যায়ে উভয়ক্ষেত্রেই আদিবাসী, জনজাতি এবং উপজাতীয় অংশভুক্ত ভাগচাষী বা ক্ষেতমজুররা অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে তেভাগা কৃষক সংগ্রামের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছিলেন। কোথাও কোথাও এই অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফুর্ত, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অংশগ্রহণ ছিল সংগঠিত উদ্যোগের ফল। দুটি পর্যায়ের কৃষক সংগ্রামেই দেখা যায় যে মূলত বাংলার উত্তরাঞ্চলের এবং ময়মনসিংহ বা পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী ও উপজাতি জনগােষ্ঠীর কৃষকরা তুলনামূলকভাবে অধিক সংখ্যায় তেভাগা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখনীয় যে সর্বত্রই জোতদার ও পুলিশ বাহিনীর অত্যাচার ও সশস্ত্র আক্রমণের সম্মুখে আদিবাসী রমণীবাহিনী সবথেকে জঙ্গী ও আগ্রহী ভূমিকা গ্রহণ করত। এর পরিচয় মেলে দিনাজপুরের, রংপুরের, যশােহর ও রাজশাহীসহ ময়মনসিংহের তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাসে। আদিবাসী কৃষকদের, ভাগচাষী বা ক্ষেতমজুরদের মধ্যে সাঁওতাল জনজাতি ছিল সর্বাধিক এবং তেভাগা কৃষক সংগ্রামে এদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান দেখা যায়। দিনাজপুরে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল এক লক্ষ আটত্রিশ হাজারের কিছু বেশি। এদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন সাঁওতাল। জলপাইগুড়িতে যেমন আদিবাসীদের সঙ্গে রাজবংশী ও পাহাড়িয়া মানুষদের সম্মিলিত সংগ্রাম দেখা যায়। দিনাজপুর জেলায় সেক্ষেত্রে সাঁওতাল জনজাতির একক ভূমিকাই ছিল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

তেভাগা আন্দোলনের ফলাফল: তেভাগা আন্দোলনের ফলে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিলুপ্তি ঘটে এবং কৃষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়, মুক্তি ঘটে শত শত বছরের শােষণ ও অন্যায়ের হাত থেকে। নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের তেভাগা আন্দোলন পরবর্তীতে মেহনতি মানুষের উপর অন্যায়, অত্যাচার, শােষণ, নির্যাতন থেকে অনেকাংশে মুক্তি দেয়

RELATED POSTS